১২:১৮ পি.এম
ময়মনসিংহ, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : গতকাল মঙ্গলবার জেলার হালুয়াঘাটে ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়েছে।
এই দিবস উপলক্ষে ঐতিহাসিক তেলিখালী স্মৃতিসৌধ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এরপর ‘তেলিখালী দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মসূচি ঐতিহাসিক তেলিখালী স্মৃতিসৌধ চত্বরে পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গাইবান্ধার স্মৃতি খাতুনের সাফল্য
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে তেলিখালীর ঐতিহাসিক যুদ্ধের তাৎপর্য এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বীরত্বগাঁথা তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ওয়াকফের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ
এছাড়াও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান, গণকবর জিয়ারত, স্মৃতি বিজড়িত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় বীর শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, তেলিখালী যুদ্ধ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
এ সময় দিবসটি পালনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে তেলিখালী যুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা এবং স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দেয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপজেলা প্রশাসন।
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ৩ নভেম্বর ভারতীয় সীমান্তবর্তী তেলিখালীতে পাকিস্তানি সেনাদের শক্তিশালী ঘাঁটি দখলমুক্ত করতে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ১২৪ সদস্য এবং তাদের সহযোগী শতাধিক রাজাকার ও আলবদরসহ মোট ২৩৪ জন নিহত হন। এই ঘটনায় ৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর ২১ জন সদস্য যুদ্ধে শহীদ হন বলে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
এ কারণে দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্র বাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়।
প্রতিবছর ৩ নভেম্বর দিনটি ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন