মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৫:৫৩ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ন্যায়বিচারের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা তথা মানবাধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রত্যেক মানুষের কিছু অবিচ্ছেদ্য, সহজাত এবং সর্বজনীন অধিকার রয়েছে। নাগরিকদের যাতে এসব অধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ থাকে, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
শনিবার সকালে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ব্র্যাক-সিডিএম-এর আয়োজনে বিচারক, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে ‘এক্সিলারেটিং ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সার্ভিস ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের দুই দিনব্যাপী সমন্বয় সভার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেছেন, ন্যায়বিচারের প্রবেশাধিকার কোনো বিরোধ নিষ্পত্তি কিংবা মধ্যস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার মূল লক্ষ্য হলো প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। এমনকি গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিরও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে, এবং রাষ্ট্রকে সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বিচারককে আইনের কালো অক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। মামলার বাস্তবতা, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য মাথায় রেখে আইনকে ব্যাখ্যা করা উচিত। বিচারিক কর্মকর্তাদের মূলত জনগণের সেবা করতে হবে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে ৪৫ লাখেরও বেশি বিচারাধীন মামলা রয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই মামলা সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর লক্ষ্য রয়েছে। এই লক্ষ্যে লিগ্যাল এইড, মধ্যস্থতা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও বিচারিক কার্যক্রমের সমন্বিত ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাটিতে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসাইন সভাপতিত্ব করেন। সভায় ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র রুল অব ল, জাস্টিস অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার রোমানা শোয়েগার, বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বাইবা জারিনা এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা ও অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একদিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটে আবারও উৎপাদন শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা ৪৩ মিনিটে ইউনিটটি পুনরায় চালু করা হয়।
বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ইউনিটটি ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। তবে, এই ইউনিটটির দ্রুত সংস্কার এখন জরুরি। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এক নম্বর ইউনিটটিতে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ২০২০ সালে ইউনিটটি ওভারহোলিং (নতুনকরণ বা সংস্কার) করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সেটি এখনও সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত এর ওভারহোলিং প্রয়োজন।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে এক নম্বর ইউনিট থেকে ৫০ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ইউনিটটির একটি পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়, যার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে ত্রুটি মেরামত করা শেষে শনিবার সকালে আবার উৎপাদন শুরু হয়েছে।
এছাড়া উল্লেখযোগ্য যে, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে তিন নম্বর ইউনিটটি বর্তমানে চালু রয়েছে। এ ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ১৬০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কেন্দ্রের দুই নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে। ফলে, বর্তমানে এক ও তিন নম্বর ইউনিটের উৎপাদন দিয়েই কেন্দ্রটি জাতীয় গ্রিডে ২৩০ থেকে ২৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৯০০ কর্মীকে জুম কলে ছাঁটাই করে একসময় আলোচনায় আসা বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্সের সিইও বিশাল গর্গ এখন নিজেই চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিশাল অভিযোগ করেছেন যে, তাকে প্রতারণা করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ৩ আগস্ট বিশাল গর্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং তাঁর জায়গায় দায়িত্ব নেন ড্যানিয়েল লুইস। বিশালের অভিযোগ, লুইস শুরুতেই কোম্পানির ব্যবসায়িক কৌশলকে প্রশংসা করে তাঁর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে বোর্ডে যোগ দেওয়ার পর এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি নিজেই সিইও পদে বসেন।
বিশালের ভাষ্য, লুইস চেয়েছিলেন সিইও হতে। তিনি বলেন, লুইস বিভিন্ন পরামর্শের আড়ালে তাঁকে বোর্ডে জায়গা দিতে রাজি করাতে চেষ্টা করছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি অন্যদিকে মোড় নেয়।
২০২১ সালে একটি জুম কলে একসঙ্গে ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে বিশাল ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এরপর বাধ্যতামূলক ছুটি, হুইসেলব্লোয়ারের মামলা, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের তদন্ত এবং ২০২৩ সালে এসপিএসি মার্জারের ব্যর্থতার ফলে বেটার চাপে পড়ে।
মহামারির সময় মর্টগেজ রেট ৩ শতাংশের নিচে নেমে গেলে রিফাইন্যান্সিং ব্যবসায় বড় উত্থান হয়। ওই সময় বেটারের বাজারমূল্য ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। পরে রিফাইন্যান্সিং ব্যবসা দুর্বল হয়ে পড়লে কোম্পানির বাজারমূল্য নেমে আসে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে।
বিশালের মতে, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও বেটার ঘুরে দাঁড়ানোর পথে ছিল। ২০২১ সালে কোম্পানির বার্ষিক বিক্রি ১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার ছিল। ২০২৩ সালে তা কমে ৭০ মিলিয়ন ডলারে নেমে যায়, তবে এ বছর বিক্রি ২০০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পথে ছিল।
বিশাল জানিয়েছেন, এআই ব্যবহার করে মর্টগেজ প্রক্রিয়া দ্রুত করার উদ্যোগ ফল দিতে শুরু করেছিল। তাঁর দাবি, উৎপাদনশীলতা দ্বিগুণ এবং ঋণ দেওয়ার প্রাথমিক ব্যয় ৫০ শতাংশ কমেছিল। ইনটুইট, কয়েনবেস ও ওপেনএআইয়ের মতো কোম্পানি এবছর বেটারের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে বলে জানান তিনি।
বিশাল বলেন, তারা ঋণের পরিমাণ তিনগুণ বাড়িয়েছিলেন এবং লাভের মুখ দেখার কাছাকাছি পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিলেন।
গত ২৭ জুলাই লুইসকে কোম্পানির বোর্ডে আনা হয় এবং তাঁর প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলেছেন বিশাল। লুইস ৪ আগস্ট এক্সে বিশাল সম্পর্কে লিখেছিলেন, ‘বিশাল ছাড়া বেটারের অস্তিত্ব ছিল না। এ কাজের জন্য সম্মান প্রাপ্য।’
তবে মন্তব্যের জন্য লুইস ও বেটারের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। বিশাল সিইও পদ ফিরে পেতে বিখ্যাত আইনজীবী অ্যালেক্স স্পিরোকে নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি সোমবার বোর্ডকে চিঠি দিয়ে সিইও পদ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশাল দাবি করেন, তাঁর হাতে বিশেষ ভোটিং ক্ষমতাসম্পন্ন ক্লাস বি শেয়ার রয়েছে এবং পুরোনো বিনিয়োগকারীদের কিছু শেয়ারও তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, সিইও পদ ফিরে পাওয়ার মতো যথেষ্ট ভোট তাঁর কাছে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কোম্পানি আবার লাভের মুখ না দেখা পর্যন্ত বছরে মাত্র ১ ডলার বেতনে কাজ করবেন এবং এরপর নিজেই সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। বিশাল স্বীকার করেছেন, গত ১০ বছরের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর কাজ সবসময় নিখুঁত ছিল না। তবুও তাঁর বিশ্বাস, বেটারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) জোহরের নামাজের পর এই দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাতে বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত, কবরের শান্তি এবং পরকালীন জীবনে মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত কামনা করা হয়। তার জীবনের ভুলত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করার জন্যও দোয়া করা হয়।
এছাড়া, দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি, সার্বভৌমত্ব ও কল্যাণ এবং বাংলাদেশের মানুষের সুখ-শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সৃষ্টিকর্তার রহমত কামনা করা হয়।
মোনাজাতের অনুষ্ঠানে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ইমাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুসল্লি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মুফতি মহিউদ্দিন কাসেম। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত, কবরের শান্তি ও পরকালীন জীবনে মহান আল্লাহর রহমত কামনা করেন।
এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্য, স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্যও দোয়া করা হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ