প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা, যতক্ষণ না তিনি পদত্যাগ করছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর সামনে এক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে এ অবস্থান প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা।
এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, উপাচার্য মদুনাঘাট ও বহদ্দারহাট টার্মিনালে শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলা করিয়েছেন, যা তার পদ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা হিসেবে তারা দেখছেন। তারা দাবি করেন, বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। এসব ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য হিসেবে আর মেনে নিতে চান না।
তারা জানান, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্য ও তার সহযোগীদের ভবন ত্যাগের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা বেরিয়ে না যাওয়ায়, শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা লাগিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, উপাচার্য যদি নিজ হাতে পদত্যাগপত্র লিখে দেন অথবা সাংবাদিকদের সামনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তবে ভবনের তালা খুলে দেয়া হবে। এরপর তাকে ও তার সহযোগীদের নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগের সুযোগ দেয়া হবে। অন্যথায়, অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তারা তালা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন।
এদিকে, বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর অনুরোধ নিয়ে রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা রাতে ক্যাম্পাসে যান। রাত ১০টার দিকে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
অংছিং মারমা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, "আমরা আপনাদের দাবি-দাওয়ার বিপক্ষে নই। আমাকে জেলা প্রশাসক বিষয়টি দেখতে বলেছেন। তিনি বিষয়টি জানেন। উপাচার্য মানবিক সংকটে আছেন শুনে আমি এসেছি। আমি শুনে এসেছি তিনি খাবার, পানি ও বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু এখানে এসে জেনেছি, আপনারা খাবার ও পানির ব্যবস্থা রেখেছেন। সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ, মানবিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা বিবেচনা করবেন। শিক্ষার্থীদের কোনো কার্যক্রমের বিরোধিতা করতে আসিনি।"
এ সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, "দীর্ঘ ২১ দিনের আন্দোলনে কোনোদিন চুয়েটের বাসে হামলা হয়নি। অথচ তিনি আসার পরপরই বাসে হামলা হয়েছে। এ ঘটনার পর আমরা কেউ তাকে উপাচার্য হিসেবে চাই না।"
তিনি আরও বলেন, "তাকে উপাচার্য ভবন ত্যাগের আলটিমেটাম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নিজ উদ্যোগে নিজেকে অবরুদ্ধ করেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ না করবেন, ততক্ষণ উপাচার্য ভবনের তালা খুলবে না। একজন উপাচার্য যখন তার সন্তানতুল্য শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান, তখন আমরা আর কোনো মানবিকতা প্রদর্শনের মতো অবস্থায় নেই।"
শিক্ষার্থীরা এ সময় ‘সন্ত্রাস, শিক্ষা একসঙ্গে চলে না’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সেই ভিসি আমার না’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
পরে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা উপাচার্য ভবনের ভেতরে থাকা অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। কিন্তু শিক্ষার্থীরা আলোচনাটি প্রকাশ্যে করার শর্ত দেন। এতে নবনিযুক্ত উপাচার্য সম্মত হননি। ফলে তার সঙ্গে দেখা না করেই ক্যাম্পাস থেকে ফিরে যান এসি ল্যান্ড।
উল্লেখ্য, নিয়োগ পাওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পর সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এরপর থেকেই ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন