নীলফামারী প্রতিনিধি: রায়হান আলী
০৮:৩০ পি.এম
ঐতিহাসিক গণ অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্য নীলফামারীতে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল এবং সমাবেশ আয়োজন করেছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে, নীলফামারী বড় বাজার ট্রাফিক মোড় থেকে একটি বিশাল মিছিল বের হয়। এই মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে চৌরঙ্গী মোড়ে এসে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।
সমাবেশে উপস্থিত বক্তাদের মধ্যে নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন এবং শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ পাটোয়ারী সঞ্চালনা করেন। সেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন:
অধ্যক্ষ মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফী (সংসদ সদস্য, নীলফামারী-৩),
হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম (সংসদ সদস্য, নীলফামারী-৪),
মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু (জেলা জামায়াতের কার্যকরী পরিষদের সদস্য এবং নীলফামারী পৌরসভার মেয়র প্রার্থী),
অ্যাডভোকেট আনিছুর রহমান আযাদ (সেক্রেটারি, শহর জামায়াত),
সেলিম উদ্দিন (জেলা সভাপতি, ইসলামী ছাত্রশিবির), এবং
আব্দুল মজিদ (জেলা আহ্বায়ক, এনসিপি)।
সমাবেশের মূল বক্তব্যে বক্তাগণ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের দাবি জানান। তাঁরা উল্লেখ করেন:
'জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিলম্ব': বর্তমানে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ অভ্যুত্থানের দুই বছর অতিবাহিত হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর উদাসীনতায় এখনো 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়িত হয়নি।
'সংঘাতের আশঙ্কা': বক্তারা বলেন, রক্ত দিয়ে অর্জিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জাতির সাথে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তাদের এই সিদ্ধান্ত ও পিছুটান দেশকে একটি গভীর সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
'অনতিবিলম্বে কার্যকর করার দাবি': নেতৃবৃন্দ সংঘাত এড়াতে এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থানের চেতনাকে টিকিয়ে রাখতে অনতিবিলম্বে 'জুলাই সনদ' কার্যকর করার জোর দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত তিন কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে ভিকটিমের ভাইয়ের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রেফতারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুল থেকে ফেরার পথে ওই ছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়।
গ্রেফতাররা হলো: বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. কামালের ছেলে মো. রাহাত (১৭), একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ছালেমের ছেলে মো. জিসান (১৬) এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মো. কাশেমের ছেলে মো. ইমন (১৭)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অভিযুক্তরা ওই ছাত্রীকে কৌশলে নির্জন একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে একাধিক ব্যক্তি তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। পরে ৪ আগস্ট সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি জানতে পারে।
এরপর আইনি সহায়তার জন্য ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে বোরহানউদ্দিন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরে যথাযথ মর্যাদা ও উৎসবের সাথে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস -২০২৬’ পালিত হয়েছে। আজ বুধবার (৫ আগস্ট, ২০২৬) সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যে দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেট থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। বৃষ্টিস্নাত সকালে উপাচার্যের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে শোভাযাত্রাটি পার্কের মোড়, শহিদ আবু সাঈদ চত্বর, মডার্ন মোড় হয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
এরপর দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। বৃক্ষরোপণ শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন উপাচার্য। এ সময় তিনি বলেন, আজ আমাদের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী। সকল ছাত্র-জনতা যেভাবে ২০২৪-এর জুলাইয়ে অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছিল, তার পুরো কৃতিত্ব আমাদের তারুণ্যের। এই তারুণ্যের কারণেই আজ বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। বেরোবি উপাচার্য বলেন, ফ্যাসিবাদ ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রসৈনিক শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ বিশ্বের বুকে বিরল ঘটনা। তিনি বলেন, শহিদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ছিল এই আন্দোলনের উজ্জ্বল নিদর্শন, যা আজও তরুণ প্রজন্মের জন্য সংগ্রামের অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই, আর যেন কখনো কোনো স্বৈরাচারী সরকার ফিরে আসতে না পারে।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দুপুরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া বিকেলে কবি হেয়াত মামুদ ভবনে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক লেখা নিয়ে রোড ম্যাগাজিন প্রকাশ করা হয়। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুলাই শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের আশু রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বাসভবন সংলগ্ন মাঠে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. ফেরদৌস রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম। আলোচনা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে স্মরণ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং জনপ্রিয় ব্যান্ড সংগীত দল ‘বাগধারা’ তাদের গান পরিবেশন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইল, ৫ আগস্ট, ২০২৬ : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, আজও স্বৈরাচারের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে।
যারা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে। তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া সব গণতন্ত্রকামী ও ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আজ বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘জুলাই চেতনায় গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক (সানু), ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) জেলা শাখার আহ্বায়ক ডা. এম এ মতিন প্রমুখ।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জুলাই কারও একার নয়, জুলাই বাংলাদেশের সব মানুষের। বিনা কারণে, বিনা অজুহাতে, বিনা ইস্যুতে যদি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তার সুবিধা পাবে স্বৈরাচারের দোসর ও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা। তারা আমাদের মধ্যে বিভক্তি দেখতে চায়। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, তারা প্রকৃতপক্ষে ফ্যাসিবাদেরই সুবিধা করে দিচ্ছে।
এই বিষয়টি সবাইকে মনে রাখতে হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, এই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘ ১৭ বছরে ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছেন। আর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি শহীদ হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা আমাদের সবার। সেই প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জেলার ১২টি উপজেলার ৩০ জন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। পরে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
এর আগে সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইলে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৪৪ জন শিক্ষক রাষ্ট্রবিরোধী গোপন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে গণমাধ্যমের মাধ্যমে ৪৪ জনের তালিকা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয় এবং এ নিয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। এই তদন্ত কমিটি গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেনকে আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানেল ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. মো. সাজ্জাত হোসেন। এছাড়া, কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অর্থ হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা উপ-হিসাব পরিচালক মো. ইসরাফুল হক।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পত্রিকায় প্রকাশিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষকের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রতিবেদন সম্পর্কে তদন্তের মাধ্যমে রিপোর্ট প্রদানের লক্ষ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চলতি মাসের ১২ আগস্টের মধ্যে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ওই শিক্ষকদের চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করতে হবে। এ ছাড়া, প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখিত ইবির শিক্ষকরা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দমন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায়ও তদন্তের আওতার মধ্যে থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ অক্টোবর সিন্ডিকেটের ২৭১তম (সাধারণ) সভায়, জুলাই-আগস্ট ২০২৪ বিপ্লবের সময়কালীন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিপ্লব বিরোধী ভূমিকায় জড়িত থাকার অভিযোগে ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং ৩৩ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ১৯ শিক্ষক ও ১১ কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করার এবং তাদের পুনরায় চাকরিতে বহালের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন প্রশাসন।
পরে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বের প্রশাসন বিভিন্নভাবে তাদের (জুলাই বিরোধী শিক্ষক) বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। কোন প্রেক্ষিতে সে সিদ্ধান্ত থেকে আবার সরে দাঁড়িয়েছে, সে ব্যাখ্যা আমি দিতে পারব না।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, যেহেতু একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই রাজনৈতিক দলের অনুসারী যারা বা আদর্শিক চেতনায় যারা বিশ্বাস করেন, তারা যেকোনো নামেই সংঘটিত হলে এবং যদি আমাদের কাছে এরকম কোনো ডকুমেন্ট আসে, নিঃসন্দেহে আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ