০৯:১৪ পি.এম
দেশের রপ্তানি খাতের ভিত্তি সম্প্রসারণের পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে, বাংলাদেশ ব্যাংক ৩ হাজার কোটি টাকার ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ চালু করেছে।
এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন রবিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগ প্রকাশ করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে উদ্ভূত পণ্য ও বাজারকেন্দ্রিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতগুলোর বিকাশে সহায়তার জন্য এ স্কিম প্রবর্তন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিকালে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য দ্বারা এ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হবে, যা একটি ঘূর্ণায়মান (রিভলভিং) তহবিল হিসেবে পরিচালিত হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (পিএফআই) জন্য ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, রপ্তানিকারকরা সর্বাধিক ৭ শতাংশ সুদে অর্থায়ন পাবেন।
এই সুবিধার মেয়াদ তিন বছর ঠিক করা হয়েছে, যার মধ্যে ছয় মাসের একটি গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। সুদ কমতি স্থিতি (রিডিউসিং ব্যালেন্স) পদ্ধতিতে হিসাব করা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এই স্কিমের মাধ্যমে রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানো, বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নয়ন এবং অপ্রচলিত রপ্তানি খাত সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
আরও পড়ুন: নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, এগিয়ে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি
রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ অনুযায়ী, ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ ও ‘বিশেষ উন্নয়ন’ খাতভুক্ত শিল্পগুলো এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন সুবিধা লাভ করবে।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কাঁচামাল ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং পাট ও চামড়া খাতকে রপ্তানি বহুমুখীকরণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) প্রতিবেদনে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত রপ্তানিকারক, দেশে রপ্তানি আয় আনতে বকেয়া রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এবং ঋণ অবলোপনের (রাইট-অফ) ইতিহাস রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার আওতায় আসতে পারবে না।
স্কিমে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থায়ন বিভাগের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি (পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর করতে হবে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর সামনে মাথা উঁচু করে কথা বলেছি : ইশরাক
ইসলামী ব্যাংকগুলোও শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে এ স্কিমের আওতায় অর্থায়ন করতে পারবে, তবে তাদের স্কিমের সুদহার ও মেয়াদসংক্রান্ত শর্ত মেনে চলতে হবে।
পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পেতে প্রতিটি অর্থ বিতরণের ৯০ দিনের মধ্যে নথিপত্রসহ আবেদন করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে ডিমান্ড প্রমিসরি নোট, লেটার অব কন্টিনিউটি, ডেবিট অথরিটি লেটার এবং হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন।
এ স্কিমের আওতাধীন সব বিনিয়োগে ন্যূনতম ঋণ-ইকুইটি অনুপাত ৭০:৩০ বজায় রাখতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সদস্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর কঠোর তদারকি এবং জবাবদিহি ব্যবস্থা চালু করেছে। অংশগ্রহণকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি প্রান্তিক শেষে ১৫ দিনের মধ্যে ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।
আরও পড়ুন: বৈধ-অবৈধ পথে আসছে স্বর্ণের বার, গন্তব্য কোথায়?
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য দিলে বা তহবিলের অপব্যবহার করলে, পুনঃঅর্থায়নের স্বাভাবিক সুদের অতিরিক্ত ৫ শতাংশ জরিমানা সুদ আরোপ করা হবে।
জরিমানার অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে সরাসরি আদায় করা হবে।
এছাড়া, কোনো ঋণগ্রহীতা খেলাপি হলে, সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ ব্যাংক এককালীন কর্তনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চলতি হিসাব থেকে সম্পূর্ণ বকেয়া পুনঃঅর্থায়নের অর্থ আদায় করতে পারবে।
আরও পড়ুন: গাজায় ভারি বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে শত শত তাঁবু প্লাবিত, দুর্ভোগ চরমে
১৯৯১ সালের ব্যাংক কোম্পানি আইন (২০২৩ সালে সংশোধিত) এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে এই স্কিম চালু করা হয়েছে এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন