ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্ষমতার লোভে মোসাদের সঙ্গে আঁতাত করেছিলেন আহমাদিনেজাদ?


ক্ষমতার লোভে মোসাদের সঙ্গে আঁতাত করেছিলেন আহমাদিনেজাদ?

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একটি গোপন পরিকল্পনা সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল গত বেশ কয়েক বছর ধরে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে গোপনে লালন করে আসছিল, যাতে যুদ্ধের পরবর্তী সময়সমূহে তাকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তার ক্ষমতার সময় আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলবিরোধী কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন, তবে তার রাজনৈতিক আদর্শের পরিবর্তন এবং ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে দূরত্বের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছিল তেল আবিব।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মোসাদের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আহমাদিনেজাদকে বিদেশি বিভিন্ন সম্মেলনে গোপনে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। ইসরায়েল তার ভ্রমণের খরচ ও আবাসন বাবদ অর্থ সহায়তাও দিত। বুদাপেস্টে জলবায়ু সম্মেলনের আড়ালে মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: দক্ষিণ কোরিয়ায় ধর্মীয় নেতার ৩৩ বছরের কারাদণ্ড যৌন নিপীড়নের অভিযোগে

আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি ক্ষমতার লোভের কারণে ইসরায়েলের এই গোপন পরিকল্পনায় আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। কারণ, তিনি মনে করতেন বিদেশি সহায়তায় ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন মাধ্যমে তার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব।

ঘটনাটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মোড় নেয়। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের শুরুতে তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবনে একটি ইসরায়েলি বিমান হামলা ঘটেছিল। ওই হামলায় তার দেহরক্ষীদের ভবন এবং সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর কালো রঙের পিউজো গাড়িতে করে মোসাদ এজেন্টরা তাকে উদ্ধার করে একটি গোপন আস্তানায় স্থানান্তর করে। উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি নজরদারি থেকে মুক্ত করে একটি বিকল্প সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা। তবে উদ্ধার প্রক্রিয়া বিশৃঙ্খলা ও পরিস্থিতির কারণে আহমাদিনেজাদ এই পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, বর্তমানে আহমাদিনेजাদকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা গৃহবন্দি করে রেখেছে। গত সপ্তাহে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় তাকে জনসম্মুখে দেখা গেলেও ধারণা করা হচ্ছে, ইসরায়েলের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের বিষয়টি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

এই ব্যর্থ অভিযানটি ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েলের একটি বৃহৎ কৌশলের অংশ, যাতে ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে সশস্ত্র করা এবং ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আরও পড়ুন: মানবতাই আমাদের পরিচয়: সাঈদ আল নোমান এমপি

তবে এই বিষয়ে ইরান কিংবা ইসরায়েল কেউ আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেছারাবাদে গাঁজা সেবনের অপরাধে যুবকের দুই মাসের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:১৩ এম


নেছারাবাদে গাঁজা সেবনের অপরাধে যুবকের দুই মাসের কারাদণ্ড

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজা সেবনের অপরাধে মো. দ্বিপু (২৩) নামে এক যুবককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
 
সোমবার (১৩ জুলাই) রাত ১০টার দিকে উপজেলার অলংকারকাঠি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
 
অভিযানে মাদকদ্রব্য গাঁজা সেবনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মো. দ্বিপুকে তাৎক্ষণিকভাবে ২ (দুই) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
 
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নেছারাবাদ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহামুদ।
 
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহামুদ বলেন, "মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি বড় হুমকি। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।"
 
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদকের বিস্তার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমারে পাচারের আগেই ১৩০ বস্তা সার জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৪ এম


মিয়ানমারে পাচারের আগেই ১৩০ বস্তা সার জব্দ

মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মজুদ করা বিপুল পরিমাণ সরকারি সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং উপজেলা কৃষি বিভাগ।

কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্তে এই ঘটনার তত্ত্বাবধান করা হয়। সোমবার (১৩ জুলাই) গোপন তথ্যে ভিত্তিতে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বটতলী কবরস্থান মোড় এলাকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন, স্থানীয় ‘লম্বা কালো’ দোকানের পাশের একটি বাড়ি থেকে ১৩০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে যে, নাফনদ তীরের ওই বাড়িটিতে তিন ব্যক্তি মিয়ানমারে পাচারের জন্য সার মজুদ করেছিলেন। ৩ জন মজুদদার হলেন যথাক্রমে কামাল উদ্দিনের ছেলে মুফিজ উদ্দিন (৪৫), যার নিকট থেকে ৭২ বস্তা সার উদ্ধার হয়, দুদু মিয়ার ছেলে সাগর, যার কাছ থেকে ২১ বস্তা সার উদ্ধার হয়েছে, এবং নাজির উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ ইউনুস, যার কাছ থেকে ৩৭ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য ও তদন্ত অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত সারগুলো সীমান্ত পার করে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইনে পাচারের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মজুদে রাখা হয়েছিল। এই পাচার ও অবৈধ মজুদ চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন স্থানীয় গয়াল মারা গ্রামের আকবর আলীর ছেলে সোনা মিয়া এবং তার ভাই ইউনুস, আনজুমান পাড়ার আবদুল জব্বারের ছেলে নুর মোহাম্মদ, পশ্চিম পালংখালী গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে বাদশা মিয়া এবং পূর্ব ফারির বিল গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে সাগর।

অভিযানে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিষ সরকার, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মাহমুদ এবং বিজিবির সুবেদার তরিকুল ইসলামসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান শেষে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিষ সরকার জানান, ‘কৃষি উপকরণ সম্পূর্ণভাবে কৃষকদের কল্যাণের জন্য বরাদ্দ।

এগুলো কোনোভাবেই অবৈধভাবে মজুত করা বা সীমান্ত দিয়ে অন্য দেশে পাচারের সুযোগ নেই।’

জব্দকৃত সারগুলো বর্তমানে প্রশাসনের হেফাজতে রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাবদ্ধ মাঠে ডাকসু নেতাদের মাছ ছাড়ার প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:২৬ এম


বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাবদ্ধ মাঠে ডাকসু নেতাদের মাছ ছাড়ার প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা এবং সংস্কার কাজে প্রশাসনের অবহেলার প্রতিবাদে জলাবদ্ধ মাঠে দেশীয় মাছ অবমুক্ত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা।

সোমবার (১৩ জুলাই) এই প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।

ডাকসু নেতাদের অভিযোগ হলো, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে ২ কোটি টাকার অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতা ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অসহযোগিতার কারণে এখনো সেই সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। অর্থ বরাদ্দ থাকার পরও কাজ শুরু না হওয়ায় নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।

নেতৃবৃন্দ জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে পানি জমে থাকে এবং এটি নিষ্কাশন না হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে মাঠটি ব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়ে না।

এটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন নিয়মিতভাবে ব্যাহত করেছে।

কর্মসূচিতে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচনের পর আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উদ্যোগ ছিল কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার এবং মেয়েদের জন্য একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম স্থাপন। উভয় প্রকল্পের জন্যই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতা ও অসহযোগিতার কারণে কোনো প্রকল্পই বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

বিসিবি থেকে মাঠ সংস্কারের জন্য দুই কোটি টাকা আনার পরও সেই অর্থ ব্যবহার করে কাজ শুরু করা হয়নি। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে অবিলম্বে সংস্কার কাজ শুরু করা প্রয়োজন।’

এসময় অবিলম্বে মাঠের সংস্কারকাজ শুরু করার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার এবং শিক্ষার্থীবান্ধব উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে প্রশাসনিক অসহযোগিতা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রপ্রতিনিধিরা। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল এবং ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

প্রতীকী এই কর্মসূচিতে ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক খান জসীম, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, বিজ্ঞান সম্পাদক ইকবাল হায়দার, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের ও কার্যনির্বাহী সদস্য সর্ব মিত্র চাকমা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদের ভিপি আহসান হাবিব ইমরোজ, ফজলুল হক হল সংসদের জিএস ইমামুল হাসান, ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ হল সংসদের জিএস তাওকির হাসান, বিজয় একাত্তর হল সংসদের জিএস আশিক বিল্লাহ, এজিএস ইমরান হোসেনসহ বিভিন্ন হল সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের উত্থান, ইউরোপে নতুন বার্তা দিচ্ছে ফুটবল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৩০ এম


বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলারদের উত্থান, ইউরোপে নতুন বার্তা দিচ্ছে ফুটবল

২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াইয়ের জন্যই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই। বরং এই বিশ্বকাপ ইউরোপীয় সমাজে ইসলামের অবস্থান নিয়ে চলা দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত কয়েক দশকে ইউরোপের রাজনীতিতে ইসলাম একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতার মাঠে খেলা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স এবং তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস সেই পুরনো ধারণাগুলোর চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়েছে।

স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল যখন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গোল করে মাঠে সিজদা করে তার বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটান, তখন এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে বার্সেলোনায় খেলার সময় তার বিরুদ্ধে হওয়া বর্ণবাদী বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জবাবে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজের ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরেন।

এদিকে, ইয়ামাল একাই নন, জার্মানির আন্তোনিও রুডিগার এবং সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারির মতো ফুটবলাররাও তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস প্রকাশ করার কারণে রাজনৈতিক মহল এবং কিছু স্থানীয় সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এই ঘটনা মূলত ইউরোপের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়ে আসে, যা ইসলামকে কেবল ‘বিদেশি’ কিছু হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে।

তবে মাঠের বাইরের এই টানাপোড়েনের বিপরীত চিত্রও রয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলে মুসলিম খেলোয়াড়দের সংখ্যা বর্তমানে বাড়ছে, যাদের মধ্যে অনেকেই জন্মগতভাবে মুসলিম, আবার অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। নেদারল্যান্ডসের ক্ল্যারেন্স সিডর্ফ এবং ফ্রান্সের পল পগবার মতো তারকাদের উত্তরসূরি হিসেবে কেপ ভার্ডের মতো দেশের খেলোয়াড়রাও ইসলামে দীক্ষিত হয়ে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করছেন। জ্যামিরো মন্টেরো, লোগান কস্তা এবং স্টিভেন মোরেইরার মতো খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, সতীর্থদের সংস্পর্শে এসে ইসলামের শান্তির বাণী তাদের জীবনে কতটা পরিবর্তন এনেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ফুটবলাররা তাদের জাতীয় দলের জন্য খেলছেন এবং তাদের পেশাদারিত্ব ও জাতীয় ঐক্য ধর্মের চেয়ে বড় পরিচয় হিসেবে গড়ে উঠছে। কেপ ভার্ডের মুসলিম ও খ্রিস্টান খেলোয়াড়দের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার দৃশ্যটি প্রমাণ করে যে, বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষরা একই পতাকাতলে একত্রিত হতে সক্ষম।

বিশ্বকাপে ফুটবল মাঠগুলো এখন শুধুমাত্র গোলের আনন্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে না, বরং এটি বোঝাচ্ছে যে, আধুনিক ইউরোপীয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে ইসলাম। বিদ্বেষের বেড়াজাল ভেঙে মাঠে এসব ফুটবলাররা নতুন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইউরোপের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%