০৬:২৯ পি.এম
জুনের মাঝামাঝি সময়ে হামের প্রকোপ কমে আশার সম্ভাবনা রয়েছে, এমন তথ্য দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, কিছু ধাপে টিকার ডোজ দেয়ার ফলে প্রকৃত সুফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, যা প্রায় দেড় মাসের মতো হতে পারে। যদিও হামে আক্রান্ত হওয়ার পর মৃত্যুর সংখ্যা আগের তুলনায় কমছে, তথাপি প্রতিদিনই শরীরে র্যাশ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিশুরা।
হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর, সারা দেশে হাম প্রতিরোধে টিকার কার্যক্রম চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে লক্ষ্যমাত্রার থেকে অধিক সংখ্যক শিশুদের টিকার আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, মৃত্যুর সংখ্যা এবং হামে আক্রান্তদের সংখ্যা কমছে না। প্রতিদিন হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে রোগীরা হাসপাতাল ফিরছেন। চিকিৎসকরা জানান, শিশুদের শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে কিছুটা সময় প্রয়োজন। তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে হামের প্রকোপ কিছুটা কমে আসবে বলে ধারণা তাদের।
আরও পড়ুন: নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় উইমেন স্কোয়াডের বিশেষ সেশন
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) বেসিক ও প্যারা ক্লিনিকাল সাইন্স বিভাগের ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী জানিয়েছেন, ‘প্রথম ধাপে যাদের টিকা দেয়া হয়েছে, তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে হয়তো এক-দেড় মাস সময় লাগবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপেও একইভাবে একই সময় লাগবে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘হামের প্রকোপ কমানোর জন্য ৯৫ শতাংশ শিশুকে ইউমিনিটি পেতে হবে। আশা করি জুনের প্রথম সপ্তাহ কিংবা দ্বিতীয় সপ্তাহে কার্যকারিতা পাবে।’
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১১৩৬ শিশু সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭০৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে হামে আক্রান্ত একজন শিশু এবং উপসর্গে তিন শিশু মারা গেছে। একদিনের ভিতর হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২০৫ শিশু।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০৫ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৬৯ শিশু। মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৬০ জনে।
এছাড়া, সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬১ হাজার ১৯৪ জন। একই সময়ে ৫৭ হাজার ১৪২ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫১৪ জনের। এছাড়া নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মারা গেছে ৯১ জন।
আরও পড়ুন: অ্যান্ডোক্রাইনোলজির জন্য জাতীয় ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন