ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঢাবিতে গবেষণা উন্নয়নে কোটি টাকার এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠন


ঢাবিতে গবেষণা উন্নয়নে কোটি টাকার এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভূতত্ত্ব বিভাগের গবেষণা কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ ও উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ১ কোটি টাকার একটি এনডাউমেন্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে।

বিভাগের প্রয়াত প্রাক্তন শিক্ষার্থী মীর ময়নুল হক এবং তার এমএস গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক, ইউনেস্কোর প্রাক্তন অধ্যাপক ড. জন আলফ্রেড ট্যালেন্টের স্মৃতি রক্ষার্থে এই ফান্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এম এ লতিফ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘মীর ময়নুল হক অ্যান্ড জন ট্যালেন্ট মেমোরিয়াল এনডাউমেন্ট ফান্ড’-এর জন্য এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়। প্রয়াত মীর ময়নুল হকের ছোট ভাই ড. মীর মুবিনুল হক ফান্ডের এক কোটি টাকার চেকটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামের হাতে তুলে দেন।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, এই এনডাউমেন্ট ফান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক মানের গবেষণার সুযোগ পাবেন, যা দেশের ভূতাত্ত্বিক খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একটি বিভাগের গবেষণা ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে দাতা পরিবারের এই উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, প্রয়াত মীর ময়নুল হকের আরেক সহোদর মীর মফিদুল হক।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষকরা, ভূতত্ত্ব অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এবং দাতা পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিল

২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ জিততে পারছে না ব্রাজিল, এবার কি হেক্সা হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৮ এম


২৪ বছর ধরে বিশ্বকাপ জিততে পারছে না ব্রাজিল, এবার কি হেক্সা হবে

২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ব্রাজিল। এরপর থেকে ২৪ বছর কেটে গেছে, কিন্তু ষষ্ঠ শিরোপা বা হেক্সা এখনো অধরা। সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে এবার কার্লো আন্চেলত্তির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রে পা রেখেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দলটি নিউ জার্সিতে অবতরণ করেছে অভিজ্ঞতা, মেধা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার মিশেলে তৈরি এক স্কোয়াড নিয়ে।

নেইমার ও ভিনিসিউস দলের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত। ২০২৬ বিশ্বকাপই হলো আন্চেলত্তির ব্রাজিল কোচ হিসেবে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে অত্যন্ত সফল এই ইতালীয় কোচ এবার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন সেলেসাওকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফেরানোর দায়িত্বে। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে তিনি বলেছেন, ব্রাজিল আশাবাদী হলেও তারা মানছেন যে এবারের বিশ্বকাপে অনেক দলেরই শিরোপা জেতার সক্ষমতা রয়েছে।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে অংশ নেওয়ার পর মার্কিনহোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি দলে যোগ দিয়েছেন। এতে পূর্ণ হয়েছে ব্রাজিলের ২৬ জনের স্কোয়াড।

দলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নেইমার ও ভিনিসিউস জুনিয়র। ব্রাজিলের শিরোপার আশা এই দুই আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে ঘিরেই বেশি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেওয়ার যন্ত্রণা এখনো তাজা, এবং সেই ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিতেই এবার মরিয়া হয়ে নেমেছে ব্রাজিল।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ব্রাজিল নিউ ইয়র্ক রেড বুলসের ট্রেনিং সেন্টার কলম্বিয়া পার্কে অনুশীলন করবে। তারা মিসরের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে। আগামী ১৩ জুন গ্রুপ সি তে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু হবে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড। লক্ষ্য একটাই, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হেক্সা জয় করে তারা বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে ফিরবে।

সূত্র: বিআইএন স্পোর্টস ইউএসএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দোহারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:১২ এম


দোহারে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতা গ্রেপ্তার

ঢাকার দোহার উপজেলায় পৃথক অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, নিষিদ্ধ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ অভিযান সোমবার (১ জুন) রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন দ্বীপ এবং ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মো. সারোয়ার আলম হানিফ।

পুলিশের সূত্র থেকে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে অভিযান চালিয়ে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার রাতে নারিশা পশ্চিমচর এলাকার জীবনের মুরগির ফার্মসংলগ্ন এলাকা থেকে নারিশা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন দ্বীপকে গ্রেপ্তার করে দোহার থানা পুলিশ। তিনি নারিশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবুল কালামের ছেলে হিসেবে পরিচিত।

সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে নারিশা পশ্চিমচর বটতলা এলাকায় ইয়াসিন নামের এক কলেজ ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ রয়েছে শাহাদাত হোসেন দ্বীপের বিরুদ্ধে। এ সময় নুরু নামের এক ব্যক্তি সাহায্যের জন্য এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ইয়াসিনের পক্ষ থেকে দোহার থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয় এবং ওই মামলায় দ্বীপকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, হত্যাচেষ্টা মামলায় যুবলীগ নেতা দ্বীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের মইতপাড়া এলাকা থেকে ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক মো. সারোয়ার আলম হানিফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার ভিত্তিতে এ গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে দোহার উপজেলায় বিভিন্ন মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চলতি বছরে বিশ্বের ২৬ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের চীন সফর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৯ এম


চলতি বছরে বিশ্বের ২৬ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের চীন সফর

চলতি বছরে চীনে বিশ্বনেতাদের একের পর এক সফর হচ্ছে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে, এখন পর্যন্ত ২৩টি দেশের ২৬ জন শীর্ষ নেতা এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চীন সফর করেছেন।

সর্বশেষ এই তালিকায় যোগদান করেছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ভেট কুপার। তিনি তিন দিনের সফরে বর্তমানে বেইজিংয়ে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সফরের পর, তিনি দেশের দক্ষিণের প্রযুক্তিনগরী শেনজেনে প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান সহযোগিতার বিষয় নিয়ে সফর করবেন।

চীন সফরকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, চ্যান্সেলর, ক্রাউন প্রিন্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, জার্মানি, কানাডা, স্পেন, পাকিস্তান, ইরান, ব্রাজিল, ভিয়েতনামসহ ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং লাতিন আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনে এই ধারাবাহিক সফরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদার করা। বিশেষ করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বেশিরভাগ দেশ চীনের বিশাল বাজার এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে চাইছে।

এদিকে, চলতি বছরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বিদেশ সফরের পরিবর্তে দেশেই বিদেশি অতিথিদের স্বাগত জানাচ্ছেন, যা বেইজিংয়ের ‘হোস্ট-ডিপ্লোমেসি’ কৌশল হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, সফরকারী দেশগুলোর মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি, যা মোট তালিকার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, স্পেন, আয়ারল্যান্ড এবং ফিনল্যান্ডের মতো দেশগুলোর নেতারা বাণিজ্য এবং কৌশলগত মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৩ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:২৭ এম


মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে?

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির এক মাস হওয়ারও কম সময়ের মধ্যে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় প্রায় দেড় দশক ধরে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের দলে ভাঙনের চিহ্ন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

ভোটের পরে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের প্রস্তাবনা পত্রে বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসংগতির অভিযোগ তুলে নবনির্বাচিত দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর, দলের একটি অংশ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছে বলে জানা যাচ্ছে। খবর বিবিসি বাংলার।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ ‘বিদ্রোহী’ হয়ে উঠেছে তার একটি নমুনা হতে পারে গত রবিবারের ঘটনা, যখন মমতা ব্যানার্জী নবনির্বাচিত ৮০ জন বিধায়ককে এক বৈঠকে ডেকেছিলেন, কিন্তু সেখানে মাত্র কুড়ি জন হাজির ছিলেন।

এই অবস্থায় দলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা গেছে যে তৃণমূল ‘কার্যত উঠে যাওয়া একটা পার্টি।’ অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মমতা ব্যানার্জী দাবি করেছেন যে তৃণমূলকে ভাঙা কখনোই সম্ভব নয়।

এরপরেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে দেন যে বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসংগতির অভিযোগটা বিধানসভার স্পিকারের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসেরই দুই বিধায়কের—ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা—কাছে জানানো হয়েছিল।

এছাড়া দলটির অনেক নেতা, মুখপাত্র, বিধায়কও ভোটে হারের পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও মমতা ব্যানার্জীর ভাইপো অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

ঋতব্রত ব্যানার্জীও সেইসব নেতাদের মধ্যে ছিলেন। এর মধ্যেই দিল্লি সফরে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত এই বিধায়ক ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সামান্য কথাও হয়। তবে এতে জল্পনা চলছিল যে তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন কিনা।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেন সিপি(আই)এম দল থেকে বহিষ্কৃত এই নেতা। বিজেপিও জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস বা অন্যদল থেকে কাউকে নেওয়া হবে না।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হয়ে কথিত ‘বিদ্রোহীদের’ নেতৃত্বে থাকা ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহার পরিকল্পনায় দলের ফাটল ‘চওড়া’ হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন অনেকেই।

যদি নির্বাচিত বিধায়কদের সিংহভাগের ‘সমর্থন’ তারা পান, তাহলে এদের মধ্য থেকেই কেউ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার পদ দাবি করতে পারেন।

বিজেপির তাপস রায় এই প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে চুরমার। মহারাষ্ট্রের মতো অবস্থা হয়েছে তৃণমূলের। বিধানসভার স্পিকার এর কাছে প্রায় ৫০ জন টিএমসির বিধায়ক নিয়ে পৌঁছে গেছে ঋতব্রত।

মঙ্গলবার বিধানসভায় প্রবেশের আগে ঋতব্রত ব্যানার্জীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমাকে তৃণমূল বহিষ্কার করতে পারে, কিন্তু তাতে মমতা ব্যানার্জীর প্রতি আমার শ্রদ্ধা এতটুকুও কমে যায় না। তিনি আমাদের সকলের নেত্রী।”

তবে তাপস রায়ের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি আর সন্দীপন যৌথভাবে স্পিকারকে বিষয়টা জানিয়েছেন। আমি আমার আর সন্দীপনের দায় নিতে পারব, তবে কোনো জল্পনাকে ইন্ধন দেওয়ার মতো কোনো উপাদান আমার কাছে নেই।”

সই সংক্রান্ত অসংগতির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে হলে দিতে হবে কয়েকদিন পিছনে যেতে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কে বিরোধী দলনেতা হবেন, তা ঠিক করতে গত ছয়ই মে মমতা ব্যানার্জীর বাড়িতে বিধায়কদের একটি বৈঠক হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, বিধানসভায় এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার কথা।

বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর নিয়ম মেনে সই করেন সমস্ত বিধায়কেরা। স্পিকারের তরফে বিরোধী দল হিসাবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবনা পত্র চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯শে মে আবার কালীঘাটে বৈঠক ডাকেন মমতা ব্যানার্জী। কিন্তু ওই দিন অনেকে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের পক্ষ থেকে। সমস্যা শুরু হয়ে ওই প্রস্তাবনাকে ঘিরেই। বিধায়কদের সইতে অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল পাল্টা অভিযোগ তোলে যে এর নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি।

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দেন যে বিজেপি নয়, তৃণমূলের টিকিটে বিধানসভা ভোটে জিতে আসা ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা বিধানসভার স্পিকারের কাছে ওই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন।

তারপরেই তৃণমূল কংগ্রেস ওই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করে। তাদের বিরুদ্ধে ‘দল বিরোধী কার্যকলাপের’ অভিযোগ তোলে।

এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসংগতির অভিযোগ ওঠার পর কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী মামলার তদন্তের ভার রাজ্য পুলিশের সিআইডিকে দেন।

সংশ্লিষ্ট নথি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তুলেছেন, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপ-দলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের নাম প্রস্তাবনা পত্রে বিধায়কদের যে স্বাক্ষর রয়েছে তার মধ্যে বেশ কয়েকটি ইংরেজির ব্লক লেটারে রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন তদন্তের সময় বিধায়কদের অনেকে জানিয়েছেন, তারা নাকি ওই প্রস্তাবনায় সই-ই করেননি।

এ বিষয়ে অভিষেক ব্যানার্জীকে তলব করেছিল সিআইডি। সোমবার ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে হাজিরা দেননি অভিষেক ব্যানার্জী।

সইয়ে অসংগতির অভিযোগ ও তৃণমূলের তরফে বহিষ্কার প্রসঙ্গে ঋতব্রত ব্যানার্জী বলেছেন, “বিধায়ক বা সাংসদ হিসাবে কেউ যখন শপথ গ্রহণ করেন, তখন তিনি সংবিধানের নামে শপথ নেন। ভয় বা পক্ষপাতের উর্দ্ধে উঠে তারা কাজ করেন। যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি।”

তিনি বলেন, “দলের বৈঠকে যখন আমরা দ্বিতীয়বার যাই, তখন বলা হয়েছিল ১৯ মে তারিখে মিটিং, কিন্তু আপনারা সই করার সময় তারিখ ছয়ই মে লিখুন। আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, এতদিন কেন বলেননি। আসলে অত সাহস ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “আমার আগে অনেকে সই করেছিলেন, আমি দেখলাম এমন অনেকের সই রয়েছে যারা বৈঠকেই আসেননি।”

তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত আরেক বিধায়ক সন্দীপন সাহা বার্তাসংস্থা এএনআইকে বলেছেন, “দলে নৈতিক কথাবার্তা বললেই দলবিরোধী কার্যকলাপের দায়ে অভিযুক্ত করা হয়, কারণ দল নিজেই নৈতিক আচরণ করে না।” তবে দলের পদক্ষেপ নিয়ে তার ‘আক্ষেপ নেই’ বলেই জানিয়েছেন তিনি।

তার কথায়, “যদি নৈতিক কাজের জন্য দল থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে আমি খুশি। কারণ নৈতিক কাজ করাই আইনপ্রণেতাদের দায়িত্ব এবং আমরা ঠিক সেটাই করেছি।”

এই দুই বিধায়কের পদক্ষেপ নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্য, ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহার উচিত ছিল এই বিষয়ে বিধানসভার স্পিকারের বদলে তৃণমূলকে জানানো।

ঋতব্রত ব্যানার্জীর নাম না করেই মমতা ব্যানার্জী ফেসবুক লাইভ থেকে বলেছেন, “সিপিএম করত। আমাদের ভুল হয়েছে তাকে টিকিট দেওয়া। পায়ে এসে পড়েছিল। সেদিন সিপিএম ঠিক করেছিল।” একদা সিপি(আই)এম’র তরফে রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়েছিল ঋতব্রত ব্যানার্জীকে। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০১৭ সালে একাধিক অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করে সিপি(আই)এম। পরে তৃণমূলে যোগ দেন এবং চলতি বিধানসভা ভোটে তাকে প্রার্থীও করে তৃণমূল।

সেই প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেছেন মমতা ব্যানার্জী।

দলের দুই অধুনা বহিষ্কৃত বিধায়ক সম্পর্কে কুণাল ঘোষ বলেছেন, “জিতে গেলে, সরকার গড়লে সব ভালো। আর আজ দল ক্ষমতায় নেই বলে সব খারাপ হয়ে গেল? তাহলে দলের টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন কেন?”

তৃণমূল কংগ্রেস বহিষ্কার করার পর, দলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮তে দাঁড়িয়েছে।

যদি তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কই ধরা যায়, তাহলে দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি অর্থাৎ, অন্তত ৫৩ জন বিধায়ক দলত্যাগ করতে রাজি হন, তাহলে বিরোধী দলনেতার পদের দাবি জানাতে পারেন।

ইতোমধ্যে জল্পনা শুরু হয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কদের একটি বড় অংশ নাকি বেরিয়ে যেতে পারেন। তৃণমূল অবশ্য সেই জল্পনা খারিজ করে দিয়েছে।

কলকাতার সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিখা মুখার্জী বলেছেন, “কোনো দলের ভাঙনের ক্ষেত্রে পুশ ও পুল এ দুই ফ্যাক্টর কাজ করে। মমতা ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে ছাড়া এই মুহূর্তে কাউকে বহিষ্কার করেননি। আর পুল ফ্যাক্টর বলতে বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছেন, অন্য দল ছেড়ে বেরিয়ে আসা কাউকে তারা নেবেন না। অন্যদিকে কংগ্রেসও তৃণমূলের কাউকে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখায়নি।”

সম্প্রতি অভিষেক ব্যানার্জীসহ দলের বিভিন্ন নেতাকে ঘিরে যেভাবে বিক্ষোভ দেখা গিয়েছে, তেমনটাও আগে দেখা যায়নি।

বিবিসি বাংলার সিনিয়র সাংবাদিক শুভজ্যোতি বলেন, “এ দলের সে অর্থে কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শ নেই। দলটি পুরোপুরি নেত্রী মমতা ব্যানার্জী কেন্দ্রিক, তাঁর ইচ্ছা-অনিচ্ছাই দলে শেষ কথা– আর এ কারণেই মমতা নিজে যখন কোণঠাসা, তৃণমূল কংগ্রেসও দল হিসেবে দিশেহারা অবস্থায় পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “শুধুমাত্র মমতা ব্যানার্জীর সাফল্যের কারণেই দলটি এতদূর আসতে পেরেছিল। কিন্তু তাঁর শক্ত ঘাঁটি ভবানীপুর আসন থেকেও মমতার শোচনীয় পরাজয়ের পর দলের ভাঙন স্পষ্টতই দৃশ্যমান।”

শুভজ্যোতি জানিয়েছেন, “আজকের তারিখেও লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ৪২ জন সংসদ সদস্য, রাজ্য বিধানসভায় ৮০ জন বিধায়ক এবং পশ্চিমবঙ্গে ৪১ শতাংশ ভোট রয়েছে। তবুও, যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা এক অর্থে মমতা ব্যানার্জীর জন্য। বলা হচ্ছে তিনি অভিষেক ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে যতই অভিযোগ থাক, তা নিয়ে কিছুই করেননি এবং পরিবারের বিষয়ে চোখ বন্ধ রেখেছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%