বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৬:২৪ পি.এম
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, 'চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জক। রাজস্ব আদায় খুবই ভালো হবে। এনবিআর-এর সবাই প্রস্তুত রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারব।'
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে এনবিআর-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এই কথা বলেন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এনবিআর-এর রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। বৈঠকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) নেতারা অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে উল্লেখ করে বলেন, সরকার বেসরকারি খাতের সমস্যাগুলো বুঝতে এবং সেগুলির সমাধানে নিয়মিতভাবে ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তিনি আরো বলেন, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে সরকার ইতিমধ্যেই বেশ কিছু নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি এও বলেছেন যে, যেসব সমস্যা এখনো রয়ে গেছে, সেগুলোর সমাধানের জন্য আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এসব সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে "জলবায়ু পরিবর্তনে আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বৃহষ্পতিবার (৯ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দুপুরের সময়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. আবুসাঈদ।
পরিবেশ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজিম উদ্দিন শেখ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে এতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সাঈদ মো. গাওছাল আজম, পিপিএম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রশাসক শরিফুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে, তরী বাংলাদেশ আহবায়ক শামীম আহমেদ, বিডি ক্লিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যোবায়ের শাওন, তরী বাংলাদেশের সদস্য সোহেল রানা ভ‚ইয়া প্রমূখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাহাড়ে বৃষ্টি থামছেই না। কখনো ভারি বৃষ্টি হচ্ছে, কখনো মাঝারি, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া অফিস ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে রাঙামাটির ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৮০০এর অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলাবাসির জন্য পানি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে এক নিখোঁজ রয়েছে। এখনও তার নাম পরিচয়সর্বস্ব। আরও জানা গেছে, রাঙামাটি সদর এলাকার মগবানে ইউনিয়নে বানের কারণে দলমনি চাকমা নামের একজন মারা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, গত পাঁচদিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাতে রাঙামাটিতে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এই পাহাড় ধসের ফলে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, কাপ্তাই-আসামবস্তি, রাজস্থলী-বাঙ্গালহালিয়া, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি দীঘিনালা ও সাজেক সড়কে চরম ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি শহরের উন্নয়নবোর্ড সংলগ্ন আভ্যন্তরিন সড়কও ভেঙ্গে গেছে। রাঙাপানি ভেদভেদী সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেছেন, রাঙামাটি ১৬টি স্থানে পাহাড় ধসে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আপাতত মাটি সরিয়ে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যদি বৃষ্টিপাত আরও অব্যাহত থাকে, তাহলে যানচালাচল বন্ধ হয়ে রাঙামাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে পাহাড় ধসে বিলাইছড়িতে ৩৭টি স্থানে বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাউখালী উপজেলার অনেক মানুষের ঘর ভেঙে গেছে। এছাড়া নীচু অঞ্চলে প্লাবিত হয়ে রাঙামাটি তিনটি উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, রাঙামাটি ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮০০এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরও জানালেন, ১০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কাচালং নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং দীঘিনালায় সড়কে পাহাড় ধসের কারণে পর্যটকদের সাজেকে অবস্থান করতে নিষেধ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। মাঠে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ম্যাজিন্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে।
এদিকে, বুধবার রাতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দীন রাঙামাটিতে হঠাৎ সফর করেছেন। তিনি রাঙামাটির বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৩০০ মেট্টিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পরবর্তীতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়া রাঙামাটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনিও আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষের জন্য খাবার বিতরণ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাওরের সুনামগঞ্জে চলতি মৌসুমের রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত পরিলক্ষিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জেলার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হিসেবে চিহ্নিত। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জেলা এলাকার সুরমা, কুশিয়ারা, বৌলাইসহ ছোট-বড় সকল নদ-নদীর পানির স্তর বাড়তে শুরু করেছে।
উজানের ঢল এবং বৃষ্টিপাতের ফলে সুরমা নদীর পানি শহরের নবীনগর পয়েন্টে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত ৫১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢলের কারণে তাহিরপুরের আনোয়ারপুর সড়ক ডুবে যাওয়ায় জেলা শহরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক জানিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার পাশাপাশি উজানে ভারি এবং অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মৌসুমী বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বন্যা মোকাবেলার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হচ্ছে এবং সকল ধরনের প্রস্তুতির কথা জানানো হচ্ছে। জেলা প্রশামক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান জানিয়েছেন, জেলায় ১৩১১টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। উদ্ধার কাজ পরিচালনার জন্য ৪৯২টি শতাধিক নৌযান ও সহ্রাধিক স্বেচ্ছাসেবক এবং ১০৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখার কথাও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। জিয়ার চাল, শুকনো খাবার সংরক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নির্বাহী অফিসার, পিআইওগণ এবং ডিআরআরওকরদের দুর্যোগের বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনগণকে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সতর্ক করার উদ্দেশ্যে মাইকিং, মসজিদ ও মন্দিরে প্রচারের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সকল উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপমানজনক বক্তব্যের জবাবে তেহরান একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করবে না।
তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের ট্রাম্পকে একইভাবে কটূক্তি করে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানানো সমালোচকদের প্রত্যাখ্যান করেন। এমন খবর জানায় আলজাজিরা।
পেজেশকিয়ান ইরানের একটি স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শতাধিক শিশু নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘যার হাত শিশুদের রক্তে রঞ্জিত, তার কাছ থেকে আমরা এমন রাজনীতি শিখব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি অপমান ছাড়া কথা বলতে বা নিজের চিন্তা প্রকাশ করতে পারেন না, তার বক্তব্য ও চিন্তাধারাই অপমানজনক। আমরা আমাদের অধিকার দৃঢ়ভাবে রক্ষা করব।’
এদিকে, তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিকে ‘শেষ’ বলে ঘোষণা করেন।
তিনি ইরানের নেতাদের ‘মিথ্যাবাদী’, ‘জঘন্য এবং হিংস্র’, ‘সহিংস ও অসুস্থ মানসিকতার মানুষ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ