প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাহাড়ে বৃষ্টি থামছেই না। কখনো ভারি বৃষ্টি হচ্ছে, কখনো মাঝারি, আবার কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়া অফিস ২৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। এর মধ্যে রাঙামাটির ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৮০০এর অধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
রাঙামাটি সদর, বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলাবাসির জন্য পানি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় পাহাড় ধসে এক নিখোঁজ রয়েছে। এখনও তার নাম পরিচয়সর্বস্ব। আরও জানা গেছে, রাঙামাটি সদর এলাকার মগবানে ইউনিয়নে বানের কারণে দলমনি চাকমা নামের একজন মারা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে খবর, গত পাঁচদিনের টানা ভারি বৃষ্টিপাতে রাঙামাটিতে ব্যাপক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এই পাহাড় ধসের ফলে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম, কাপ্তাই-আসামবস্তি, রাজস্থলী-বাঙ্গালহালিয়া, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি দীঘিনালা ও সাজেক সড়কে চরম ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া রাঙামাটি শহরের উন্নয়নবোর্ড সংলগ্ন আভ্যন্তরিন সড়কও ভেঙ্গে গেছে। রাঙাপানি ভেদভেদী সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাঙামাটি সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেছেন, রাঙামাটি ১৬টি স্থানে পাহাড় ধসে সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আপাতত মাটি সরিয়ে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যদি বৃষ্টিপাত আরও অব্যাহত থাকে, তাহলে যানচালাচল বন্ধ হয়ে রাঙামাটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে পাহাড় ধসে বিলাইছড়িতে ৩৭টি স্থানে বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাউখালী উপজেলার অনেক মানুষের ঘর ভেঙে গেছে। এছাড়া নীচু অঞ্চলে প্লাবিত হয়ে রাঙামাটি তিনটি উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, রাঙামাটি ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮০০এর বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরও জানালেন, ১০৪টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কাচালং নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং দীঘিনালায় সড়কে পাহাড় ধসের কারণে পর্যটকদের সাজেকে অবস্থান করতে নিষেধ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। মাঠে পুলিশ, সেনাবাহিনী, ম্যাজিন্ট্রেট, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করছে।
এদিকে, বুধবার রাতে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দীন রাঙামাটিতে হঠাৎ সফর করেছেন। তিনি রাঙামাটির বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১৩০০ মেট্টিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পরবর্তীতে আরও সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়া রাঙামাটির বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। তিনিও আশ্রয় কেন্দ্রের মানুষের জন্য খাবার বিতরণ করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন