ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে প্রসিকিউশন, ন্যায়বিচারের প্রহর গুনছে কুষ্টিয়ার শহীদ পরিবারগুলো


ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে প্রসিকিউশন, ন্যায়বিচারের প্রহর গুনছে কুষ্টিয়ার শহীদ পরিবারগুলো

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড বৃদ্ধি করার জন্য চলতি সপ্তাহে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রসিকিউশন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে। তবে প্রসিকিউশনের প্রত্যাশা অনুযায়ী সাজা সন্তোষজনক না হওয়ায় তা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই আপিল আবেদন দাখিল করা হবে।

গত ৩০ জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। একই সঙ্গে দুটি অভিযোগের জন্য ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের পথে?

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, প্রসিকিউশনের আনা আটটি সুনির্দিষ্ট মূল অভিযোগের মধ্যে ৩ নম্বর অভিযোগে ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং প্রতিটিতে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। যদিও পৃথক অভিযোগে দণ্ড দেওয়া হলেও সাজা একই সঙ্গে চলায় তাকে মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। অন্যদিকে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে বিচারক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। শুনানি শেষে ২ নভেম্বর আটটি অভিযোগে ইনুর বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলায় ৩০ নভেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পর ১ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ১০ জন সাক্ষী আদালতে জবানবন্দি দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন দুজন। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২২ জুন রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয় এবং ৩০ জুন এই রায় ঘোষণা করা হয়।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া শহরে পুলিশ ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র সদস্যদের গুলিতে নিহত ৬ জনের পরিবার আজও স্বজন হারানোর বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য অপেক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সাজা বাড়ানোর আপিল প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন: অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন ও উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী এবং চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, ইনুর প্ররোচনা ও সরাসরি নির্দেশে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল। ট্রাইব্যুনাল যে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন, তা নিহত পরিবারগুলোর কষ্টের তুলনায় অপ্রতুল। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সাজা বাড়ানোর যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেখানে তাঁরা ইনুর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনী কলেজ ছাত্রদলকর্মীকে পিটিয়ে জখম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেনী প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৮ পি.এম


ফেনী কলেজ ছাত্রদলকর্মীকে পিটিয়ে জখম

অভ্যন্তরীণ 'বিরোধের জেরে' মো. তাসফিক সোয়ালেহিন (১৯) নামে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের এক কর্মীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কলেজ গেট এলাকায় ২০-৩০ জনের একটি দল তার উপর হামলা করে। তবে এই ঘটনাটিকে দলীয় কোন্দল নয়, ব্যক্তিগত বিরোধ বলে দাবি করছেন কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাসফিক সোয়ালেহিন ফেনী কলেজ ছাত্রদলের একজন কর্মী। তিনি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি নোমানুল হক নোমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রোববার দুপুরে কলেজে পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাওয়ার জন্য গেটে এলে আবির ও আদিত্যর নেতৃত্ব ২০-৩০ জনের একটি দল তাকে অতর্কিতভাবে মারধর করে আহত করে। পরে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। এই ঘটনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কলেজ সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে বিরোধের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসে।
এ বিষয়ে আহত মো. তাসফিক সোয়ালেহিন বলেন, আমি পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় ২০ থেকে ৩০ জন এসে আমার উপর হামলা চালায়। তবে তাদের বেশিরভাগই অপরিচিত। এর মধ্যে আবির ও আদিত্য নামে দুইজনকে আমি চিনি। হামলাকারীদের বেশিরভাগকেই কলেজ ছাত্রদলে কোনদিন দেখিনি। তাদের হামলায় আমার মাথার পেছনে আঘাত লাগে, পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। তার উপর কেন হামলা করা হয়েছে এ ব্যাপারে কিছু জানেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, কলেজের বাইরের কোন বিষয়ের সাথে আমি জড়িত নই। আমি শুধুমাত্র ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান রনি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনা কলেজ ছাত্রদলের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, একাডেমি ও ফেনী সেন্টার কেন্দ্রিক দুটি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুই গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিরোধে গড়ায়। সেটিকে কেন্দ্র করে রেলগেট এলাকায় একজনের ওপর হামলা করা হয়। ওই ঘটনার জেরে গতকাল কলেজের এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলায় একজন গুরুতর আহত হলে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।
অন্যদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি নোমানুল হক নোমানও ঘটনাটিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নয় বলে দাবি করে বলেন, আমি দুপুরে কলেজে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এখানে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধ নেই। তিনি আরও বলেন, কলেজ ছাত্রদল শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি, তবে এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোসেনপুরে আমন মাঠে সবুজের সমারোহ,সোনালী স্বপ্নে বিভোর কৃষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:০৯ পি.এম


হোসেনপুরে আমন মাঠে সবুজের সমারোহ,সোনালী স্বপ্নে বিভোর কৃষক

 

শরতের নীল আকাশের নিচে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমনের সবুজ সমারোহ।যেদিকে দু চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ, উপজেলার মাঠ জুড়ে যেন সবুজ গালিচায় মোড়ানো, এই গালিচায় মিশে আছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন।পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের লেখাপড়াসহ যাবতীয় খরচের যোগানদাতা এই ফসলের মাঠ।আর মাত্র মাসখানেক পরেই ধানের গোলা ভরে উঠবে সোনালী ফসলে এমন ভাবনায় দিন রাত নানান স্বপ্নে বিভোর তারা।

‎রবিবার সরেজমিনে উপজেলার মাঠগুলি ঘুরে দেখা যায়, ধানের শীষে দানা আসতে শুরু করায় ভালো ফলনের প্রত্যাশায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তবে মাঠপর্যায়ে আরও পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চান তারা।

‎উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে,

‎চলতি মৌসুমে হোসেনপুরের ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌর এলাকায় আট হাজার ২৫১ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩ থেকে ৩৭ হাজার মেট্রিক টন।

‎ধানের অবস্থা ভালো থাকলেও কোথাও কোথাও ইঁদুরের ক্ষতির পাশাপাশি দেখা দিয়েছে পোকার আক্রমণ।

‎‎সিদলা ইউনিয়নের গড় মাসুয়া গ্রামের সফির উদ্দিন ও কোনা মেছেরা গ্রামের রুবেল মিয়া জানান, পোকার আক্রমণে তাদের ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ায় ভালো ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।

‎‎অন্যদিকে, গোবিন্দপুর গ্রামের সোহরাব উদ্দিন এবং জিনারী ইউনিয়নের পিপলা কান্দি গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, কিছু জমিতে ইঁদুরের ক্ষতি হলেও এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারলে আমনের ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন তারা।

‎কৃষকদের মতে, সময়মতো তেল, সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হলে চাষাবাদ আরও নির্বিঘ্ন হবে।

‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলছেন, আমনের ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

‎ইঁদুর ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় জমির আইল ও আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখা, পার্চিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎“রাঙামাটিতে ১০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎স্টাফ রিপোর্টার, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:১৩ পি.এম


‎“রাঙামাটিতে ১০ শতক জমি নিয়ে বিরোধ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের চার্জশিট”

‎‎রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার রাঙ্গাপানি মৌজায় ১০ শতক জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের ঘটনায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। জমি দখল, প্রতারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে তদন্তকারী পুলিশ।
‎
‎রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের ৮৪ নম্বর অভিযোগপত্রে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর একই দিন অভিযোগপত্রটি আদালতে দাখিল করা হয়।
‎
‎মামলার এজাহার ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ১০২ নম্বর রাঙ্গাপানি মৌজার ৩৩৮১ নম্বর দাগে ৪ শতক এবং ৩৩৮৩ নম্বর দাগে ৬ শতক—মোট ১০ শতক জমি মৃত মো. আবু তাহেরের নামে রেকর্ডভুক্ত। মিউটেশন মামলা নম্বর ২৫৭/১৯৮৪-৮৫-এর মাধ্যমে তিনি ওই জমির মালিকানা লাভ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
‎
‎জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার তদন্ত প্রতিবেদনেও জমাবন্দিতে ওই জমির রেকর্ড সঠিক এবং জমিটি ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের ভূমি উন্নয়ন কর ছাড়া ওই জমিতে সরকারের অন্য কোনো স্বত্ব বা স্বার্থ নেই।
‎
‎নথি অনুযায়ী, মো. আবু তাহের ২০১৬ সালের ২ ডিসেম্বর মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা জমিটির মালিকানা দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত মালিকানা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন ব্যক্তি জমিটিকে খাস জমি হিসেবে দেখিয়ে বিভিন্ন হলফনামা ও কাগজপত্র তৈরি করেন এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো জমির মালিকানার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্যবহার করেন।
‎
‎পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মো. ছিদ্দিককে বিক্রেতা এবং চম্পা বেগমকে ক্রেতা দেখিয়ে ২০১০ সালের ৩১ আগস্ট ১৭৮/২০১০ নম্বর একটি হলফনামা তৈরি করা হয়। পরবর্তী সময়ে চম্পা বেগম চার শতক জমিকে খাস জমি হিসেবে দাবি করে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও পৌর হোল্ডিং গ্রহণ করেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎এ ছাড়া সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই জমি অন্যদের কাছে বিক্রি ও দখল হস্তান্তরের অভিযোগের কথাও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
‎
‎জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রতিবেদনে মৃত আবু তাহেরের নামে ১০ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তে উল্লেখ করা ১০টি বিদ্যুৎ মিটারের মধ্যে চম্পা বেগম, আব্দুল খালেক ও সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমের সংযোগের ক্ষেত্রে ভূমির মালিকানা বা ব্যবহারকারীর পক্ষে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। পরে কোতয়ালী থানার সহায়তায় ওই তিনটি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
‎
‎বাকি সাতজন গ্রাহকের মালিকানা-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র চাওয়া হলে তাঁরা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের শরণাপন্ন হন। তাঁদের বিষয়ে আদালতে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বিউবোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎
‎এদিকে মৃত আবু তাহেরের ওয়ারিশদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউই ওই জমির বৈধ মালিক নন এবং তাঁদের কাছে মালিকানার বৈধ কাগজপত্রও নেই। তাঁদের প্রশ্ন, মালিকানা-সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে পৌর হোল্ডিং ও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হলো।
‎
‎ওয়ারিশদের আরও অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর চম্পা বেগম নিজেকে রাঙ্গামাটি সদর থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ড জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী পরিচয় দিয়ে তাঁর ও তাঁর স্বামীর নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে হুমকি ও হয়রানি করছেন।
‎
‎তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চম্পা বেগম। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ২০১০ সালে মো. ছিদ্দিকের কাছ থেকে চার শতক খাস জমি কিনে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। তাঁর কাছে খাস জমি ক্রয়ের কাগজ ছাড়া অন্য কোনো কাগজপত্র নেই। তিনি দাবি করেন, ওই জমির মালিক মৃত মো. আবু তাহের নন।
‎
‎চম্পা বেগম আরও বলেন, জায়গাটি কোনো কারণে ছেড়ে দিতে হলে তিনি ছেড়ে দেবেন বলেও জানান।” মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না দাবি করে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
‎
‎পুলিশের তদন্ত শেষে মো. ছিদ্দিক, চম্পা বেগম, আব্দুল খালেক, আব্দুল জলিল, তৈয়বা বেগম ওরফে তৈয়বা খাতুন, সাইদা বেগম ওরফে শাহিদা বেগমসহ মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
‎
‎তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে জমিতে প্রবেশ, জমি দখল, প্রতারণা, জাল কাগজপত্র তৈরি ও ব্যবহার এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে পুলিশ। বর্তমানে মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মগধরা ইউনিয়নের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সন্দ্বীপ(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৩ পি.এম


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মগধরা ইউনিয়নের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে — অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার বায়তুলমাল সেক্রেটারি অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী বলেছেন, অন্যায়, অসত্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে বিজয়ী করতে হলে নেতা-কর্মীদের দক্ষ, সৎ, জ্ঞানী, যোগ্য ও আদর্শিক জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান কোনো জনশক্তিকে কোনো অপশক্তি নস্যাৎ করতে পারে না। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মগধরা ইউনিয়ন আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মগধরা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ছায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আলাউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জনশক্তিকে শুধু সাংগঠনিক কর্মী হলে চলবে না। তাদের কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান, তাকওয়া, আমল-আখলাক, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। একজন রুকনকে নিজের জীবনকে ইসলামী আদর্শের বাস্তব নমুনা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিজীবনে আল্লাহভীতি, সততা, আমানতদারি ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রথম দায়িত্ব নিজেদের সংশোধন করা। আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষের কাছে ইসলামের কল্যাণকর আদর্শ তুলে ধরতে হবে। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাকে আন্দোলনের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিকূলতা ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য নতুন কিছু নয়। আদর্শের পথে চলতে গিয়ে নানা বাধা ও পরীক্ষা আসতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে হতাশ বা বিচলিত না হয়ে ঈমান, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্যকে শক্তিশালী করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা শক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে।

অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী বলেন, যোগ্য ও নৈতিক জনশক্তি ছাড়া কোনো সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই রুকনদের নিয়মিত অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ, আত্মসমালোচনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সন্দ্বীপ উপজেলা জামায়াতের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মাওলানা শাহেদ খান, ইকবাল হোসাইন, শরীফ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, বোরহান উদ্দিন ও কাজী ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%