ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট বেড়েছে ৭৮২ কোটি, কোন খাতে কত?


ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেট বেড়েছে ৭৮২ কোটি, কোন খাতে কত?

২০২৬-২৭ অর্থবছরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন।

এবং উন্নয়ন খাতে ১৫৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেইসাথে পরিচালন খাতে ১০০৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা খরচ করতে হবে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ ছিল ১৮০৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এবারে প্রস্তাবিত বাজেটটি গত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৭৮২ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা বেশি।

আরও পড়ুন: সিলেটে ক্রিকেট সুখের খোঁজে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় টেস্টের প্রস্তুতি চলছে

গত বছর প্রস্তাবিত বাজেট ছিল ২৪৩২ কোটি টাকা, যা পূর্ববর্তী বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় সাতশো কোটি বেশি ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ দুই হাজার কোটি টাকাকে অতিক্রম করেনি। এবার প্রস্তাবিত বাজেট ২৫৮৬ কোটি হলেও বছর শেষে সংশোধিত বাজেট কত দাঁড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনের ইশতেহারে ক্রীড়াকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল। ‘ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা’- এই স্লোগান সরকার গঠনের পরপরই বাস্তবায়ন করেছে।

গত অর্থবছরে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে হলেও এবার জাতীয় বাজেটের মধ্যে ক্রীড়া অর্ন্তভূক্ত হয়েছে। ৫০০ জন ক্রীড়াবিদ প্রতি মাসে এক লাখ করে ক্রীড়া ভাতা পাবেন। এতে বছরে ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এবারই প্রথম বাজেটে ক্রীড়াবিদরা আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্ত হয়েছেন।

যুব সমাজকে মাদক ও সন্ত্রাসের হাত থেকে দূরে রাখতে বর্তমান সরকার নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচি চালু করেছে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি খেলা ইতোমধ্যেই চলছে।

আরও পড়ুন: হালুয়াঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস

সারা দেশ থেকে ১ লক্ষ ২১ হাজার ৪৯২ জন কিশোর ও ৪৭ হাজার ১৩০ জন কিশোরীসহ মোট ১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৬২২ জন খেলোয়াড় নিবন্ধন করেছেন। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেমন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি, ক্রীড়া পরিদপ্তর, ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ট্রাস্ট। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেটের সিংহভাগ যুব খাতে ব্যয় হয়। ক্রীড়া ফেডারেশন, স্থাপনা, জেলা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার অভিভাবক মূলত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।

এই সকল প্রতিষ্ঠান খুব শীঘ্রই তাদের বাজেট চূড়ান্ত করবে। এবার ফেডারেশনগুলোর জন্য অনুদান খানিকটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ক্রীড়াবিদদের আতুড়ঘর হিসাবে পরিচিত বিকেএসপিতে বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল রয়েছে।

আরও পড়ুন: সংঘর্ষে ফুটবলার হেসুস দে মিগেলের মৃত্যু, গোলরক্ষকের শাস্তি হতে পারে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যাঙ্ককে বোমা হামলা, এক দশকের বিতর্কিত তদন্তে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


ব্যাঙ্ককে বোমা হামলা, এক দশকের বিতর্কিত তদন্তে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে ২০১৫ সালের ১৭ আগস্টে। ওই দিন ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় এরাওয়ান মন্দিরে ভয়াবহ বোমা হামলায় বিদেশি পর্যটকসহ অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে, প্রায় এক দশক পরে, দুই ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। যদিও এই রায় এবং তদন্ত নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনই চীনের মুসলিম উইঘুর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তারা ২০১৫ সালের ১৭ আগস্ট ব্যাঙ্ককের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত জনপ্রিয় এরাওয়ান মন্দিরের কাছে ভয়াবহ বোমা হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ওই হামলায় ২০ জন নিহত এবং ১২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি পর্যটকও ছিল।

দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়া এবং তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতির কারণে মামলাটি নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি পুরো বিচারকালেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

২০১৫ সালের ওই হামলায় একটি শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণে রাজধানী ব্যাঙ্ককের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। বিস্ফোরণে মন্দিরে প্রার্থনায় অংশ নেওয়া মানুষজন ছাড়াও আশপাশের সড়কে অবস্থানরত মোটরসাইকেল আরোহীরা হতাহত হন। ঘটনাস্থলে দ্রুত উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছে আহতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেন।

হামলার পরপরই থাই কর্তৃপক্ষের তদন্ত নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পর্যটন খাতের ক্ষতি কমাতে সরকার দ্রুত ঘটনাস্থল পরিষ্কার করার নির্দেশ দেয় এবং মাত্র দুই দিনের মধ্যেই মন্দিরটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।

এতে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন সমালোচকেরা।

তদন্তে দেখা যায়, আশপাশের অনেক নিরাপত্তা ক্যামেরা অকার্যকর ছিল। তবে কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দীর্ঘ চুল ও মোটা চশমা পরা এক ব্যক্তিকে একটি বেঞ্চের নিচে ব্যাকপ্যাক রেখে দ্রুত সরে যেতে এবং পরে অন্য একটি ভিডিওতে অন্য এক ব্যক্তিকে একটি দ্বিতীয় বোমা খালে ফেলে দিতে। যে বোমাটি পরে বিস্ফোরিত হলেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

হামলার দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুলিশ দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। বিলাল মোহাম্মদ নামে একজনকে ব্যাঙ্ককের পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি বাড়ি থেকে আটক করা হয়। সেখানে বোমা তৈরির উপযোগী রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছিল। তার কাছ থেকে আদেম কারাদাগ নামের একটি জাল তুর্কি পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

অন্য অভিযুক্ত ইউসুফু মিয়েরালিকে কম্বোডিয়া থেকে আটক করে থাইল্যান্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তদন্তের শুরুতে থাই পুলিশ বলেছিল, আটক দুই ব্যক্তি বোমা স্থাপনকারী ব্যক্তি নন। কিন্তু পরে বিলাল মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়, যদিও নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে দেখা ব্যক্তির সঙ্গে তার চেহারার উল্লেখযোগ্য মিল ছিল না বলে দাবি করে বিভিন্ন পর্যবেক্ষক।

হামলার ঘটনায় আরও ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল, যাদের কয়েকজন এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

মানবাধিকার সংগঠন ও আইনি বিশ্লেষকদের মতে, মামলার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শেষ হলেও তদন্তের বিভিন্ন অসঙ্গতি এবং অন্যান্য সন্দেহভাজনদের অনুপস্থিতির কারণে হামলার প্রকৃত নেপথ্য কাহিনি নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি।

প্রত্যাশিতভাবেই অনেকেই এই বোমা হামলার সঙ্গে এর আগের মাসে থাইল্যান্ডের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের যোগসূত্র খুঁজতে শুরু করেন। ওই সিদ্ধান্তে ১০৯ জন উইঘুর পুরুষকে জোরপূর্বক চীনে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যা তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে উইঘুর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিক্ষোভের জন্ম দেয়।

হামলার লক্ষ্যবস্তু ওই মন্দিরটি চীনা পর্যটকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয় ছিল। ফলে ঘটনাটি প্রতিশোধমূলক হামলা বলেই মনে হচ্ছিল অনেকের কাছে।

তবে থাইল্যান্ডের সামরিক সরকার এই সম্ভাবনা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। একপর্যায়ে তারা দাবি করে, গত বছর ক্ষমতা দখল করা সামরিক জান্তার অসন্তুষ্ট বিরোধীদের কাজের কারণেও এটি হতে পারে। পরে তারা জোর দিয়ে বলে, সরকারের মানবপাচারবিরোধী অভিযানে ক্ষুব্ধ মানবপাচারকারীরাই এ হামলার পেছনে রয়েছে।

এক অদ্ভুত মোড় নিতে অপরাধীদের ধরিয়ে দিতে তথ্যদাতার জন্য ৮০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করে থাই পুলিশ। এ ঘটনার পরপরই দুই জনকে আটক করার পরও অনেক সন্দেহভাজন পলাতক রয়েছে বলে স্বীকার করে তারা। কিন্তু এরপরও ওই পুরস্কার নিজেদের নিজেরাই দিয়ে দেয় এবং ঘোষণা করে, মামলার তদন্ত শেষ।

দুই সন্দেহভাজনকেই সামরিক হেফাজতে রাখা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। পরে সামরিক আদালতে বিচার শুরু হলে তারা সেই স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করে নেন।

তাদের মধ্যে বিলাল মোহাম্মদ চিৎকার করে অভিযোগ করেন যে, তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। আদালতে তিনি সাক্ষ্য দেন, গ্রেপ্তারের সময় যে বাড়িতে তিনি ছিলেন সেখানে তিনি একজন মানবপাচারকারীর অপেক্ষায় ছিলেন, যিনি তাকে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে তিনি তুরস্কে যেতে চেয়েছিলেন। এটি উইঘুর আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যবহৃত একটি সুপরিচিত রুট।

এরপর শুরু হয় দীর্ঘ বিলম্ব। সাধারণত থাই কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, তারা উইঘুর ভাষাভাষী কোনো দোভাষী খুঁজে পাচ্ছে না। অভিযুক্তরা চীনা দূতাবাসের প্রস্তাবিত দোভাষীদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। এভাবে বিলম্ব চলতেই থাকে—এক দশকেরও বেশি সময় ধরে।

আন্তর্জাতিক আইনবিদ কমিশনসহ (আইসিজে) কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন বিচারপ্রক্রিয়া এবং মামলার অস্বাভাবিক দীর্ঘসূত্রতার সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, বিচারপ্রক্রিয়ায় এত বেশি সমস্যা ছিল যে দুই সন্দেহভাজনকে মুক্তি দেওয়া উচিত ছিল।

এক বিবৃতিতে আইসিজে বলেছে, বিলাল মোহাম্মদ ও ইউসুফু মিয়েরাইলির তদন্ত, বিচারিক কার্যক্রম এবং বিচার মানবাধিকার লঙ্ঘন পরিপূর্ণ ছিল। এতে থাইল্যান্ডের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার কিছু কাঠামোগত দুর্বলতাও উন্মোচিত করেছে।

তবে বিচারকরা রায় দেন যে, তাদের দোষী সাব্যস্ত করার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের উপস্থাপিত ফোনকলের রেকর্ডে দেখা যায়, বোমা হামলার সময় দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন।

দুই আসামির আইনজীবী জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিফা বিশ্বকাপ অফিসিয়াল অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হলেন সুনামগঞ্জের ফাইজা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ পি.এম


ফিফা বিশ্বকাপ অফিসিয়াল অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হলেন সুনামগঞ্জের ফাইজা

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর অফিসিয়াল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের রাড়ইল গ্রামের কৃতি সন্তান, মাশরাফি চৌধুরী ফাইজা।

ফাইজার এই সাফল্যের খবরটি নিশ্চিত করেছেন তার বাবা, কানাডাপ্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মুস্তাক আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, এটি তাদের পরিবারের জন্য একটি অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দিরাইসহ পুরো বাংলাদেশের জন্যও এটি একটি আনন্দের সংবাদ।

ফাইজা বর্তমানে কানাডার ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষার্থী এবং বিশ্বকাপ উপলক্ষে কানাডার টরন্টো শহরে আয়োজিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এসব আয়োজনে তিনি বিশ্বকাপ-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অতিথি, ক্রীড়া কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন, যা তার অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফাইজা কানাডায় বসবাসরত সুনামগঞ্জ সমিতির সহ-সভাপতি এবং টরন্টো দিরাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা মুস্তাক আহমেদ চৌধুরী ও সাবরিনা আক্তার জাহান চৌধুরীর মেয়ে। ছোটবেলা থেকেই ফাইজা ছিলেন মেধাবী ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন আত্মবিশ্বাসী তরুণ নেতা হিসেবে।

উল্লেখ্য, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই বিশ্বকাপের খেলা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যেখানে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে ফাইজার মতো মেধাবীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক বিবাদে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, নোয়াখালীতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


মাদক বিবাদে স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা, নোয়াখালীতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ

নোয়াখালীর সেনবাগে মাদক বিরোধকে কেন্দ্র করে আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্বজন ও এলাকাবাসী। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ মো. হারুন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে।  

বৃহস্পতিবার(১১ জুন) সন্ধায় নোয়াখালী-চট্টাগ্রাম মহাসড়কের চৌমুহনী কাচারী বাড়ি মসজিদের সামনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ মিছিল করে তারা। এ সময় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এর আগে, বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। গ্রেপ্তার হারুন সেনবাগের দেবিসিংহপুর গ্রামের জোড়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন নোবেল জানান, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘীর পেছনের একটি পোলের ওপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা চলত। পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হারুনের সম্পৃক্ততার কথা জানান। এরপর স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ওই এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ জানিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করেন। এতে কয়েকদিন ধরে সেখানে মাদকের আড্ডা বন্ধ ছিল।

তিনি আরও জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে আলী হায়দার ফাহিম (১৮), রিফাত (২০), সাকিবসহ কয়েকজন বায়তুন আমান মসজিদসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আলী হায়দার ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিমের নানার বাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামের বেলাল মাস্টার বাড়িতে। পাশাপাশি তার খালার বাড়িও রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় তিনি নিজ বাড়ি থেকে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে নানার বাড়ি থেকে খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে হাজেরা দিঘী এলাকায় একা পেয়ে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের, মমিনসহ ৭-৮জন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বিশেষ করে তার বাম পায়ে কুপিয়ে গুরুত্বর আঘাত করা হলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

নিহতের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে প্রথমে তার নানার বাড়িতে নেওয়া । সেখানে গোসল করিয়ে এলাকাবাসীকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে নিজ বাড়িতে নিয়ে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার আর কিছু বলার নেই। আমি আমার ছেলেকে আল্লাহর কাছে আমানত করে দিলাম।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, ওই স্কুলছাত্রের মরদেহ বাড়িতে আনার পথে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সন্ধ্যায় জানাজা শেষে মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।  

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাতির সাথে আইনি লড়াই ৮৯ বছরের বৃদ্ধার, অবশেষে ফিরে পেলেন তিন হেক্টর কৃষিজমি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


নাতির সাথে আইনি লড়াই ৮৯ বছরের বৃদ্ধার, অবশেষে ফিরে পেলেন তিন হেক্টর কৃষিজমি

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের লাতুর জেলার ৮৯ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা, যিনি তার নাতি ও প্রপৌত্রকে দেওয়া কৃষিজমির মালিকানা পুনরায় ফিরে পেয়েছেন, তিন হেক্টর জমি নিয়ে হাজির হন। ভূসম্পত্তি সম্পর্কিত একটি ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়ে জমি হস্তান্তরের দলিল (গিফট ডিড) বাতিল করে তার সম্পত্তির অধিকার পুনর্বহাল করেছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, বৃদ্ধা হৌসাবাই লাহাড়ে রাজ্যের লাতুর জেলার কাসরা গ্রামের প্রায় ৩ হেক্টর (সাড়ে সাত একর) কৃষিজমি একটি নিবন্ধিত গিফট ডিডের মাধ্যমে তার নাতি ও প্রপৌত্রের নামে লিখে দেন। বিনিময়ে, তারা বৃদ্ধার দেখাশোনা করে এবং বার্ধক্যে তাকে সহায়তা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

কিন্তু পরে ওই বিধবা নারী অভিযোগ করেন যে, নাতি ও প্রপৌত্র তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং তার যথাযথ ভরণপোষণ ও যত্ন নেয়নি। এরপর তিনি ২০০৭ সালের ‘মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার অব প্যারেন্টস অ্যান্ড সিনিয়র সিটিজেনস অ্যাক্ট’ আইনের অধীনে সিনিয়র সিটিজেন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন।

গত ১৮ মার্চ মাসে মামলায় রায় দেয় ট্রাইব্যুনাল। রায়ে উল্লেখ করে, যখন কোনো প্রবীণ ব্যক্তি তার সম্পত্তি যত্ন ও ভরণপোষণের শর্তে অন্যের কাছে হস্তান্তর করেন, তখন সেই দায়িত্ব শুধু নৈতিক নয়, আইনগতভাবেও বাধ্যতামূলক। ট্রাইব্যুনালের সভাপতিত্বকারী কর্মকর্তা রোহিনী নারহে-ভিরোল বলেন, গিফট ডিডের শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই দলিলটি বাতিল করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

যে কারণে রায়ে সংশ্লিষ্ট রাজস্ব কর্মকর্তাদের জমির নামজারি (মিউটেশন) সংক্রান্ত নথি বাতিল করার উপর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নিবন্ধিত গিফট ডিডও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে জমির ওপর বৃদ্ধার মালিকানা ও আইনগত অধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে।

ট্রাইব্যুনাল আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, বিতর্কিত সময়কালে জমি থেকে পাওয়া যেকোনো সরকারি ভর্তুকি, ফসল বীমার অর্থ, আর্থিক সুবিধা বা অন্য কোনো লাভ সুদসহ ফেরত দিতে হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে ওই সম্পত্তির ব্যবহারে কোনো বাধা বা হস্তক্ষেপ না করা হয়, তা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল জোর দিয়ে বলেছে, প্রবীণ ব্যক্তিদের সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিলে ভরণপোষণ ও যত্নের শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সিদ্ধান্তটি দেখিয়েছে যে, পরিবারের সদস্যদের যত্ন ও সহায়তার প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সম্পত্তি হস্তান্তর করা প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আইনে শক্তিশালী সুরক্ষা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%