০৬:৪২ এম
মাত্র ৩৮ বছর বয়সে ২০২২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বুরকিনা ফাসোর ক্ষমতায় আসেন ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ট্রাওরে। পশ্চিমা প্রভাব এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি আফ্রিকার অন্যতম আলোচিত ও জনপ্রিয় নেতা হয়ে উঠেছেন। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার জনপ্রিয়তা বেড়ে গেলেও, দেশের ভেতরে নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে তার সরকার ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে।
আল জাজিরার একটি বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে ট্রাওরের জনপ্রিয়তার কারণ এবং তার সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার পর ট্রাওরে ফরাসি সেনাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছেন এবং পশ্চিমা সামরিক অংশীদারিত্ব থেকে সরে এসে রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেছেন। এছাড়া, তিনি বুরুকিনা ফাসোর বিপ্লবী নেতা টমাস সংকারার আদর্শকে সামনে এনে জাতীয়তাবাদী ভাবধারাকে নতুনভাবে তুলে ধরেছেন। স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ও জাতীয় সম্পদের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জোরদারের উদ্যোগও তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
আরও পড়ুন: আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনকে লজ্জাজনক বললেন নেতানিয়াহু
তবে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। আল-কায়েদা ও আইএস-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এখনো ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও ট্রাওরের সরকার সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। গত এপ্রিলে তিনি জনগণকে গণতন্ত্রের কথা ভুলে যেতে আহ্বান জানান। তার সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম সীমিত করেছে। এছাড়া সুশীল সমাজ, সাংবাদিক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে।
ধর্মীয় ক্ষেত্রেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নতুন ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের আওতায় কয়েকজন প্রভাবশালী সুন্নি আলেমকে গ্রেপ্তার এবং ধর্মীয় কার্যক্রমে নজরদারি বৃদ্ধির ঘটনা তার সমর্থনের ওপরও প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ট্রাওরে শক্তিশালী অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু প্রতীকী এই সাফল্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান করতে পারেনি।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
ওয়াগাদুগুর একজন তরুণ নেতা রয়টার্সকে বলেন, একজন আফ্রিকান নেতাকে পশ্চিমা শক্তির সামনে দৃঢ় অবস্থান নিতে দেখে গর্ব অনুভূতি হয়েছে। তবে রাজনৈতিক গর্ব দিয়ে মানুষ যে জীবন যাপন করে না, সেটিও মনে রাখতে হবে। দেশের সাধারণ মানুষ এখন নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারও চায়।
বিশ্লেষকদের অভিমত, ইব্রাহিম ট্রাওরে সার্বভৌমত্বের বার্তাকে শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু সামরিক শাসনের মাধ্যমে তিনি বুরকিনা ফাসোয় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন