ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সংঘর্ষে ফুটবলার হেসুস দে মিগেলের মৃত্যু, গোলরক্ষকের শাস্তি হতে পারে?


সংঘর্ষে ফুটবলার হেসুস দে মিগেলের মৃত্যু, গোলরক্ষকের শাস্তি হতে পারে?

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর টেনেরিফের ৩০ বছর বয়সী স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেলের মৃত্যু ঘটেছে, যা নিয়ে স্পেনের কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) ম্যাচ চলাকালে গোলরক্ষক হেসুস ওওনোর সঙ্গে সংঘর্ষের পর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ক্রীড়া-সংক্রান্ত শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হতে পারেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনির গোলরক্ষক।

এল পাইস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত হত্যার সম্ভাব্য অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে স্পেনের জাতীয় পুলিশ। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের হাইকোর্ট জানিয়েছে, অস্বাভাবিক কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত করা বাধ্যতামূলক। তবে এর মানে এই নয় যে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্পেনের দণ্ডবিধির ১৪২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গুরুতর অবহেলার কারণে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর ঘটনায় এক থেকে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। তুলনামূলক কম গুরুতর অবহেলার ক্ষেত্রে তিন থেকে ১৮ মাসের শাস্তির বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন: এবার জার্মানির ২৪ সদস্যের দল দিলেন ক্লপ

তবে তদন্ত শুরু হওয়া মানেই গোলরক্ষককে অবশ্যই অভিযুক্ত করা হবে কিংবা দোষী সাব্যস্ত করা হবে, এমন নয়। ফৌজদারি দায় নির্ধারণের জন্য প্রমাণ করতে হবে যে তার আচরণে আইনগতভাবে প্রাসঙ্গিক অবহেলা ছিল এবং সেই পরিণতি আগে থেকে অনুমান করা ও এড়ানো সম্ভব ছিল কি না।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই ঘটনার পরিণতি কী হতে পারে, তা এখনই অনুমান করা কঠিন। কারণ স্পেনে কোনো সংস্পর্শভিত্তিক খেলায় দুর্ঘটনাজনিত সংঘর্ষের কারণে একজন ফুটবলারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়ার নজির নেই।

কী শাস্তি হতে পারে গোলরক্ষক ওওনোর?

ক্রীড়াগত শাস্তির ক্ষেত্রে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১০২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, খেলা চলাকালে সহিংস আচরণের কারণে গুরুতর চোটের ঘটনা ঘটলে চার থেকে ১২ ম্যাচ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন: আইসিসির মাসসেরার মনোনয়নে সোবহানা মোস্তারি

ওই ম্যাচে গোলরক্ষক ওওনো লাল কার্ড দেখেছিলেন। ফলে তার বিরুদ্ধে এই ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের ওপর।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনার ভয়াবহ পরিণতির কারণে ২৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক সর্বোচ্চ ১২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেতে পারেন। তবে প্রতিপক্ষের মৃত্যুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির বিধান নেই। ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি ও গোলরক্ষকের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।

গোলরক্ষকের সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে আইনজীবীর বক্তব্য?

ক্রীড়া আইন বিশেষজ্ঞ মারিয়ানা গালভান ‘এস্তুডিও ফুটবল’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ওওনোর সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন: রোনালদোর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায়

তিনি বলেন, ‘এখানে তদন্তের তিনটি দিক রয়েছে, ক্রীড়াগত, ফৌজদারি এবং শ্রম আইনসংক্রান্ত। এর মধ্যে ফৌজদারি বিষয়টিই সবচেয়ে গুরুতর। ওওনোর পক্ষে একটি বিষয় রয়েছে, সেটি হলো সংঘর্ষের সময় বলটি খেলার মধ্যে ছিল। তবে এখনই এটিকে দুর্ঘটনা বলা যাচ্ছে না। গোলরক্ষকের কর্মকাণ্ড এবং ক্রীড়াগত দিকটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাই হোক, তদন্ত শুরু হয়েছে এবং নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে গোলরক্ষককে আদালতে হাজির হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের মৃত্যুর কোনো পূর্ববর্তী নজির নেই। এমন পরিস্থিতিতে আইএফএবের (আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত এবং এ ধরনের ঘটনার শাস্তি আরও কঠোর করা উচিত। ফুটবলাররা অনেক সময় পর্যাপ্ত সুরক্ষা পান না। মাথায় আঘাত একজন খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারে, আর এই ঘটনায় তা কেড়ে নিয়েছে একটি জীবন।’

গালভান আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘ফৌজদারি আইনে যেটিকে আমরা অবহেলা বলি, ফুটবলের ক্ষেত্রে সেটিকে বেপরোয়া আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তা সামান্য হোক কিংবা গুরুতর। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের একজন বিচারক ঘটনাটিকে সামান্য বেপরোয়া আচরণ হিসেবে দেখতে পারেন, কারণ তার বিবেচনায় এটি খেলার স্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটেছে। প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ওপরই ক্রীড়াগত শাস্তি এবং পরবর্তী নৈতিক মূল্যায়ন নির্ভর করবে।’

যেভাবে ঘটেছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা:

আরও পড়ুন: বিসিবিতে যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্তে রাশনা ইমামের নেতৃত্বে স্বাধীন কমিটি গঠন

হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ৯৭তম মিনিটে ঘটে এই দুর্ঘটনা। বলের দখল নিতে গোলপোস্ট ছেড়ে এগিয়ে আসেন ওওনো। এ সময় টেনেরিফের স্ট্রাইকার দে মিগেলের সঙ্গে তার ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের পর মাঠেই হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় দে মিগেলের। চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে তার হৃদ্‌স্পন্দন ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু পরদিন সকালে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন এই ফুটবলার।

ঘটনার পর রেফারি ওওনোকে লাল কার্ড দেখান এবং ম্যাচটি স্থগিত ঘোষণা করেন।

এদিকে পুরো ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ২৫ বছর বয়সী ইকুয়েটোরিয়াল গিনির গোলরক্ষক। দিয়ারি ডি'আন্দোরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, সতীর্থদের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে রাত কাটানোর সময় কেঁদেছেন এবং প্রার্থনা করেছেন তিনি। দে মিগেলের শারীরিক অবস্থার খবর পাওয়ার জন্য উদ্বিগ্নভাবে অপেক্ষা করছিলেন।

আরও পড়ুন: রাতে ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ, পরিসংখ্যানে এগিয়ে বাংলাদেশ

এ ছাড়া স্পোর্ত জানিয়েছে, নিহত ফুটবলারের পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ওওনো।

মর্মান্তিক এই ঘটনার পর এখন তদন্ত ও শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে স্প্যানিশ ফুটবল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যকে স্বাগত জানালেন মেয়র মামদানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৭ পি.এম


মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যকে স্বাগত জানালেন মেয়র মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। নিউইয়র্ক সিটি মেয়র জোহরান মামদানি ডেমোক্র্যাটদের এই সাফল্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তিনি এই সাফল্যকে ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নির্বাচনের রাতে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মামদানি বলেন, ‘আমরা আমাদের দলকে নতুন রূপ দেওয়ার কাজ শুরু করেছি, যাতে এটি আবারও শ্রমজীবী মানুষের দলে পরিণত হয়।’

সূত্র: আলজাজিরা

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হালুয়াঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


হালুয়াঘাটে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস

ময়মনসিংহ, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : গতকাল মঙ্গলবার জেলার হালুয়াঘাটে ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে।

এই দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক তেলিখালী স্মৃতিসৌধ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর ‘তেলিখালী দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মসূচি ঐতিহাসিক তেলিখালী স্মৃতিসৌধ চত্বরে পরিচালিত হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।

সভায় সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে তেলিখালীর ঐতিহাসিক যুদ্ধের তাৎপর্য এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বীরত্বগাঁথা তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়াও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান, গণকবর জিয়ারত, স্মৃতি বিজড়িত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় বীর শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, তেলিখালী যুদ্ধ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

এ সময় দিবসটি পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তেলিখালী যুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা এবং স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপজেলা প্রশাসন।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ৩ নভেম্বর ভারতীয় সীমান্তবর্তী তেলিখালীতে পাকিস্তানি সেনাদের শক্তিশালী ঘাঁটি দখলমুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ১২৪ সদস্য এবং তাদের সহযোগী শতাধিক রাজাকার ও আলবদরসহ মোট ২৩৪ জন নিহত হন। এই ঘটনায় ৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর ২১ জন সদস্য যুদ্ধে শহীদ হন বলে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।

এ কারণে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়।

প্রতিবছর ৩ নভেম্বর দিনটি ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিরাজগঞ্জে সড়ক দখল করে ওয়ার্কশপ, যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


সিরাজগঞ্জে সড়ক দখল করে ওয়ার্কশপ, যানজটে যাত্রীদের ভোগান্তি

সিরাজগঞ্জ শহর থেকে যানচলাচলের সুবিধার্থে যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের মুলিবাড়ি থেকে নলকা পর্যন্ত ২ লেনের সড়ককে ৪ লেন করে সড়ক বিভাগ। যদিও বাজার স্টেশন থেকে বাস কাউন্টারগুলো সরিয়ে নেয়া হয়েছে, তবুও কাটওয়াবদা থেকে বিভিন্ন স্থানে সড়ক দখল করে ট্রাক, সিএনজি ও অটো স্ট্যান্ড, গাড়ি মেরাতমের ওয়ার্কশপ গড়ে ওঠায় প্রায়ই সড়ক জুড়ে যানজট লেগেই থাকছে। এই পথে চলাচলকারী যাত্রী ও স্থানীয়দের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

জেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এম এ অয়াহাব জানান, "ইতোমধ্যে আমাদের নির্ধারিত একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসক। সেটি দ্রুত বাস্তবায়ন হলে আমরা সকল ট্রাক রাস্তা থেকে সরিয়ে টার্মিনালে রাখবো।" তিনি প্রশাসনের সহায়তার দাবি জানান সড়ক থেকে ট্রাক সরাতে।

জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, "সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বাসের মতো সকল যানবাহনের টার্মিনাল সড়ক থেকে সরানো কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।"

যমুনা সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের মুলিবাড়ি মোড় থেকে নলকা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণের প্রকল্প ব্যয় ধরা হয় প্রায় ৩১৬ কোটি টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে ক্রিকেট সুখের খোঁজে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় টেস্টের প্রস্তুতি চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:১৯ পি.এম


সিলেটে ক্রিকেট সুখের খোঁজে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় টেস্টের প্রস্তুতি চলছে

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রবেশ করার পর চারপাশের দৃশ্য দেখে সবাই প্রথমে ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। চারদিকের মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ যে কারো মনকে আনন্দিত করে তুলবে। সিরিজে ১-০তে এগিয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের মধ্যে এই আনন্দের ছোঁয়া কিছুটা বেশি দেখা গেছে। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের ধাঁচ দেখে একটি শব্দই মনে হলো, সিরিয়াসনেস!

মঙ্গলবার সিলেটের সবুজ মাঠে দুই দলের অনুশীলনের দৃশ্য ছিল ভিন্ন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবিরে হাসি-আনন্দের অভাব নেই। প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি সবচেয়ে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন। কখনো শিষ্যদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা, কখনো খুনসুটি। দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা তার ভঙ্গি যেন আরেকটি জয়ের আগাম ঘোষণা!

অন্যদিকে, বাংলাদেশের অনুশীলনে চাপের ছাপ স্পষ্ট ছিল। প্রত্যেকের চোখে-মুখে ব্যর্থতা ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর তাগিদ দেখা গেছে। সিলেটে বাংলাদেশের চাওয়া একটাইÑ ঢাকার দুঃখ ভুলে ক্রিকেটের সুখ খুঁজে পাওয়া।

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট খেলতে বর্তমানে সিলেটে দুই দল অবস্থান করছে। আগামী ৫ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে। সিরিজ শুরুর আগে আলোচনায় ছিল বাংলাদেশের ফেভারিট তকমা। কিন্তু মিরপুরের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সেই হিসাব পাল্টে দিয়েছে। আট উইকেটের বড় জয়ে সিরিজে এগিয়ে এখন অতিথিরা। সিলেটেও জিতে সিরিজ ২-০ করার স্বপ্ন দেখছে তারা। বাংলাদেশের সামনে অবশ্য সমীকরণ পরিষ্কার। জিততেই হবে। নইলে দেশের মাটিতে আরেকটি টেস্ট সিরিজ হারানোর তিক্ত অভিজ্ঞতা সঙ্গী হবে।

ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—কোনো বিভাগেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের সেঞ্চুরি ছাড়া ব্যাটিংয়ে উল্লেখ করার মতো কিছু ছিল না। ২৭২ রানে শেষ হয় প্রথম ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে আরো বিপর্যয় ঘটে। মাত্র ১৪৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। নাঈম হাসান লোয়ার অর্ডারে হাফ সেঞ্চুরি না করলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারত। ব্যাটারদের এমন ব্যর্থতায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে।

সিলেটে ঘুরে দাঁড়াতে হলে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে দায়িত্বশীলতা দেখাতে হবে। টপ অর্ডারকে শক্ত ভিত দিতে হবে। ভালো শুরু পেয়েও উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার পুরোনো রোগ ছাড়তে হবে। মিডল অর্ডারকে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু উইকেটে টিকে থাকলেই হবে না, রানও তুলতে হবে। প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ার বিকল্প নেই। অন্তত ৪০০ রানের কাছাকাছি পুঁজি পেলে বোলাররাও লড়াই করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে মনোযোগ বাড়াতে হবে। ক্যাচ ফেলে কিংবা সহজ রান বিলিয়ে দিয়ে টেস্ট জেতা যায় না।

মুশফিকুর রহিমের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি। ইনজুরি কাটিয়ে এই অভিজ্ঞ ব্যাটারের ফিরে আসা দলের ব্যাটিংয়ে বাড়তি শক্তি যোগাবে। তবে মুমিনুল হকের ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়া বড় ধাক্কা। তার অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডারে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে অন্যদের। অভিজ্ঞতার ঘাটতি যেন পারফরম্যান্সে প্রভাব না ফেলেÑ সেটাও নিশ্চিত করতে হবে।

মিরপুরে স্পিননির্ভর উইকেট বানিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের ফাঁদে পড়েছিল। প্রতিপক্ষকে স্পিনে ঘায়েল করার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত উল্টো বাংলাদেশের জন্য বিপদ ডেকে আনে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা বরং বাংলাদেশের স্পিনারদের চেয়ে বেশি কার্যকর ছিলেন। সিলেটে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা যাবে না। উইকেট বুঝে বোলিং পরিকল্পনা সাজাতে হবে। স্পিনারদের পাশাপাশি পেসারদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু টার্নের অপেক্ষায় না থেকে লাইন-লেংথ ও নিয়ন্ত্রণ দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হবে।

সিলেটের উইকেট নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন এ টেস্টে দলে আসা অমিত হাসান। তিনি বলেন, "এখন পর্যন্ত যা দেখছি, তাতে ঘাসের উইকেটই মনে হচ্ছে। এখনো টেস্ট শুরুর এক-দুদিন বাকি আছে, দেখা যাক। এখানে এনসিএলে শেষ দুই ম্যাচে ভিন্নরকমের উইকেট ছিল, এখন আরেকরকম। এক-দুদিন পর বোঝা যাবে উইকেট কেমন।"

মুমিনুল হকের বদলি হিসেবে দলে এসেছেন অমিত। ম্যাচে তাই মুমিনুলের অভাবটা পূরণ করতে চান জানিয়ে অমিত বলেন, "মুমিনুল ভাই দুর্ভাগ্যজনকভাবে কনকাশনের কারণে দলে নেই। আমার যদি খেলার সুযোগ আসে, তাহলে চেষ্টা করব প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে যেভাবে বা যে প্রক্রিয়ায় খেলে আসছি, সেভাবেই খেলার।"

প্রথম টেস্ট জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এখন আত্মবিশ্বাসী। তাদের চোখ সিরিজ জয়ের দিকে। স্যামির দলের অনুশীলনে সেই আত্মবিশ্বাসের ছাপও স্পষ্ট। বাংলাদেশের জন্য কাজটা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। নিজেদের ভুল শুধরে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারলেই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

ঢাকায় বাংলাদেশ হেরেছে আট উইকেটে। সেই হারের ক্ষত এখনো নিশ্চয়ই তাজা। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেটে একটি পরাজয়ই শেষ কথা নয়। সিলেটে নতুন পরীক্ষা, নতুন লড়াই। এবার আর অজুহাত নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেই জবাব দিতে হবে বাংলাদেশকে। ক্রিকেট সুখের খোঁজে সিলেটে এসেছে দল। সেই সুখ খুঁজে পেতে হলে ব্যাটে-বলে ফিরতে হবে পুরোনো বাংলাদেশকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%