মোঃআসাদুজ্জামান শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি
০৭:২৮ পি.এম
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উত্তর বাঁশকান্দি এলাকায় আরাফাত বয়াতীর ওপর হামলা এবং তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।
বুধবার (১০ জুন) সকালে শিবচরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরাফাত বয়াতী অভিযোগ করেন, গত ২ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে শিবচর উপজেলা সদর থেকে ভ্যানযোগে বাড়ি ফেরার পথে উত্তর বাঁশকান্দি এলাকায় একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়।
তিনি জানান, নান্নু ফকির, দেলোয়ার ফকির, রুবেল ফকির, আনোয়ার ফকিরসহ আরও ৮ থেকে ১০ জন লাঠি, শুটার ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরাফাত বয়াতী বলেন, “আমার ওপর হামলা চালিয়েও তারা ক্ষান্ত হয়নি। এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এমনকি আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়েছে।
এ সময় ভুক্তভোগীর চাচী অভিযোগ করে বলেন, প্রায় এক বছর আগে তার স্বামীর ওপরও একই পক্ষ নৃশংস হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন।
সংবাদ সম্মেলনে আরাফাত বয়াতী ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের শনাক্তকরণ এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা হামলা ও অপপ্রচারের ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের সিমুলেশনের ফলাফল যদি সত্যি হয়, তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল ও এর সমর্থকদের জন্য সুখবরই অপেক্ষা করছে। তাহলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ঘরে তুলবে লিওনেল মেসি বাহিনী।
ইউনিভার্সিটির অর্থনীতির অধ্যাপক জেমস রিড একটি সিমুলেশন মডেল ব্যবহার করে দেখতে পেয়েছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের দৌড়ে আর্জেন্টিনা সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা ফ্রান্স এবং স্পেনের মধ্যে ব্যবধান প্রায় নেই বললেই চলে। তাদের ঠিক পেছনেই রয়েছে ব্রাজিল এবং ইংল্যান্ড।
রিড ৪৮ দলের এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ ১০ হাজার বার সিমুলেট করে প্রতিটি দেশের জয়ের সম্ভাবনা নির্ণয় করেছেন। এই মডেলটি ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে খেলা সব আন্তর্জাতিক ম্যাচের তথ্য ব্যবহার করে প্রতিটি দেশের আক্রমণ এবং রক্ষণভাগের শক্তি মূল্যায়ন করেছে। এই সময়ে কিছু দেশ মাত্র ৩৬টি ম্যাচ খেলেছে, আবার কিছু দেশ খেলেছে ১০০টি পর্যন্ত।
মডেলটি এই অসমতা বিবেচনায় নিয়েছে এবং নিরপেক্ষ ভেন্যু ছাড়া অন্য মাঠে খেলা ম্যাচগুলোর জন্য স্বাগতিক দলের সুবিধাও যুক্ত করেছে। এরপর উভয় দলের সম্ভাব্য গোল হিসাব করে একটি পরিসংখ্যানগত বণ্টন ব্যবহার করে ম্যাচের ফল নির্ধারণ করা হয়েছে।
সিমুলেশন মডেল নিয়ে রিড বলেন, ‘এই মডেলটি শুধু সাধারণ র্যাঙ্কিংয়ের বাইরে গিয়ে প্রতিটি দলের আক্রমণ এবং রক্ষণের শক্তি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে, ফলে অনেক বেশি সমৃদ্ধ এবং বাস্তবসম্মত চিত্র পাওয়া যায়।’
সিমুলেশনের ফলাফল নিয়ে তার বক্তব্য, ‘আর্জেন্টিনা শীর্ষে এসেছে, তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো শীর্ষস্থানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা কতটা ঘনিষ্ঠ। তিনি আরও বলেন, ‘ফ্রান্স এবং স্পেনকে মডেল প্রায় আলাদা করতেই পারেনি, আর ইংল্যান্ডও তাদের খুব বেশি পিছিয়ে নেই।’
রিডের ভাষায়, ‘আরেকটি বিষয় স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে, তা হলো বিভিন্ন দলের মধ্যে পার্থক্য। জার্মানির রক্ষণভাগের পরিসংখ্যান আগের চক্রগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল, অন্যদিকে পর্তুগালের আক্রমণভাগ পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী।’
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি পোলট্রি ও মাছের খাদ্য মানুষের শরীরে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, আলসার এবং কিডনি রোগের মত জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে, এ তথ্যটি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
নিলোফার চৌধুরী জানতে চান, ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি পোল্ট্রি ও ফিশ ফিড ক্যান্সারসহ জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কি না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য; বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।’
মন্ত্রী বলেন, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এসব বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে কম খরচে পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরি করে থাকে। এ ধরনের খাদ্য খাওয়ানো মুরগির মাংস ও ডিমে বিষাক্ত ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’ জমা হয়, যা রান্নার তাপেও নষ্ট হয় না। এই মুরগি বা মাছ মানবদেহে প্রবেশ করলে তা থেকে ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, আলসার এবং কিডনি নষ্ট হওয়ার মত মারাত্মক জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনিয়েছেন, ‘এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সালে হাইকোর্টের নির্দেশের পর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থানান্তর কার্যকর করা হয়।’
মন্ত্রী জানান, ‘সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে একটি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চামড়াশিল্পের রাসায়নিক বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তা পরিবেশে ছড়িয়ে না পড়ে বা পোলট্রি ফিড তৈরিতে অবৈধভাবে ব্যবহার করা না যায়।’
এ ছাড়াও, হাজারীবাগ ও আশপাশের এলাকায় ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করে পোলট্রি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে র্যাব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘এসব অভিযানে অনেক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্যানারি বর্জ্য থেকে তৈরি পোলট্রি ফিডের ক্যানসারের ঝুঁকি বৈজ্ঞানিকভাবে একটি প্রমাণিত সত্য। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ট্যানারি স্থানান্তর ও দূষণ রোধে ইতিমধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুর সদর উপজেলার মহেশপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে। দীর্ঘ পথচলায় শিক্ষা কার্যক্রম চললেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছিল খুবই সীমিত। ২০০০ সালে একটি একাডেমিক ভবন ও টিনসেড ঘর নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।
অবশেষে দেখা মিলেছে সংস্কার ও উন্নয়নের। নতুন পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে পাকা বাথরুম, চলছে টিনসেড ভবনের সংস্কার কাজ। পাশাপাশি চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, চলমান উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে মাদ্রাসার শিক্ষা পরিবেশ আরও আধুনিক ও মানসম্মত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলার আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
বুধবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতির সই করা এক আদেশে বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করা হয়। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা সমন্বয়ে গঠিত এই বিশেষ বেঞ্চ নারী এবং শিশু নির্যাতন দমন আইন-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর শুনানি পরিচালনা করবে।
আদেশে বলা হয়েছে, আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ জুন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এই বেঞ্চ হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকার্য পরিচালনা শুরু করবে। বেঞ্চটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থেকে উদ্ভূত মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের বিষয়, একই রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি আপিল ও জেল আপিল, এসব আপিল গ্রহণের আবেদন, সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি বিবিধ মামলা, ফৌজদারি রিভিশন এবং এ ধরনের বিষয়ে জারি হওয়া রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন।
এর আগে গত ৭ জুন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলের একটি প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচিত মামলাসহ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আপিলগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, শিশু রামিসা হত্যা এবং ধর্ষণ মামলাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাভুক্ত সব গুরুত্বপূর্ণ মামলার আপিল এই বেঞ্চে শুনানি হবে। এই বেঞ্চ শুধু এ ধরনের মামলার আপিল নিষ্পত্তির জন্যই নিবেদিত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ