০২:৫৮ পি.এম
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ইয়েমেনের হোদেইদা প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরীয় বন্দর ও তেল স্থাপনায় সৌদি আরবের হামলায় সাতজন আহত হয়েছেন। এ তথ্য সোমবার জানায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা।
হুথি গোষ্ঠী, যা ইরান সমর্থিত, তারা দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ইয়েমেন, যা বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ, সেখানে গৃহযুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ার পর থেকে এ সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি সানা থেকে এ খবর প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন: ইরানে পারমাণবিক হামলা হলে জ্বলবে পুরো বিশ্ব! মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন ও কোরীয় উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়তে পারে যুদ্ধের ভয়াবহতা
হুতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের রস ঈসা বন্দরে হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। পাশাপাশি বাজিল জেলার একটি তেল স্থাপনায় হামলায় আরও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, “তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে বারবার এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বেসামরিক নাগরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করে ইয়েমেনে সংঘটিত ধারাবাহিক যুদ্ধাপরাধের তালিকায় এসব হামলা নতুন করে যুক্ত হচ্ছে।”
এর আগে হুতিদের আল-মাসিরাহ টেলিভিশন চ্যানেল জানায়, সৌদি আরব রস ঈসা বন্দরের একটি জেটি ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা হোদেইদা সমুদ্রবন্দরটি তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। শহরটির উত্তরে অবস্থিত রস ঈসা বন্দর দিয়ে তেল আমদানি ও মজুত করা হয়।
আরও পড়ুন: মার্কিন নির্বাচনের পর চার দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলল ইরান
হুতি গণমাধ্যম আরও জানায়, রোববার একই প্রদেশে হোদেইদা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদেও হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে, এলাকার দুই বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তারা সেখানে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, হুথিদের ব্যবহৃত “গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিষ্ক্রিয় করতে” তারা একটি “নির্ভুল সামরিক অভিযান” চালিয়েছে।
২০২২ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ে। সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের আকাশসীমা উপেক্ষা করে হুতিরা ইরানের একটি বিমানকে রাজধানী সানায় অবতরণের অনুমতি দেওয়ার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এরপর থেকেই ধারাবাহিক হামলা শুরু হয়।
জাতিসংঘ জানায়, ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং ৩ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘ট্রাম্পই এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট’, হোয়াইট হাউসের বিতর্কিত পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন