রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩২ পি.এম
কুমিল্লার মুরাদনগরে আধিপত্য বিস্তার সংক্রান্ত কারণে মো. আনোয়ার হোসেন (৪০) নামের এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ সাবেক এক ইউপি সদস্য এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে উঠেছে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোমেনা বেগমও গুরুতর আহত হয়েছেন।
এটি ঘটেছে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের উত্তর পেন্নাই গ্রামে। নিহত আনোয়ার হোসেন শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি উত্তর পেন্নই গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন আনোয়ার মেম্বার। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হওয়ার পর থেকে আনোয়ার প্রায় আড়াই বছর গ্রাম থেকে দূরে ছিলেন। স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে রাতে বাড়িতে আসতেন।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে মাঝে মাঝে রাতে বাড়িতে আসতেন। গত রাতে বাড়িতে আসার খবর পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের ওদেসা শহরে টেনিস তারকা দাইয়ানা ইয়াস্ত্রেমস্কার ফ্ল্যাট সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। ভয়াবহ এই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে একমাত্র রোলাঁ গারোঁর একটি তোয়ালে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধ্বংসপ্রাপ্ত বহুতল ভবনের ছবি প্রকাশ করেন ২৬ বছর বয়সী ইয়াস্ত্রেমস্কা।
তিনি ক্যাপশনে উল্লেখ করেন, ‘এটাই রুশ বিশ্বের চেহারা। কালিবার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে।’
এরপর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঝুলতে থাকা প্যারিসের গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্ট রোলাঁ গারোঁর বিখ্যাত কমলা রঙের তোয়ালের একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ক্যাপশনে লেখেন, ‘একমাত্র যে জিনিসটি টিকে গেছে, সেটি হলো একটি রোলাঁ গারোঁ তোয়ালে।’
শুক্রবার রাতে ওদেসা ও আশপাশের চোরনোমর্স্কে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওদেসা অঞ্চলের প্রধান ওলেহ কিপার। আহতদের মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় দুজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ইয়াস্ত্রেমস্কা ইনস্টাগ্রামে আরও লিখেছেন, একটি রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্র ওদেসায় আমাদের অ্যাপার্টমেন্ট ধ্বংস করেছে...। রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের পরও বিশ্ব টেনিসের একটি অংশ টিকে গেছে। আমাদের বাড়িটি টেকেনি।’
বিশ্ব টেনিসের দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডাব্লিউটিএ ও আইটিএফকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, ‘এই ছবিগুলো আমাদের চোখ দিয়ে দেখুন।’
২০২৪ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে সেমিফাইনালে উঠেছিলেন ইয়াস্ত্রেমস্কা। বর্তমানে তিনি নারী এককের বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১১৩ নম্বরে অবস্থান করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষকের পড়ানোর পদ্ধতিকে বিটিভির খবরের সঙ্গে তুলনা করে তার অতীতের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি ওই শিক্ষকের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মন্তব্য করেন যে, "উনি স্যুট টাই পড়ে এসে বসতেন, স্লাইড চলত পেছনে, উনি স্লাইড দেখে পড়তেন। যোগ্যতা? উনি চেয়ারম্যানের আত্মীয়।" শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে এই বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।
মনিরা শারমিন তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে একটি স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স করেছেন। সেখানে গিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো অনুভব করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম এমনই হওয়া উচিত। তিনি বলেন, "বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সারাবছরের একটা ক্যালেন্ডার থাকে। সেই টাইমলাইনে আপনি দেখতে পাবেন, আপনার সেমিস্টার ফাইনাল কবে, কতদিনের মধ্যে রেজাল্ট দিবে, কবে থেকে সেমিস্টার ব্রেক ইত্যাদি।"
এনসিপি নেত্রী আরও লেখেন, "তিন মাস একটা করে সেমিস্টার। ফাইনাল পরীক্ষার সময় অথবা রেজাল্ট দেয়ার আগে একদিন টিচার ইভ্যালুয়েশন ফর্ম আমাদের ফিলাপ করতে হত। আমরা বলতাম, ওইদিন শিক্ষকদের পরীক্ষা।" তিনি বলেন যে, এই মূল্যায়নে তিন ধরনের প্রশ্ন থাকে। প্রথমত, শিক্ষকের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান। দ্বিতীয়ত, প্রেজেন্টেশন পারফরম্যান্স। তৃতীয়ত, শিক্ষকের ক্লাসে পুনরায় আসার সুযোগ।
মনিরা শারমিন উল্লেখ করেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে পড়ার সময় অনেক ক্লাস আমরা করতাম শুধু উপস্তিতির ৫ নাম্বারের জন্য।" তিনি একটি শিক্ষকের কথা স্মরণ করে বলেন, "তার পড়ানোকে আমরা বিটিভির খবরের সাথে তুলনা করতাম।" তিনি আবারও যোগ করেন, "এই হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা। আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি, শিক্ষক মূল্যায়নের সুযোগ থাকা উচিত।" তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এই বিষয়টি জানেন, কারণ তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় শিক্ষার্থীদের পেছনে ঘোরেন।
তিনি বলেন, "এটি হওয়া উচিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার মধ্যে থেকে। কিন্তু যতদিন এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে হচ্ছে না, ডাকসুর উদ্যোগে হোক! খারাপ কি! অন্তত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীরাও শিক্ষক মূল্যায়নের সুযোগ পাক!"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘জেন জি আলোড়ন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা দেহ ব্যবসার অভিযোগে ছয় জনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন। এই ঘটনা সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নে ঘটেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে হাটিকুমরুল এলাকার ‘নিরিবিলি আবাসিক হোটেল’ থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।
আটকদের মধ্যে দুজন নারী রয়েছেন, যারা বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার বাসিন্দা। বাকি চার পুরুষ উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা। সংগঠনের সদস্যদের মতে, তাদের মধ্যে একজন হোটেলের ম্যানেজার।
সংগঠনের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, ওই হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে নারী-পুরুষ এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছিল। নারীদের রেখে সেখানে যৌন ব্যবসা পরিচালনা করা হতো। এলাকাবাসী একাধিকবার হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করলেও তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি।
জানা যায়, হাটিকমরুল ও আশেপাশের এলাকার তরুণদের নিয়ে ‘জেন জি আলোড়ন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কয়েক মাস আগে গড়ে তোলা হয়।
সংগঠনের সদস্য রাজিবুল, নাসিম ও আশরাফুল জানিয়েছেন, রোববার দুপুরে হোটেলটিতে অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলছে—এমন খবর পেয়ে তারা সেখানে যান। পরে হোটেলের ভেতর থেকে ছয় জনকে আটক করা হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি পুলিশও জানে না বলে দাবি করেছে।
রায়গঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, "বিষয়টি আমার জানা নেই। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি আসলে বিষয়টি কী। কেন তাদের আটক করা হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদারীপুর সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী আইভী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন তাঁর সহপাঠীরা।
রোববার দুপুরে মাদারীপুর সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থী আইভী হত্যার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও মর্মান্তিক। দ্রুত সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের কালাম শরীফের ঘরে আইভীকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। স্থানীয়দের দাবি, আইভীর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হত্যার পর তাঁর ব্যবহৃত একটি আইফোনও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় আইভীর বাবা আসলাম শরীফ গত ১১ সেপ্টেম্বর মাদারীপুর সদর মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
আইভী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন তাঁর সহপাঠী ও স্বজনরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ