বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪১ এম
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছেন যে, রণাঙ্গনে রুশ বাহিনী প্রতিনিয়ত জয় অর্জন করছে এবং ইউক্রেনীয় সেনাদের একের পর এক অঞ্চল থেকে পিছু হটতে বাধ্য করছে। কিয়েভের বর্তমান নেতৃত্বকে তিনি ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা বা আলোচনায় বসার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
মঙ্গলবার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে পুতিনের দেওয়া সবচেয়ে বিস্তৃত বক্তব্যে তিনি স্বীকার করেছেন যে, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা বাস্তবসম্মত ক্ষতি সাধন করেছে এবং এই ড্রোন ব্যবস্থা তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, শত্রুবাহিনী ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে, এতে তার কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই সাফল্য কবে আসবে সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি। রাশিয়ায় নতুন সামরিক মোবিলাইজেশন বা সৈন্য সমাবেশের যে গুঞ্জন উঠেছে, সেটিকে তিনি সম্পূর্ণ ‘বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এই দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধে রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা ভেস্তে যায়, যখন ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে যে, রাশিয়ার জনগণের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি এই যুদ্ধ নিয়ে ক্লান্তি বাড়ছে এবং দেশটির অর্থনীতিতে চাপ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে। তবে এসবের তোয়াক্কা না করে পুতিন চরম আত্মবিশ্বাসী ও যুদ্ধংদেহী মনোভাব প্রদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর অগ্রগতির গতি আরও দৃশ্যমান ও ত্বরান্বিত হয়েছে।
পুতিন জানান, আগস্ট মাসে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক এলাকার প্রায় ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা তাদের সেনারা দখল করেছে। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনীয় বাহিনীর দুটি বড় দলকে রুশ সেনারা ঘিরে ফেলেছে, যার একটি দলে চার হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার ৮০০ জন এবং অন্যটিতে প্রায় দুই হাজার সৈন্য রয়েছে। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। পুতিন আরও যোগ করেন, রুশ বাহিনী স্লোভিয়ানস্ক এবং ক্রামাতোর্স্ক শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে একটি ব্যাপক ও শক্তিশালী হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা কার্যত অচল হয়ে পড়বে। জেলেনস্কির এই বক্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে পুতিন হুঁশিয়ার করেন যে, এমন কিছু ঘটলে রাশিয়াও কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর পথ খুঁজে নেবে।
কিরগিজস্তানে আয়োজিত সম্মেলনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন সাফ জানান, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো প্রকার দর-কষাকষি করা সম্ভব নয়। তবে যুদ্ধকে সাময়িকভাবে ‘স্থগিত’ করার পরিবর্তে পুরোপুরি ‘বিদায়’ জানানোর লক্ষ্যে আলোচনায় বসতে মস্কো এখনো প্রস্তুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আবারও সংলাপে বসতে তার আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করে পুতিন বলেন, যদি কেউ এই প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে তবে তাতে তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। রাশিয়া কেবল অনর্থক সময়ক্ষেপণ এড়াতে চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে কিছুটা স্থবির হয়ে থাকা এই প্রক্রিয়ায় কেউ সুনির্দিষ্ট কোনো ফলাফল আনতে পারলে তাতে মস্কোর কোনো আপত্তি নেই।
পুতিন ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর ব্যাপক ক্ষতির কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন, যদিও তিনি এই হামলার ফলে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানিসংকটের কথা উল্লেখ করেননি। তিনি দাবি করেন যে, তাদের সুরক্ষাব্যবস্থার মান আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে এবং বর্তমানে শোধনাগারগুলোর মাত্র ১০ শতাংশ মেরামত করা বাকি রয়েছে।
এদিকে, গত মাসে জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার পেছনে রাশিয়াকে দায়ী করে বার্লিনের অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন পুতিন। তিনি অভিযোগ করেন, চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সরকার নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা এবং রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা হ্রাস থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতে মস্কোর ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছে। পুতিন দাবি করেন, জার্মানি ইচ্ছে করে সাজানো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করে রাশিয়াকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে, তবে তিনি ঠিক কিসের ওপর ভিত্তি করে এই পাল্টা অভিযোগ করছেন সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ দেননি।
সূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় বরযাত্রীর গাড়ি আটকে তামান্না আক্তার নামের নববধূকে তুলে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে নববধূকে বলতে শোনা যায়, “আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হোক, নিজের ইচ্ছায় হোক, যেমনেই হোক, আইছি তো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেইলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।”
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, তামান্না একটি কক্ষে বসে আছেন। তার পাশে ছয়জন নারী এবং সামনে একজন পুরুষ বসে রয়েছেন। ভিডিওতে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদকে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। বরপক্ষ একটি অভিযোগ দিয়েছে। গতকাল রাতে মেয়েটি ভিডিও বার্তায় নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। যদি কেউ মামলা করে, তবে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার এক যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে বর ও বরযাত্রীরা মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন। আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে তারা গাড়িটি থামান। পরে মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালিয়ে তামান্নাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয় যে তামান্না ও আতিকুর রহমান মিয়াদের মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার পর মিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, “জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!” এর মধ্যেই গতকাল রাতে ওই নববধূর ভিডিও বার্তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও অভিযুক্ত যুবকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুইন্স পার্ক ওভাল তিন কিংবদন্তি ডোয়াইন ব্রাভো, কাইরন পোলার্ড ও সুনিল নারাইনকে বিশেষ সম্মান প্রদান করেছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। পোর্ট অব স্পেনের ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়েছে তাদের নামে।
‘ত্রিনি পোসি স্ট্যান্ড’ নামে পরিচিত স্ট্যান্ডটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘ব্রাভো, পোলার্ড, নারাইন স্ট্যান্ড’। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ৬৪তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নাম উন্মোচন করা হয়।
এই তিন ক্রিকেটারের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা ও বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ডোয়াইন ব্রাভো নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সফল টি-টোয়েন্টি অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ৫৮২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার সংগ্রহ ৬ হাজার ৯৭০ রান, এবং তিনি নিয়েছেন ৬৩১ উইকেট।
অন্যদিকে, কাইরন পোলার্ড এখনো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সক্রিয় রয়েছেন। ৭৫১ ম্যাচে তার রান ১৪ হাজার ৯৩৩ এবং উইকেট ৩৪১টি। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অন্যতম সফল এই অলরাউন্ডার বিশ্বের বিভিন্ন লিগে দীর্ঘদিন ধরে দাপটের সঙ্গে খেলে আসছেন।
সুনিল নারাইনও গড়েছেন অনন্য কীর্তি। সম্প্রতি, তিনি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে ৬৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। ৬১৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা এই রহস্যময় স্পিনার ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও।
চলমান সিপিএলে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনজনই। পোলার্ড ও নারাইন দলটির হয়ে মাঠে খেলেছেন, আর ব্রাভো রয়েছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কোচিং স্টাফে।
কুইন্স পার্ক ওভালে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ক্রিকেটের আরও কয়েকজন কিংবদন্তির নামেও বিভিন্ন অংশের নামকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রায়ান লারা প্যাভিলিয়ন, ডেরিক মারে প্লেয়ার্স গ্যালারি, জেফরি স্টলমেয়ার স্ট্যান্ড ও লিয়ারি কনস্ট্যানটাইন স্ট্যান্ড।
ব্রাভোর সম্মানে সম্প্রতি আরও একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স। সিপিএল ও ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ক্রিকেটে তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তার ৪৭ নম্বর জার্সি অবসরে পাঠিয়েছে।
কুইন্স পার্ক ওভালে এবার একই স্ট্যান্ডে তিন তারকার নাম যুক্ত হওয়ায় ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ক্রিকেট ইতিহাসে তাদের অবদান আরও স্থায়ীভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের নগরকান্দায় সংঘটিত একটি দুর্ঘটনায় জে আর পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস এবং সারবোঝাই ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় চালক ও হেলপারসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া স্ট্যান্ডের প্রায় ২০০ গজ পশ্চিমে ফরিদপুর-ভাঙ্গা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী জে আর পরিবহনের একটি বাস ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুরগামী এসিআই সারবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের ফলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়, যার ফলে বাসটির অর্ধেক অংশ পানিতে তলিয়ে যায়।
এই ঘটনায় বাসের যাত্রী, চালক ও হেলপারসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। অপরদিকে, সংঘর্ষের পর সারবোঝাই ট্রাকটি সড়কের মাঝখানে উল্টে যায়, যার ফলে ট্রাকের চালক ও হেলপারসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
খবর পেয়ে নগরকান্দা থানার এসআই নুর মোহাম্মদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং চলাচল স্বাভাবিক করেন। পরে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট আজাদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
পরবর্তীতে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ট্রাক উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই চলছে শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে দৈনন্দিন পাঠদান কার্যক্রম সচল থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অন্তত ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ দায়িত্ব পালন করছেন।
ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—আলফাডাঙ্গা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের এম.এম. মুজিবুর রহমান মুজিব, কামারগ্রাম কাঞ্চন একাডেমির মো. কাওছার প্রামাণিক, চরনারানদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. তারিকুল ইসলাম, জাটিগ্রাম মমতাজ উদ্দিন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সৈয়দ আতিয়ার রহমান, নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. দবিরউদ্দিন, বানা মৌলভী আব্দুল মজিদ উচ্চ বিদ্যালয়ের হাদী সাহেব আলী, হেলেঞ্চা উচ্চ বিদ্যালয়ের মো. ওহিদুজ্জামান খান, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যাপীঠের মো. খায়রুল আলম এবং বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের শেখ ফাতেমা অনন্যা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ভারপ্রাপ্ত প্রধানরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ না থাকায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
এ ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব চলতে থাকলে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্থায়ী উন্নয়ন কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ভারপ্রাপ্তরা দায়িত্ব পালন করছেন বলেই শিক্ষা কার্যক্রম সচল রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত দিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়মিত প্রধান নিয়োগ করা হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য পদে দ্রুত নিয়মিত প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করে শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ