০১:০৮ পি.এম
অভ্যন্তরীণ 'বিরোধের জেরে' মো. তাসফিক সোয়ালেহিন (১৯) নামে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের এক কর্মীকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। গতকাল রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে কলেজ গেট এলাকায় ২০-৩০ জনের একটি দল তার উপর হামলা করে। তবে এই ঘটনাটিকে দলীয় কোন্দল নয়, ব্যক্তিগত বিরোধ বলে দাবি করছেন কলেজ ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাদের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাসফিক সোয়ালেহিন ফেনী কলেজ ছাত্রদলের একজন কর্মী। তিনি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি নোমানুল হক নোমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। রোববার দুপুরে কলেজে পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাওয়ার জন্য গেটে এলে আবির ও আদিত্যর নেতৃত্ব ২০-৩০ জনের একটি দল তাকে অতর্কিতভাবে মারধর করে আহত করে। পরে ফেনী সরকারি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। এই ঘটনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কলেজ সভাপতি ও সম্পাদকের মধ্যে বিরোধের কথা বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসে।
এ বিষয়ে আহত মো. তাসফিক সোয়ালেহিন বলেন, আমি পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার সময় ২০ থেকে ৩০ জন এসে আমার উপর হামলা চালায়। তবে তাদের বেশিরভাগই অপরিচিত। এর মধ্যে আবির ও আদিত্য নামে দুইজনকে আমি চিনি। হামলাকারীদের বেশিরভাগকেই কলেজ ছাত্রদলে কোনদিন দেখিনি। তাদের হামলায় আমার মাথার পেছনে আঘাত লাগে, পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নিই। তার উপর কেন হামলা করা হয়েছে এ ব্যাপারে কিছু জানেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, কলেজের বাইরের কোন বিষয়ের সাথে আমি জড়িত নই। আমি শুধুমাত্র ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করছি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান রনি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনা কলেজ ছাত্রদলের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বলেন, একাডেমি ও ফেনী সেন্টার কেন্দ্রিক দুটি কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুই গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বিরোধে গড়ায়। সেটিকে কেন্দ্র করে রেলগেট এলাকায় একজনের ওপর হামলা করা হয়। ওই ঘটনার জেরে গতকাল কলেজের এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলায় একজন গুরুতর আহত হলে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।
অন্যদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে কলেজ ছাত্রদল সভাপতি নোমানুল হক নোমানও ঘটনাটিকে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল নয় বলে দাবি করে বলেন, আমি দুপুরে কলেজে গিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে আহত অবস্থায় দেখতে পাই। পরে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। এখানে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধ নেই। তিনি আরও বলেন, কলেজ ছাত্রদল শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ঘটনা সম্পর্কে জেনেছি, তবে এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন