০২:৫৭ পি.এম
একেএম রাশেদ শাহরিয়ার
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার আগাম পূর্বাভাস পৌঁছাবে। এর ফলে কৃষকরা বৃষ্টি, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হতে পারবেন।
স্বাভাবিক সময়ে ৬ ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগকালীন সময়ে প্রয়োজন অনুসারে একাধিকবার আবহাওয়ার পূর্বাভাস কৃষকদের কাছে এসএমএসের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: লংগদুতে সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের উদ্বোধন, প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
সরকারের কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে। আবহাওয়ার আগাম তথ্যের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমাসহ ১০ ধরনের সেবা কৃষক কার্ডধারীরা পাবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার আগামী চার বছরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, অতিবৃষ্টি, খরা, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং ঝড়ের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
যদি কৃষকরা সময়মতো আবহাওয়ার পূর্বাভাস পান, তাহলে তারা চাষাবাদ, সেচ, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক ব্যবহার এবং ফসল সংগ্রহের বিষয়ে আগাম সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন।
কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগটি কৃষকদের কাছে আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে কৃষকদের আলাদাভাবে প্রতিবার আবহাওয়ার তথ্য খুঁজতে হবে না, বরং নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের মোবাইল ফোনে বার্তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: বিমান বাহিনীর সহায়তায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন
যেমন, ধান কাটার সময় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলে আগাম বার্তা পেয়ে কৃষকরা দ্রুত ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। একইভাবে বৃষ্টির পূর্বাভাস অনুযায়ী সেচের প্রয়োজন নির্ধারণ করা সম্ভব হলে পানি ও উৎপাদন ব্যয় সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ঝড় বা প্রতিকূল আবহাওয়ার সতর্কতা কৃষকদের ফসল ও কৃষি উপকরণ সুরক্ষায় প্রস্তুতি নিতেও সহায়তা করবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস বা এআইএস। কৃষি বিষয়ে তথ্য, পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর দায়িত্ব পালনকারী প্রতিষ্ঠানটি কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় স্বয়ংক্রিয় এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সরবরাহ করবে।
দেশের কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় এনে তাদের কাছে সরকারি কৃষিসেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে সরকার।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে তাদের জন্য সরকারি সহায়তা ও সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা। এই লক্ষ্যে কৃষকদের ব্যক্তিগত ও কৃষিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কেশবপুরে আমন ক্ষেতে ভাইরাসের আক্রমণ, ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার মধ্যে ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম এগিয়েছে। এসব ব্লকে এখন পর্যন্ত ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড-সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে ৯ লাখ।
গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি উপকরণ সহায়তা পাওয়ার জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক।
এর আগে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক-পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় আটটি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে মোট ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর মো. রাকিবুজ্জামান খান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তাদের চাহিদা নিরূপণের মাধ্যমে কৃষির আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার গড়ে উঠলে কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া সহজ হবে।
আরও পড়ুন: সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পেলে ডিলারশিপ বাতিলের হুঁশিয়ারি কৃষিমন্ত্রীর
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও কার্যকর করা। এ জন্য তথ্য সংগ্রহ, যাচাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণের কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান বলেন, কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগটি এ সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর মাধ্যমে কৃষকরা আবহাওয়াসংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে চাষাবাদের পরিকল্পনা সাজানো এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, কৃষি উৎপাদনে আবহাওয়ার প্রভাব বিবেচনায় সময়মতো পূর্বাভাস পাওয়া কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সেলিম খান বলেন, সঠিক সময়ে তথ্য পৌঁছালে কৃষকরা ফসলের পরিচর্যা, সেচ ব্যবস্থাপনা, সার প্রয়োগ এবং ফসল সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
আরও পড়ুন: পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্যসম্পদ
কৃষি সচিব আরও বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) প্রকল্প।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন