মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৩:৪৮ এম
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে স্থানীয় নির্বাচন ও রাজনৈতিক আন্দোলন সংক্রান্ত সহিংসতায় গত জুন থেকে অক্টোবরের শুরুতে অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বজনরা তাদের মৃত্যুর কারণ ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বেআইনি আটক, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগও উঠেছে।
যুক্তরাজ্য-নিবন্ধিত মানবাধিকার সংগঠন জম্মু কাশ্মীর হিউম্যান রাইটস অবজারভেটরি (জেকেএইচআরও) ৪৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে ৫ জুন থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিহত ৯০ জনের নাম ও ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট এই বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে বিদ্যুতের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে তা অঞ্চলটির সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, বেআইনি আটক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ ওঠে।
নিখোঁজের পর মিলল মৃত্যুর খবর
প্রতিবেদনে ২৬ বছর বয়সী ফাহাদ বারকাতের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ৭ জুন রাতে রাওয়ালাকোটের একটি সামরিক হাসপাতালে রক্ত দিতে গিয়েছিলেন তিনি। রাত ১১টা ৩১ মিনিটে বোনকে শেষ বার্তা পাঠানোর পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
ফাহাদের বোনের দাবি, হাসপাতালের ফটকে প্রবেশের সময় রাত ১টার কিছু আগে তার গলায় গুলি লাগে। তবে মানবাধিকার সংগঠনটি নিশ্চিত করতে পারেনি, কে তাকে হত্যা করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাহাদের পরিবার দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বাস করেছিল, তিনি পুলিশের হেফাজতে আছেন। পরে সংবাদমাধ্যম ডন নিহত বেসামরিক ব্যক্তিদের তালিকায় তার নাম প্রকাশ করে।
জেকেএইচআরওর অভিযোগ, ফাহাদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আগে তাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল।
সংগঠনটি এ ঘটনার স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের পাশাপাশি হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ, রক্তদাতাদের নথি, ময়নাতদন্ত ও দাফনের রেকর্ড প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
নির্বাচন বয়কট ঘিরে সংঘাত
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) স্থানীয় নির্বাচন বয়কটের আহ্বান জানিয়েছিল। ২৭ জুলাই থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত কয়েক ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনটির দাবি, বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে পারছে না।
আঞ্চলিক আইনসভার ৪৫ আসনের মধ্যে ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের অন্য এলাকায় বসবাসরত শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানায় জেএএসি।
পাকিস্তান সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, আসনগুলো সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত এবং কাশ্মীরের বিতর্কিত মর্যাদা নিয়ে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
পরে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিরাপত্তা অভিযানও শুরু হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ জুন পর্যন্ত বিক্ষোভে বেসামরিক মানুষ ও পুলিশসহ অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আটক হন। পরে জেএএসি ৫ জুন থেকে ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর দাবি করে। তবে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সশস্ত্র ব্যক্তিরা সহিংসতায় জড়িত ছিলেন। জেএএসি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ দাবি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
নিখোঁজ ও বেআইনি আটকের অভিযোগ
জেকেএইচআরওর প্রতিবেদনে শওকত নওয়াজ মীরের ঘটনাও উঠে এসেছে। পরিবারের অভিযোগ, ৩০ জুন ধিরকোট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু গ্রেপ্তারের কারণ, আইনি ভিত্তি কিংবা তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।
তিন মাস পেরিয়ে গেলেও শওকতের সন্ধান না পেয়ে তার বোন ইয়ামিন মীর জুলাইয়ে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টে আবেদন করেন। তাকে আদালতে হাজির করা এবং তার অবস্থান জানানোর দাবি জানান তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ও সরকারি দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়নি বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
আরেক ঘটনায়, ৫ সেপ্টেম্বর চিত্রা টোপি গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে এক হামলাকারী নিহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তার পরিচয় জাবির মুমতাজ হিসেবে জানা যায়। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
মরদেহ নিতে হলে তাকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে উল্লেখ করে একটি বিবৃতিতে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছিল। পরিবার রাজি না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নিজেরাই দাফন সম্পন্ন করে বলে প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ২৯ বছর বয়সী নাকাশ জারদাদ রাওয়ালাকোটে নিজের মহিষের খামারে থাকার সময় সংঘর্ষের মধ্যে ছোড়া গুলিতে নিহত হন বলে জানিয়েছে জেকেএইচআরও। তার পরিবারের প্রশ্ন, বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া একজন মানুষ নিজের জমিতে থেকেও কীভাবে প্রাণঘাতী গুলির শিকার হলেন।
তদন্তের দাবি
অঞ্চলটিতে তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়েছে। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট বন্ধের পাশাপাশি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেয়। ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ জুন মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়। ৩১ আগস্ট থেকে ধাপে ধাপে ইন্টারনেট চালু হলেও রাওয়ালাকোট ও সুদনোতি এলাকায় নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।
জেকেএইচআরওর পরিচালক আজর আহমেদ বলেন, কোনো পরিবারকে যেন স্বজনের মরদেহ খুঁজতে না হয় কিংবা আটক, দাফন ও মৃত্যুর বিষয়ে গুজবের ওপর নির্ভর করতে না হয়। তার মতে, হেফাজত, চিকিৎসা, মর্গ ও দাফনের নথি প্রকাশ করা হলে অনেক ঘটনার জট খুলতে পারে। কর্তৃপক্ষের নীরবতা মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায় এবং জনআস্থা ক্ষুণ্ন করে।
সংগঠনটি বলেছে, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সব মৃত্যুর পেছনে একই ব্যক্তি, পরিস্থিতি বা আইনি কারণ ছিল—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। প্রতিটি ঘটনার আলাদা তদন্ত প্রয়োজন। জুন থেকে সংঘটিত সম্ভাব্য বেআইনি মৃত্যু ও গুরুতর আহত হওয়ার সব ঘটনার দ্রুত, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা।
নিহতদের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের সরকার, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর চকবাজারের ছোট কাটারায় মনজুর খান প্লাজায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডে ষষ্ঠ তলার সমস্ত দোকান পুড়ে গেছে, এমন তথ্য প্রদান করেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে ভবনটির আগুন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
ফায়ার সার্ভিসের এই পরিচালক উল্লেখ করেন, "বিকেল ৫টার পর খবর পেয়ে ৫ টা ২২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ১০টি ইউনিট কাজ করেছে।"
তিনি আরও জানান, আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। "তবে কাজ শেষের দিকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত এখনো জানা যায়নি। কোনো হতাহতের খবর মেলেনি। তবে ৬ তলার সব দোকান পুড়ে গেছে।"
মাহমুদুল হাসান জানান, ভবনের ভেতর ধোঁয়ায় দুজন ফায়ার ফাইটার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, "তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।"
দোকানিরা জানিয়েছেন, ভবনটিতে ব্যাগ কসমেটিকস, ছাতা ও গ্যাস ম্যাচসহ বিভিন্ন মালামালের গোডাউন ছিলো বলে জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে উদ্ধার হওয়া ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমীন হত্যা মামলায় আলোচনায় আসা কক্সবাজারের হোটেলকর্মী রিয়াজ উদ্দিন রাজুর বিরুদ্ধে একদিনের ব্যবধানে একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
গত রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে আটক হওয়ার পর সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তাকে আবার কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ফেরত দেয়া হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করে থানা-পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, তাজমীনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয়, তাদের যোগাযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের আগে কক্সবাজারে একসঙ্গে অবস্থানের তথ্য যাচাই করতেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে রাজুর সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
একদিনের মধ্যে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ, ফেরত ও আদালতে সোপর্দ
পুলিশ জানায়, রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয়।
কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশের আদালতে দেয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমে তাজমীন হত্যা ঘটনায় রাজুর নাম আসার পর স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে রেখেছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা বা এজাহার না থাকায় এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকায় রাজুকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর সোমবার সকালে তাজমীন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একটি অধিযাচনপত্র দেন। এতে রাজুকে তদন্তের স্বার্থে গ্রেফতার করে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
অধিযাচনপত্রে বলা হয়, জান্নাতুল তাজমীনের ব্যবহৃত মোবাইলফোন নম্বরের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনার আনুমানিক দুই দিন আগে তার কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। এ সময় রাজুর সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাৎ এবং হত্যাকাণ্ডের আগে একাধিকবার মোবাইলফোনে যোগাযোগের তথ্যও পাওয়া যায়।
তাজমীনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের ধরন, যোগাযোগের কারণ, ডিজিটাল মাধ্যমে তাদের কথোপকথন এবং হত্যা মামলার বিষয়ে রাজুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে অধিযাচনপত্রে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার কুমিল্লা ডিবির একটি দল কক্সবাজারে গিয়ে রাজুকে নিয়ে তদন্তের বিভিন্ন বিষয় যাচাই করে। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেল ৫টার দিকে তাকে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ডিউটি কর্মকর্তার কাছে ফেরত দেয়া হয়। পরে ডিবির দলটি সেখান থেকে চলে যায়।
এ বিষয়ে জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পবিত্র সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘রাজুকে নিতে কুমিল্লার পুলিশ যায়নি, তাকে কয়েকটি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন ছিল। হোটেল-সংক্রান্ত কিছু বিষয়ও তদন্তের আওতায় ছিল। সেসব যাচাই করে তাকে আবার কক্সবাজার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাজমীনের বাবা-মা রাজুর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দিতে চাইলে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে দিতে পারবেন।’
অন্যদিকে, কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, অধিযাচনপত্রের ভিত্তিতে রাজুকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। পরে তাকে আবার ফেরত দেয়ায় কক্সবাজার সদর মডেল থানা-পুলিশ আদালতে সোপর্দ করে।
হোটেল মালিকের ছেলে ও স্নাতক পাসের পরিচয় দেয়ার অভিযোগ
রাজুর বিরুদ্ধে নিজেকে হোটেল মালিকের ছেলে ও স্নাতক পাস বলে পরিচয় দিয়ে জান্নাতুল তাজমীনের বিশ্বাস অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে রাজু একটি গেস্টহাউসের কর্মচারী এবং তিনি এসএসসি পরীক্ষাও পাস করেননি।
পুলিশের দাবি, নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে তাজমীনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন রাজু। পরে প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে কক্সবাজারে নিয়ে আসেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য মেয়েদের সঙ্গেও একই ধরনের প্রতারণার অভিযোগের ইঙ্গিত পেয়েছে পুলিশ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুর রহমান বলেন, ‘তাজমীন হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। হত্যাকাণ্ডে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ‘রাজুর সঙ্গে তাজমীনের সম্পর্ক এবং হত্যাকাণ্ডের আগে তাঁর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
গত ৪ অক্টোবর নিখোঁজ হয় জান্নাতুল তাজমীন। চার দিন পর কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের পাশে একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতার সিএনজিচালক সুমন ধর্ষণের পর তাজমীনকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা, যতক্ষণ না তিনি পদত্যাগ করছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে এ অবস্থান প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, উপাচার্য মদুনাঘাট ও বহদ্দারহাট টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলা করিয়েছেন, যা তার পদ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা হিসেবে তারা দেখছেন। তারা দাবি করেন, বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। এসব ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে আর মেনে নিতে চান না।
তারা জানান, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ও তার সহযোগীদের ভবন ত্যাগের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা বেরিয়ে না যাওয়ায়, শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, উপাচার্য যদি নিজ হাতে পদত্যাগপত্র লিখে দেন অথবা সাংবাদিকদের সামনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তবে ভবনের তালা খুলে দেয়া হবে। এরপর তাকে ও তার সহযোগীদের নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেয়া হবে। অন্যথায়, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তারা তালা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন।
এদিকে, বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর অনুরোধ নিয়ে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা রাতে ক্যাম্পাসে যান। রাত ১০টার দিকে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
অংছিং মারমা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, "আমরা আপনাদের দাবি-দাওয়ার বিপক্ষে নই। আমাকে জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখতে বলেছেন। তিনি বিষয়টি জানেন। উপাচার্য মানবিক সংকটে আছেন শুনে আমি এসেছি। আমি শুনে এসেছি তিনি খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু এখানে এসে জেনেছি, আপনারা খাবার ও পানির ব্যবস্থা রেখেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ, মানবিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনা করবেন। শিক্ষার্থীদের কোনো কার্যক্রমের বিরোধিতা করতে আসিনি।"
এ সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, "দীর্ঘ ২১ দিনের আন্দোলনে কোনোদিন চুয়েটের বাসে হামলা হয়নি। অথচ তিনি আসার পরপরই বাসে হামলা হয়েছে। এ ঘটনার পর আমরা কেউ তাকে উপাচার্য হিসেবে চাই না।"
তিনি আরও বলেন, "তাকে উপাচার্য ভবন ত্যাগের আলটিমেটাম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজ উদ্যোগে নিজেকে অবরুদ্ধ করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ না করবেন, ততক্ষণ উপাচার্য ভবনের তালা খুলবে না। একজন উপাচার্য যখন তার সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান, তখন আমরা আর কোনো মানবিকতা প্রদর্শনের মতো অবস্থায় নেই।"
শিক্ষার্থীরা এ সময় ‘সন্ত্রাস, শিক্ষা একসঙ্গে চলে না’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি আমার না’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
পরে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা উপাচার্য ভবনের ভেতরে থাকা অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আলোচনাটি প্রকাশ্যে করার শর্ত দেন। এতে নবনিযুক্ত উপাচার্য সম্মত হননি। ফলে তার সঙ্গে দেখা না করেই ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যান এসি ল্যান্ড।
উল্লেখ্য, নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম জানিয়েছেন, পুরান ঢাকার চকবাজারে আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমে লোকজনের ভিড় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ঘটনাস্থল থেকে লোকজনকে সরে গিয়ে উদ্ধার ও পরবর্তী কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান তিনি।
আব্দুস সালাম উল্লেখ করেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর আগুনের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস পানি দিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ করেছে। এখন লোকজন যদি সরে যায়, তাহলে তারা কাজ করার সুযোগ পাবে। আপনাদের মাধ্যমে আমরা অনুরোধ করব, লোকজন যেন তাদের কাজ করার সুযোগ দেয়, যাতে তারা জায়গাটি পরিষ্কার করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে পারে।’
ডিএসসিসি প্রশাসক আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে বলেন, সেখানে একটি ব্যাগের কারখানা বা গোডাউন ছিল। আশপাশে কাপড়ের গোডাউনও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যাগের গোডাউন থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এর আগে, বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারে সাততলা একটি ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত মনজুর খান প্লাজার মার্কেটে আগুন লাগে। প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে পাশের আরেকটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ইউনিটের সংখ্যা বাড়িয়ে দশটি করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ