ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধার করবে জাতিসংঘ


হরমুজে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে উদ্ধার করবে জাতিসংঘ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সময় হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) আইএমওর মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ এ তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

তিনি জানান, সংঘাত চলাকালে ১৪ জন নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ওমান এবং অন্যান্য পক্ষের সহযোগিতায় একটি বৃহৎ পরিসরের উদ্ধার ও স্থানান্তর অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন ডোমিঙ্গুয়েজ।

আরও পড়ুন: বিল গেটসের ৭১তম জন্মদিনে দানের ঘোষণা, সম্পদের প্রায় সবটাই মানবকল্যাণে

তিনি জানান, এই অভিযান দেখিয়ে দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কার্যক্রমকে কতটা ব্যাহত করেছে এবং হাজার হাজার বেসামরিক নাবিককে দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে আটকে রেখেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-কে জিজ্ঞাসা করা হয়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র কি কোনো গ্যারান্টি দিতে পারে? বিশেষ করে ইরান ট্যাংকারগুলোর কাছ থেকে টোল আদায় করছে- এমন অবস্থার প্রেক্ষাপটে।

জবাবে রুবিও বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ। কোনো দেশই আন্তর্জাতিক জলপথে টোল বা ফি আরোপ করতে পারে না।

আইএমওর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ওই অঞ্চলে প্রায় ৬০০টি জাহাজ আটকে রয়েছে।

আরও পড়ুন: উল্লাপাড়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, প্রধান অতিথি এম আকবর আলী

ডোমিঙ্গেজ এক বিবৃতিতে বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিশ্চয়তা পেয়েছে এবং নিরাপদ নৌ-চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিস্তারিতভাবে যাচাই করেছে।

তিনি বলেন, হাজার হাজার নিরীহ নাবিকের জন্য দীর্ঘ মাসের দুর্ভোগ এবং বিশ্বব্যাপী নেতিবাচক প্রভাবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত শান্তি চুক্তিকে আমি গভীর সন্তুষ্টির সঙ্গে স্বাগত জানাই। এটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং বেসামরিক জাহাজের ওপর অগ্রহণযোগ্য হামলার অবসান ঘটানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

অন্যদিকে, সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞ ক্যাপ্টেন কিয়েস বাকেন্স জানান, তেল সংগ্রহ ও পরিবহনের জন্য জাহাজগুলো এরই মধ্যে আবার হরমুজ প্রণালিতে ফিরতে শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ওমান সরকারের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করানোর জন্য একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘ইসলামবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে আফগানিস্তানে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ

তার মতে, সম্ভাব্য টোল আদায়ের বিষয়টি উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রমে বড় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। তবে, প্রণালিতে অবশিষ্ট মাইন একটি উদ্বেগের বিষয়। তবুও ওমানের দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নাবিকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করবে যে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে নিরাপদে চলাচল করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোন ঘটনায় ‘থরথর করে কাঁপছিল’ অমীষা পটেলের সারা শরীর?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:০১ এম


কোন ঘটনায় ‘থরথর করে কাঁপছিল’ অমীষা পটেলের সারা শরীর?

‘গদর’ ছিল অমীষার দ্বিতীয় ছবি। ছবির সেটে প্রথম দিন থেকেই তাঁকে কঠিন একটি দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এ সময় থরথর করে কাঁপছিলেন তিনি।

‘গদর: এক প্রেম কথা’ সম্প্রতি মুক্তির ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন অমীষা পটেল। সম্প্রতি তিনি ছবির শুটিংয়ের স্মৃতি শেয়ার করেছেন। বিশেষ করে প্রয়াত প্রবীণ অভিনেতা অমরীশ পুরীর সঙ্গে একটি দৃশ্য আজও মনে আছে তাঁর। শুটিংয়ের সময় তিনি থরথর কাঁপছিলেন। কিন্তু কেন?

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অমীষা বলেন, “আমার অমরীশজির কথা খুব মনে পড়ে। ওঁর জন্য ভয় পেয়েছিলেন, এমন নয়। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ ও সহ-অভিনেতা ছিলেন। তাঁর রসবোধ ছিল দারুণ। খুব মজার মানুষ ছিলেন। তাঁর মধ্যে এমন এক ধরনের হাস্যরস ছিল, যা কেউ কখনও ভাবতে পারবে না।” তো, কেন সত্যিকার অর্থেই থরথর করে কাঁপছিলেন অভিনেত্রী?

‘গদর’ ছিল অমীষার দ্বিতীয় ছবি এবং ছবির সেটে প্রথম দিন থেকেই তাঁকে কঠিন একটি দৃশ্যের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। প্রথমেই অমরীশ পুরীর সঙ্গে একটি আবেগঘন দৃশ্যে অভিনয় করতে বলা হয়েছিল তাঁকে। ছবিতে অমরীশ তাঁর বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেই দৃশ্যের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা মনে করে অভিনেত্রী বলেন, “‘গদর’-এ আমার প্রথম দৃশ্যই ছিল অমরীশজির সঙ্গে। আমি ভয়ে থরথর করে কাঁপছিলাম। আমার সারা শরীর কাঁপছিল। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কাজ করা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। তিনি আমার কাজকে খুব সহজ করে দিয়েছিলেন। তিনি কখনও আমাকে বুঝতে দেননি যে, তিনি এত বড় একজন অভিনেতা এবং আমি একজন নতুন শিল্পী।”

এর আগেও ‘গদর’ নিয়ে কথা বলেছেন অমীষা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁকে সানি দেওলের বিপরীতে অভিনয় না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কারণ, সানি তাঁর থেকে বয়সে অনেক বড় ছিলেন। অভিনেত্রীর মতে, অভিনেতাদের মধ্যে বয়সের ব্যবধান নিয়ে তাঁর কোনও সমস্যা নেই। তবে গল্পে সেই ব্যবধানের যুক্তি থাকা দরকার বলে তাঁর অভিমত। তাঁর মতে, ‘গদর’-এর গল্প বয়সের সেই ব্যবধানকে যথাযথ ভাবে তুলে ধরেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মদরিচের মাইলফলকের রাতে কঠিন লড়াইয়ে জিতল ক্রোয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:১৪ এম


মদরিচের মাইলফলকের রাতে কঠিন লড়াইয়ে জিতল ক্রোয়েশিয়া

বল নিয়ে ছোটা মদরিচকে আটকানোর চেষ্টা  পানামার এর এক খেলোয়াড়ের। ছবিটি রয়েছে রয়টার্সের।

চল্লিশ বৎসর বয়সেও মদরিচ নিজের সেরা ফর্মে আছেন। তিনি মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলছেন। পেশাদার ক্যারিয়ারের অনেকেই এই বয়সে অবসর নিয়েছেন, কিন্তু মদরিচের জন্য সেই চিন্তা নেই।

২০০৬ সালে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে, আজ তিনি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক অর্জন করেছেন। বিশ্বের চতুর্থ ফুটবলার হিসাবে ২০০ ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, বদের আল-মুতাওয়া এবং লিওনেল মেসি।

মদরিচের মালিকের রাতটা স্মরণীয় করে তুলেছেন আন্তে বুদিমির। পানামার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়াকে জয়সূচক গোল এনে দিয়ে তাঁর অবদান ছিল অসাধারণ। সেই গোলের মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া প্রথম জয় পেল এবং নকআউটে খেলার আশা জাগিয়ে রাখল। বর্তমানে তাদের পয়েন্ট তৃতীয়। বিপরীতে সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে যৌথভাবে তারা শীর্ষে রয়েছে ইংল্যান্ড ও ঘানার সাথে।

ক্রোয়েশিয়া ৫৪ মিনিটে জয়সূচক গোলটি পায়। ডান প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত এক ক্রস দেন ইয়োসিপ স্তানিসিচ। গোললাইনের সামনে দাঁড়িয়ে পা দিয়ে বল জালে ঢোকান বুদিমির। গোল হওয়ার সাথে সাথে টরন্টোর গ্যালারিতে ক্রোয়েশিয়া ক্রোয়েশিয়া স্লোগান শুরু হয়ে যায়।

অন্যান্য খেলোয়াড়দের মধ্যে মদরিচও গোলের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারতেন। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে, তিনি মুখে তুলে দেওয়া এক গোল বানিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্যাসালিচ গোলরক্ষককে একা পেয়ে বল জালে জড়াতে পারেননি। সেই অবস্থায় প্রথমবার সরাসরি গোলরক্ষকের শরীরে মারার পর ফিরতি সুযোগটিও তিনি হারান।

যদিও ম্যাচ জয়ের নায়ক ছিল বুদিমির, কিন্তু ক্রোয়েশিয়াকে প্রতিপক্ষের গোল থেকে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে না দেওয়ার জন্য ডমিনিক লিভাকোভিচের অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি ৬৮ মিনিটে ডাবল সেভ করেন। কর্নারের বিনিময়ে মুরিল্লোর দুটি শট ঠেকিয়ে জান, পরে ফিরতি কর্নারে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’ থেকে হার্ভির হেডও দুর্দান্তভাবে পাঞ্চ করে ক্রোয়েশিয়াকে রক্ষা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২২ এম


উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে

ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার ফলস্বরূপ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণের কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ দেশের বেশকিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার বিপৎসীমা অতিক্রম করার কারণে পানি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি তথা সব গেট খুলে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

এছাড়া কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের নদী-তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি বিপৎসীমার কাছে পৌঁছে গেছে। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ার ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার চরাঞ্চলে পরিস্থিতি যথেষ্ট নাজুক হয়ে পড়েছে। ক্রমেই নিচু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে জানানো হয়, দেশের সব প্রধান নদ-নদীসমূহ বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা নদী ডালিয়া (নীলফামারী) ও কাউনিয়া (রংপুর) স্টেশনে, সুরমা নদী ছাতক (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে, কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে এবং সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) স্টেশনে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া আমার দেশকে বলেন, ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বেড়ে উত্তরের চার জেলায় সাময়িকভাবে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ভারী বর্ষণ এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সকল গেট খুলে দেওয়ার কারণে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। গতকাল বেলা তিনটায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট স্থায়ীভাবে খুলে রাখা হচ্ছে।

স্থানীয় পাউবো সূত্র জানিয়েছে, আগামী দুই-তিনদিন এই অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

ত্রাণ নয়, পানি বন্ধ চাই। এ বিষয়ে তিস্তার বাঁধে সাবেক স্কুলশিক্ষক মহিরুদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভারত তাদের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দিয়ে আমাদের পানিতে ভাসাচ্ছে। আমি ভারতের এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে ত্রাণ নয়, আমরা চাই ভারতের পানি আসা বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হোক।

তিস্তার তীরবর্তী উত্তর গড্ডিমারী গ্রামের মোন্তাজ মিয়া বলেন, তিস্তা-তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। এভাবে পানি আসতে থাকলে যেকোনো সময়ে আরো ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার জানান, বৃষ্টির ফলে ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব অঞ্চলের জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার বেলা ৩টায় তিস্তার পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খোলা রাখা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও রাস্তাগুলো পর্যবেক্ষণ করছি।

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে তিস্তা নদীর পানি নীলফামারীর ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের প্রায় হাজারো ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে এবং প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে।

ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান জানান, সোমবার রাত থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা দিশাহারা হয়ে উঁচু জায়গায় যেতে বাধ্য হন। এতে চর, গ্রামসহ নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে প্রায় এক হাজার পরিবার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। দ্রুত তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্বাচিত সরকারের প্রতিই আইএমএফের আস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:২৬ এম


নির্বাচিত সরকারের প্রতিই আইএমএফের আস্থা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আস্থা নির্বাচিত বিএনপি সরকারের প্রতি রয়েছে।

প্রায় দুই বছরের বৈদেশিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থা কাটিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের দিকে এগোচ্ছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক অর্থনৈতিক সম্পর্কোন্নয়নের উদ্যোগ নেয় সরকার।

যার ফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, ১৭ ফেব্রুয়ারির সরকার গঠনের পর উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের জন্য পৃথক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করে সরকার। এর অংশ হিসেবে এডিবি বাজেট সহায়তা দিয়েছে এক বিলিয়ন ডলার। আইএমএফ সরকারকে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের নতুন একটি ঋণচুক্তির জন্য প্রস্তাব দিয়েছে।

বিশ্বব্যাংক দেড় বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এ মাসেই। যার একটি বড় অংশ দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে কাজে লাগানো হবে। এদিকে, দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর নির্মাণে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর দেওয়া হয়েছে।

দুবাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের যে অবনতি ছিল, সেটাও অনেকটা কেটে গেছে। জাইকা, ইএসএইড, ইউএনডিপি, আইডিবিসহ উন্নয়ন সহযোগীরা নতুন করে ঋণ ও সহায়তার হাত বাড়াচ্ছেন। এবার ২০২৬-২৭ বাজেটে ১ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে। যা চলতি বাজেটের চেয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা বেশি।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় কাজে মালয়েশিয়া ও চীন সফল করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি দেশের কূটনৈতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পতন ঘটে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ড. ইউনূস দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিলেও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার কারণে ভেঙে পড়ে আর্থিক কাঠামো। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়লাভ করে অভিষিক্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এটি টেনে তোলার চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ব্যাংক ও সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কারের উপর মনোযোগী হয় সরকার। এর ফলে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে শুরু করে তিন মাসের ব্যবধানেই।

বিশ্বব্যাংক ঢাকার সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, প্রত্যেক সরকারেরই আলাদা পরিকল্পনা থাকে। তবে বর্তমান সরকার অতি অল্প সময়ের মধ্যে কূটনৈতিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে। এতে সরকার অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে। এখন প্রয়োজন দূরদর্শী পরিকল্পনা, যা দেশকে সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক্স এর ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ ও রাজস্ব ঘাটতির সময়ে এ ধরনের সহায়তা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থের চেয়ে বড় বিষয় হলো সংস্কার বাস্তবায়ন। ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা ও আর্থিক খাতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা কার্যকর সংস্কার এনে দেশ সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে চাই। দেশের জাতীয় স্বার্থ অটুট রেখে ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তাদের দেশের উন্নয়নে আমরা কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছি। এতে তরুণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব রয়েছে।

আইএমএফ সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তির আলোচনা শুরু করেছে। ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নির্বাচিত সরকার ছাড়া চলমান ৫.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ চুক্তির বাকি দুই কিস্তির অর্থ ছাড় করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছিল আইএমএফ। ১২ ফেব্রুয়ারির পর সংস্থাটি তাদের মনোভাব পরিবর্তন করেছে। ওই পুরোনো ঋণের অবশিষ্ট কিস্তির সঙ্গে নতুন করে সাড়ে চার বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তির প্রস্তাব দেয় নির্বাচিত সরকারকে।

জানা গেছে, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, বৈদেশিক খাতের চাপ মোকাবিলা এবং বাজেট সহায়তা জোরদারের লক্ষ্যে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ পেতে পারে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরে নতুন ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এদিকে, নতুন ঋণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল আগামী ১২ থেকে ১৭ জুলাই ঢাকা সফর করবে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশকে ১ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২ হাজার ২০০ কোটি টাকা) বাজেট সহায়তা দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)। এই অর্থ প্রবাহের ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে উঠেছে। সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। গড়ে মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরলে, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। যা আন্তর্জাতিকভাবে নিরাপদ মানদণ্ড (কমপক্ষে তিন মাস) ছাড়িয়ে গেছে।

অতীতে রিজার্ভ চাপের মুখে পড়ে ব্যবহারযোগ্য অংশ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচেও নেমে গিয়েছিল। সেই সময় বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

চলতি মাসেই তিনটি ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাজেট সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য ১.৫ বিলিয়ন (১৫০ কোটি) ডলার অনুমোদন করতে যাচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে চাপে পড়া বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরে আসবে। এই তহবিলের মধ্যে, র‌্যাপিড রেসপন্স অপশন (আরআরও) উইন্ডোর আওতায় চলমান প্রকল্প ঋণ থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলার পুনর্নির্ধারণ (রিপারপাস) করা হবে। সার আমদানি ও খাদ্য সহায়তার জন্য দেওয়া হবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের জন্য বরাদ্দ থাকবে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। ওয়াশিংটন ডিসি এবং ঢাকা উভয় স্থানেই কয়েক দফা আলোচনার পর এই বড় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

চীনের অর্থায়নে দেশের অবকাঠামো খাতে নতুন করে বড় বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশে আরও একটি পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণসহ সড়ক, রেল ও সেতু খাতের ২০টির মতো প্রকল্পের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরে এসব প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এতে ইতিবাচক খবর পাবে বাংলাদেশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র জানায়, চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য সবচেয়ে বেশি ৯টি প্রকল্পের নাম জমা দিয়েছে সেতু বিভাগ। এর মধ্যে আছে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও গাইবান্ধার বালাসীঘাটের মধ্যে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্প। এটি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে। দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের জন্য তিনটি সম্ভাব্য পথ (অ্যালাইনমেন্ট) নিয়ে সমীক্ষা চলছে। এগুলো হলো বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলা-জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার মধ্য দিয়ে যমুনা নদীর ওপর।

অন্যটি গাইবান্ধার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ পর্যন্ত। এর বাইরে অন্য যেকোনো উপযুক্ত স্থানে।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামে উড়াল মহাসড়ক, ঢাকার জন্য সাবওয়ে ও নতুন এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে চীনের বিনিয়োগ আসতে পারে। এক সমীক্ষায় রাজধানীর ১১টি রুটে ২৩৮ কিলোমিটার সাবওয়ে নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে চারটি পথ নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%