প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল মাঠের লড়াইয়ের জন্যই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই। বরং এই বিশ্বকাপ ইউরোপীয় সমাজে ইসলামের অবস্থান নিয়ে চলা দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত কয়েক দশকে ইউরোপের রাজনীতিতে ইসলাম একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তবে এবারের বিশ্বকাপে প্রতিযোগিতার মাঠে খেলা ফুটবলারদের পারফরম্যান্স এবং তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস সেই পুরনো ধারণাগুলোর চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়েছে।
স্পেনের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল যখন সৌদি আরবের বিরুদ্ধে গোল করে মাঠে সিজদা করে তার বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটান, তখন এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এর আগে বার্সেলোনায় খেলার সময় তার বিরুদ্ধে হওয়া বর্ণবাদী বা বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জবাবে তিনি গর্বের সঙ্গে নিজের ধর্মীয় পরিচয় তুলে ধরেন।
এদিকে, ইয়ামাল একাই নন, জার্মানির আন্তোনিও রুডিগার এবং সুইডেনের ইয়াসিন আয়ারির মতো ফুটবলাররাও তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস প্রকাশ করার কারণে রাজনৈতিক মহল এবং কিছু স্থানীয় সমালোচকদের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এই ঘটনা মূলত ইউরোপের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়ে আসে, যা ইসলামকে কেবল ‘বিদেশি’ কিছু হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করে।
তবে মাঠের বাইরের এই টানাপোড়েনের বিপরীত চিত্রও রয়েছে। ইউরোপীয় ফুটবলে মুসলিম খেলোয়াড়দের সংখ্যা বর্তমানে বাড়ছে, যাদের মধ্যে অনেকেই জন্মগতভাবে মুসলিম, আবার অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। নেদারল্যান্ডসের ক্ল্যারেন্স সিডর্ফ এবং ফ্রান্সের পল পগবার মতো তারকাদের উত্তরসূরি হিসেবে কেপ ভার্ডের মতো দেশের খেলোয়াড়রাও ইসলামে দীক্ষিত হয়ে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করছেন। জ্যামিরো মন্টেরো, লোগান কস্তা এবং স্টিভেন মোরেইরার মতো খেলোয়াড়রা জানিয়েছেন, সতীর্থদের সংস্পর্শে এসে ইসলামের শান্তির বাণী তাদের জীবনে কতটা পরিবর্তন এনেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ফুটবলাররা তাদের জাতীয় দলের জন্য খেলছেন এবং তাদের পেশাদারিত্ব ও জাতীয় ঐক্য ধর্মের চেয়ে বড় পরিচয় হিসেবে গড়ে উঠছে। কেপ ভার্ডের মুসলিম ও খ্রিস্টান খেলোয়াড়দের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার দৃশ্যটি প্রমাণ করে যে, বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষরা একই পতাকাতলে একত্রিত হতে সক্ষম।
বিশ্বকাপে ফুটবল মাঠগুলো এখন শুধুমাত্র গোলের আনন্দ ছড়িয়ে দিচ্ছে না, বরং এটি বোঝাচ্ছে যে, আধুনিক ইউরোপীয় সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে ইসলাম। বিদ্বেষের বেড়াজাল ভেঙে মাঠে এসব ফুটবলাররা নতুন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ইউরোপের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন