প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) সোমবার (২৬ অক্টোবর) তার আত্মপ্রকাশের পাঁচ বছর পূর্ণ করেছে। এই উপলক্ষে দলটি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ জানিয়েছেন, ২৬ অক্টোবর সকালে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৩০ অক্টোবর ঢাকায় একটি র্যালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গণঅধিকার পরিষদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর। দলের মূল ভিত্তি ছিল ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলন, যা নেতৃত্বদানকারীদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে গণঅধিকার পরিষদ।
গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ—এই চারটি মূলনীতি নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় দলটি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়, যা দলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে। গণঅধিকার পরিষদের স্লোগান হলো, ‘জনতার অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার’।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণঅধিকার পরিষদ ট্রাক প্রতীকে নিবন্ধন লাভ করে। দলটি ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। ৯৩টি সংসদীয় আসনে ট্রাক প্রতীকে নির্বাচন করে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে দলের সভাপতি নুরুল হক নুর জয়লাভ করেন। নুরুল হক নুর বর্তমানে সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে সারা দেশে গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ নারী অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ প্রবাসী অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ শ্রমিক অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার পরিষদ।
দল গঠনের পূর্বে ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদ বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় ছিল। নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদ, কৃষকদের ন্যায্য দাবি আদায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ এবং নরেন্দ্র মোদীর আগমনবিরোধী আন্দোলন ছিল তাদের অন্যতম কার্যক্রম।
মোদীর আগমনবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদের ৫৪ জন নেতাকর্মী কারাবরণ করেন। ২০২৩ সালে আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীর পালনের সময় ছাত্রলীগ হামলা চালায় এবং সেখান থেকে ছাত্র অধিকার পরিষদের ১৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়।
বিগত স্বৈরাচারের আমলে বিভিন্ন যৌক্তিক দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ সক্রিয় ছিল। সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছিল গণঅধিকার পরিষদ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের।
গণঅধিকার পরিষদের ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রথমবারের মতো কর্মসূচি ঘোষণা করে এবং ছাত্রদের আন্দোলনে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। ২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণঅধিকার পরিষদ ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠন সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল। এই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণঅধিকার পরিষদের অঙ্গসংগঠনের ১১ জন নেতাকর্মী শহীদ হন এবং পাঁচশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল প্রেক্ষাপট ছিল ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন। কোটা সংস্কার আন্দোলন-২০১৮ থেকে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন-২০২৪ এবং একটি সফল গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রামী সারথী হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল উদযাপিত হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন