সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪৪ পি.এম
গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) সোমবার (২৬ অক্টোবর) তার আত্মপ্রকাশের পাঁচ বছর পূর্ণ করেছে। এই উপলক্ষে দলটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ জানিয়েছেন, ২৬ অক্টোবর সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ অক্টোবর ঢাকায় একটি র্যালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণঅধিকার পরিষদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর। দলের মূল ভিত্তি ছিল ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলন, যা নেতৃত্বদানকারীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে গণঅধিকার পরিষদ।
গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ—এই চারটি মূলনীতি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় দলটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, যা দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে। গণঅধিকার পরিষদের স্লোগান হলো, ‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার’।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণঅধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতীকে নিবন্ধন লাভ করে। দলটি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। ৯৩টি সংসদীয় আসনে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে দলের সভাপতি নুরুল হক নুর জয়লাভ করেন। নুরুল হক নুর বর্তমানে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ নারী অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার পরিষদ।
দল গঠনের পূর্বে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় ছিল। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ, কৃষকদের ন্যায্য দাবি আদায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং নরেন্দ্র মোদীর আগমনবিরোধী আন্দোলন ছিল তাদের অন্যতম কার্যক্রম।
মোদীর আগমনবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ৫৪ জন নেতাকর্মী কারাবরণ করেন। ২০২৩ সালে আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীর পালনের সময় ছাত্রলীগ হামলা চালায় এবং সেখান থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদের ১৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।
বিগত স্বৈরাচারের আমলে বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ সক্রিয় ছিল। সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছিল গণঅধিকার পরিষদ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের।
গণঅধিকার পরিষদের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রথমবারের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং ছাত্রদের আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। ২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণঅধিকার পরিষদ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গসংগঠনের ১১ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং পাঁচশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রেক্ষাপট ছিল ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন। কোটা সংস্কার আন্দোলন-২০১৮ থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন-২০২৪ এবং একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রামী সারথী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল উদযাপিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ট্যাংকার রিফ মিয়ানমারের জলসীমায় প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার ব্যারেল জ্বালানি নিয়ে পৌঁছায়। যদিও কাগজপত্রে এই চালানটিকে দক্ষিণ আফ্রিকার ডিজেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল, প্রকৃতপক্ষে জাহাজটিতে ছিল ইরান থেকে আনা জেট জ্বালানি।
মিয়ানমারভিত্তিক জ্বালানি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ডায়নামিক ওয়েভ থাইল্যান্ডের তাওয়ান-অয়েল ট্রেডিংয়ের সঙ্গে একটি বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন করে। এই চুক্তির মূল্য ছিল এক কোটি ৫৮ লাখ ডলার, যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে একই পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে জাতিসংঘ ও জ্বালানিবিষয়ক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার উপাত্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে মিয়ানমারে এ ধরনের কোনো জ্বালানি বাণিজ্য হয়নি।
রয়টার্সের হাতে আসা চুক্তিপত্র, মিয়ানমারে জ্বালানি সরবরাহের নথি, স্যাটেলাইট চিত্র এবং জাহাজ চলাচল বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান সিনম্যাক্স ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের বন্দর আব্বাস থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ট্যাংকারটির যাত্রাপথ অনুসরণ করা হয়েছিল। মিয়ানমারের জেট জ্বালানি আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে এই ছদ্মবেশের আশ্রয় নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে দেশটির সামরিক বাহিনীর বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে প্রাণঘাতী বিমান হামলার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন জেট জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
ইরানি জেট জ্বালানি কেনার তথ্য গোপন করার পদ্ধতি এবং এ লেনদেনে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পর্কে রয়টার্সের অনুসন্ধানে প্রথমবারের মতো বিস্তারিত উঠে এসেছে। জ্বালানির চালানটি মিয়ানমারে পৌঁছানোর কয়েক দিন আগে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডায়নামিক ওয়েভের গ্রাহককে জানায়, আমদানিসংক্রান্ত নথিতে জেট জ্বালানির পরিবর্তে ডিজেল উল্লেখ করা হবে। গত ৩০ নভেম্বরের ওই চিঠির একটি অনুলিপি রয়টার্স দেখেছে।
অ্যাকটিভিস্ট সংগঠন জাস্টিস ফর মিয়ানমার রয়টার্সকে নথিটি সরবরাহ করে। তবে চিঠিতে জ্বালানির প্রকৃত ধরন গোপন করে ডিজেল হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করা হয়নি। চিঠিতে ডায়নামিক ওয়েভ ও এর গ্রাহক ন্যাশনাল এনার্জি প্রাইম এভিয়েশন সার্ভিসেস কোম্পানিকে চালানের মূল্য তাইওয়ানকে পরিশোধের অনুমতিও দেওয়া হয়।
গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান জেট জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল ইরান। এই বাণিজ্যের বড় অংশ পরিচালিত হয় রিফ—যার নতুন নাম ম্যারিস—এবং নোবল নামের দুটি ট্যাংকারের মাধ্যমে।
রয়টার্সের অনুসন্ধানে উন্মোচিত এই কৌশল ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞার ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা—দুই দিকই তুলে ধরেছে। জ্বালানি বাণিজ্য গোপন করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর নেওয়া পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, নিষেধাজ্ঞার চাপ রয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ইরানি জেট জ্বালানি মিয়ানমারে পৌঁছাচ্ছে। এর ফলে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচ্ছে এবং মিয়ানমার বাণিজ্যিক বিমান চলাচল ও বিমান হামলা পরিচালনার জন্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে।
ইরান থেকে মিয়ানমারে জেট জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি। ডায়নামিক ওয়েভের জ্বালানি কেনার চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, অর্থ পরিশোধ করতে হবে তাওয়ানের থাইল্যান্ডের সিয়াম কমার্শিয়াল ব্যাংকের (এসসিবি) একটি হিসাবে। ব্যাংকটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে পুরোনো ব্যাংক।
২০২৪ সালে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের এক প্রতিবেদনে তাইওয়ানকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জেট জ্বালানি সরবরাহকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কোনো মন্তব্য করেনি। ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জন্য সরঞ্জাম ও অন্যান্য সামরিক উপকরণ সংগ্রহে এসসিবিকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাকারী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংকটি জানিয়েছিল, তারা অর্থ পাচারবিরোধী আইন মেনে চলে এবং মিয়ানমার-সংশ্লিষ্ট তাদের লেনদেন বৈধ ও অস্ত্র বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পর্কহীন। তাইওয়ানের ব্যবসার প্রকৃতি সম্পর্কে এসসিবি অবগত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি রয়টার্স। এ বিষয়ে ব্যাংকটির কাছে বারবার জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি।
মে মাসেও একই কৌশলে জ্বালানি আমদানি
ডিসেম্বরের চালানটিই প্রথম নয়, এর আগেও ডিজেলের আড়ালে মিয়ানমারে জেট জ্বালানি পৌঁছানোর ঘটনা ঘটেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ডায়নামিক ওয়েভ তাইওয়ানের কাছ থেকে দুই লাখ দুই হাজার ব্যারেল দক্ষিণ আফ্রিকান ডিজেল কেনার চুক্তি করে। জান্তানিয়ন্ত্রিত সার্ভার থেকে পাওয়া দ্বিতীয় চুক্তিপত্রে বলা হয়, এক মাসের মধ্যে জ্বালানিটি ইয়াঙ্গুনে পৌঁছাতে হবে। এর জন্য ডায়নামিক ওয়েভকে তাইওয়ানের এসসিবি হিসাবেই দুই কোটি ৬০ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হতো।
তবে ওই চুক্তির চালানসংক্রান্ত ইনভয়েসে কয়েকটি অসংগতি পাওয়া যায়, যা থেকে জ্বালানিটি প্রকৃতপক্ষে জেট জ্বালানি ছিল বলে ইঙ্গিত মেলে। ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির জেট জ্বালানিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জোশুয়া হেইনের বিশ্লেষণ এবং জ্বালানি খাতের তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্ল্যাটসের উপাত্ত অনুযায়ী, নথিতে উল্লেখ করা জ্বালানির ঘনত্ব দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিক্রি হওয়া ডিজেলের পরিবর্তে জেট জ্বালানির বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মেলে।
এছাড়া জ্বালানিটির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের একটি মানদণ্ডমূলক দামের চেয়ে ৫০ শতাংশেরও বেশি ছিল। জ্বালানি সরবরাহের রেকর্ড অনুযায়ী, নোবল নামের ট্যাংকারটি ১৭ জুন ইয়াঙ্গুন বন্দরে পৌঁছায়। জাহাজটিতে ডায়নামিক ওয়েভের জন্য নির্ধারিত প্রায় দুই লাখ ব্যারেল জেট জ্বালানি ছিল।
সিনম্যাক্সের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রিফ-এর মতো নোবল ট্যাংকারটিও ইরানের বন্দর আব্বাস থেকে জ্বালানি বোঝাই করেছিল। মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানীর দিকে যাত্রার সময় জাহাজটি তার অবস্থানসংক্রান্ত সংকেত এমনভাবে পাঠায়, যাতে গন্তব্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর বলে মনে হয়।
রিফ ও নোবল ট্যাংকারের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্ত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো জবাব দেয়নি। চলতি বছরেও ইরান থেকে মিয়ানমারে জেট জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। গত অক্টোবরে সিনম্যাক্সের বিশ্লেষণ ও স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছিল রয়টার্স।
সূত্র: রয়টার্স
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরে মাছবাহী পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মা ও তার চার বছরের ছেলের মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনায় মোটরসাইকেলচালকও আহত হয়েছেন।
রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে যশোর-রাজগঞ্জ সড়কের তালতলা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মৌসুমি (৩২) এবং তার ছেলে আবদুর রহমান (৪)। তাদের বাড়ি যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হানুয়ার গ্রামে। মৌসুমির স্বামীর নাম ওমর ফারুক।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে শিশুসন্তানকে নিয়ে যশোরে এসেছিলেন ওই নারী। সন্ধ্যায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তালতলা এলাকায় পেছন থেকে একটি মাছবাহী পিকআপ মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলচালকসহ তিনজনই ছিটকে পড়ে আহত হন।
স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মা ও ছেলের মৃত্যু ঘটে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজিব রায়চৌধুরী জানান, মা ও ছেলের মাথায় আঘাত ছিল। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের নগরকান্দার রাজু মাতুব্বর (২৮) রাশিয়ায় ভালো চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রাজু নগরকান্দা উপজেলার মাঝিকান্দা গ্রামের নান্নু মাতুব্বরের সন্তান। গত ৮ মে রাশিয়ায় যাওয়ার পর থেকে তার পরিবারের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে। আড়াই বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন স্ত্রী শারমিন আক্তার। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাবা নান্নু মাতুব্বর ও মা রাজিয়া বেগম।
পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী কফাইবালিয়া গ্রামের প্রিন্স মাতুব্বর ও তার ছোট ভাই রানার মাধ্যমে সাড়ে ১৪ লাখ টাকায় রাজুকে রাশিয়ায় পাঠানোর চুক্তি সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছিল। বাকি ১০ লাখ টাকা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দেয়ার কথা ছিল। তবে সেখানে গিয়ে রাজু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি পাননি।
পরিবারের দাবি, রাজুকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রিন্স ও রানাকে দায়ী করছেন স্বজনেরা। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতুল নামের এক যুবকের ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিওতে রাজুর মৃত্যুর দাবি করা হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজুর পরিবারের সদস্যরা রাতুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রাজুর ছোট ভাই রাজন মাতুব্বর জানান, রাতুলও তার ভাইয়ের মৃত্যুর কথা বলেছেন। তবে কখন, কোথায় ও কীভাবে রাজুর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি।
রাজুর বাবা নান্নু মাতুব্বর জানান, ছেলেকে ভালো চাকরির আশায় বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। এখন তার মৃত্যুর খবর শুনছেন, কিন্তু প্রকৃত ঘটনা জানতে পারছেন না। তিনি ছেলের সন্ধান ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
রাজুর স্ত্রী শারমিন আক্তার দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন এই নারী স্বামীর প্রকৃত অবস্থা জানতে চান। রাজু জীবিত থাকলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার এবং মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
তবে অভিযুক্ত প্রিন্স মাতুব্বরের ছোট ভাই রানা পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, রাশিয়ায় যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে রাজুকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। রাজু নিজেই রাশিয়ায় অবস্থানরত প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে যান। তাকে প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রিন্স মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ জানিয়েছেন, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। রাজুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে রাজুর প্রকৃত অবস্থান ও মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হস্তক্ষেপ চেয়েছে পরিবার। তাদের দাবি, রাজু জীবিত থাকলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক। আর মৃত্যুর খবর সত্য হলে মরদেহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনেও নিশ্চিত হতে পারছেন না বাবা-মা। দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে স্বামীর ফেরার অপেক্ষায় স্ত্রী। রাজু বেঁচে আছেন, নাকি যুদ্ধক্ষেত্রেই শেষ হয়েছে তার জীবন, এখন সেই উত্তরই খুঁজছে পুরো পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল বর্জ্যসহ ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্ধারিত ডাস্টবিনটি নিয়মিত পরিষ্কার না করার ফলে উপচে পড়ে চারদিকে ময়লা ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন পথচারী এবং হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা।
হাসপাতাল ভবনটির ঠিক উল্টো দিকে নার্সিং কোয়ার্টারের সামনে অবস্থিত নির্ধারিত ডাস্টবিনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না হওয়ার কারণে উপচে চারদিকে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়েছে। ডাস্টবিনটিতে মেডিকেল বর্জ্যের মতো ভয়াবহ বিষাক্ত বর্জ্য জমা হয়ে থাকায় এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির সীমানার ভেতরে নির্ধারিত ডাস্টবিনটিতে নিয়মিত পরিষ্কারের অভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে নানা রকমের ময়লা-আবর্জনা। ডাস্টবিন উপচে পড়া বর্জ্য কুকুর, বিড়াল ও কাকের মাধ্যমে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজন ও পথচারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সুস্থতার জন্য রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু এখানকার নোংরা পরিবেশ দেখে মনে হয়, সুস্থ মানুষও এখানে এলে অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরবে।"
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির ডাস্টবিনের জমানো বর্জ্য দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, এগুলো দীর্ঘদিন ধরে অপসারণ করা হয়নি। রোগী ও স্থানীয়দের মতে, ডাস্টবিন পরিষ্কারের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পৌর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে নতুন যোগদানকৃত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান বলেন, "পৌরসভার রুটিনমাফিক ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করার কথা। এক্ষেত্রে মেডিকেল বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পৌরসভাকে নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধ করা হয়।"
বিষয়টি নিয়ে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্রজ্যোতি বড়ালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং মেডিকেল বর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট পৌর ক্লিনারদের নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব তাঁদের হলেও জমানো বর্জ্য অপসারণ বা ডাম্পিংয়ের মূল দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। পৌরসভা থেকে ময়লার গাড়ি না আসায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ