ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

কুয়েতে উচ্ছেদ অভিযানে গৃহহীন হয়ে পড়েছে হাজারো প্রবাসী


কুয়েতে উচ্ছেদ অভিযানে গৃহহীন হয়ে পড়েছে হাজারো প্রবাসী

একদিকে তীব্র গ্রীষ্মের দাবদাহ, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে মাঝেমধ্যেই সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠছে। এর মধ্যেই কুয়েতের জেলিব আল-শুয়ুখ এলাকায় পরিচালিত বৃহৎ নিরাপত্তা অভিযানের ফলস্বরূপ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করার সরকারি পদক্ষেপে হঠাৎ করেই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো প্রবাসী। ফলে দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন নানা দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা।

কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, কুয়েত ফায়ার ফোর্স, বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়, পৌরসভাসহ মোট ১১টি সরকারি সংস্থার অংশগ্রহণে জেলিব এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করা, বিধিবহির্ভূত ভবনগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, আবাসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

আরও পড়ুন: ১১ জেলায় ৮৭৯ জন গ্রেপ্তার, ৩০৩ কিশোর অভিভাবকের জিম্মায় মুক্ত

তবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের দাবি, গভীর রাতে কার্যকর কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভবনগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত বের হয়ে যেতে বলা হয়। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলস্বরূপ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য পরিবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হন।

প্রবাসীদের অভিযোগ, চলতি জুলাই মাসের ১০ তারিখে বাড়ির মালিকেরা পুরো মাসের ভাড়া আদায় করেছেন। কিন্তু ভবনগুলো উচ্ছেদ বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে—এ বিষয়ে ভাড়াটিয়াদের আগে থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। তাদেরদাবি, যদি পর্যাপ্ত সময় দেয়া হতো তবে তারা বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারতেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় অনলাইন ফোরামেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, রাত দুই থেকে তিনটার মধ্যে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পরিচয়পত্র যাচাই করে দ্রুত ভবন ছাড়ার নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর ছোট শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই রাস্তায় অবস্থান করতে বাধ্য হন।

কুয়েত সরকার বলছে, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘ সময় ধরে জেলিব আল-শুয়ুখ এলাকার অনেক ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে ৬৭টি ভবন খালি করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালেও ধাপে ধাপে আরও ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সরকারের দাবি, অভিযানের পূর্বে উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বেনাপোলে পাসপোর্ট যাত্রীর ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই, দুই ব্যক্তি আটক

হঠাৎ উচ্ছেদের ফলে হাজারো শ্রমিক কর্মস্থল, পরিবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ভবনের ভেতরে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

কুয়েত টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রবাসীদের জন্য সরকার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে। কিন্তু এসব আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা এবং সেখানে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক প্রবাসী।

এদিকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। দূতাবাসের কাউন্সেলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শ্রম কল্যাণ শাখার কাউন্সেলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেয়। পাশাপাশি স্থানীয় কুয়েতি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করে তারা।

কুয়েতি কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই ধরনের অভিযান দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে।

আরও পড়ুন: এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন এনসিপির

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় ডুবলো নৌকা, নিখোঁজ ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৪৭ পি.এম


বুড়িগঙ্গায় লঞ্চের ধাক্কায় ডুবলো নৌকা, নিখোঁজ ২

রাজধানী ঢাকার পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে গেছে। এই ঘটনায় নৌকাটিতে থাকা ১০ জন যাত্রীর মধ্যে ৮ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও ২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

আজ রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছেন, গাজীপুরের কড্ডার বাজার থেকে একটি নতুন স্টিল বডি ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে ১০ জন লোক কুমিল্লা মুরাদনগরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। নৌকাটি পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে পৌঁছানোর পর সেটির ইঞ্জিন হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায়। এই সময় নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় থাকা নৌকাটিকে ‘সুন্দরবন-১২’ নামক একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ধাক্কা দিলে সেটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পর ৮ যাত্রী সাঁতরে নদীর কূলে উঠতে সক্ষম হলেও ২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। একই সময়ে নৌকাটি তলিয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান চলছেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্পের সহযোগিতা চাইছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৩ পি.এম


ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়াতে ট্রাম্পের সহযোগিতা চাইছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন চলতি সপ্তাহে প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউস সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করার একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন। রিপোর্ট জানাচ্ছে, এই তথ্যটি রয়টার্সের।

প্রায় দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো লেবানিজ রাষ্ট্রপ্রধান হোয়াইট হাউস সফর করছেন। গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে আউন দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত লেবানিজ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্পের সঙ্গে এটিই হবে তার প্রথম সরাসরি বৈঠক।

এখন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন সময়ে, যখন দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও ইসরায়েলি সেনা অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং হিজবুল্লাহ সরকার পরিচালিত নিরস্ত্রীকরণ উদ্যোগ ও ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করছে।

গত সপ্তাহে দেওয়া এক বক্তব্যে আউন জানান, তিনি ট্রাম্পকে ইসরায়েলের ওপর প্রয়োজনীয় চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানাবেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ২৬ জুন হওয়া সমঝোতা বাস্তবায়ন করা যায়। ওই সমঝোতার লক্ষ্য হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা, ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করা।

লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আউন ট্রাম্পের হাতে একটি লিখিত প্রস্তাব তুলে দেবেন, যেখানে হিজবুল্লাহর বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার কীভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা যায় তার রূপরেখা থাকবে। লেবাননের বিশ্বাস, ইসরায়েলকে সেনা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়ার মতো প্রভাব বর্তমানে ট্রাম্পেরই সবচেয়ে বেশি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্মাণ সামগ্রীর দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, আবাসন খাত চরম সংকটে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৪ পি.এম


নির্মাণ সামগ্রীর দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, আবাসন খাত চরম সংকটে!

দেশের আবাসন ও নির্মাণ খাতে গতি কমে গেছে। গত এক বছরে রড, বালু, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটেছে। একই সময়ে, পরিবহন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ সূচিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দ্বারা প্রকাশিত বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস প্রাইস ইনডেক্সের (বিএমপিআই) তথ্য এমন চিত্রই উপস্থাপন করছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি হচ্ছে যে, বাস্তবে ব্যয় সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং শুল্কের চাপ আবাসন খাতকে ক্রমেই ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আবাসনবান্ধব নীতিসহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নীতির কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নও কমে গেছে। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের সময় মে পর্যন্ত বরাদ্দের অর্ধেকও কার্যকর হওয়া সম্ভব হয়নি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আবাসন ও নির্মাণ খাতে।

এই পরিস্থিতির প্রতিফলন দেখা গেছে বিবিএসের বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস প্রাইস ইনডেক্সে (বিএমপিআই)। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে সূচকের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ, সেখানে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ২ দশমিক ০২ শতাংশে। অর্থাৎ রড, বালু, সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, শুধুমাত্র কর বৃদ্ধির কারণে ২৫ লাখ টাকার একটি লিফটের দাম এখন ৩৫ লাখ টাকায় পৌঁছে গেছে। বালু, সিমেন্ট, তারকাঁটা, বাঁশের চাটাই, টাইলস, রড—প্রায় সব নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়েছে। যার ফলে পুরো খাত চরম সংকটে রয়েছে।

এদিকে, নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার কমলেও পরিবহন এবং শ্রমিকের মজুরিতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএমপিআইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল জানান, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পরিবহন খরচ বেড়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। আগে যে ফ্ল্যাট প্রতি বর্গফুট ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হত, এখন তার নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১৩ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

তবে ব্যবসায়ীদের হিসাব বলছে, গত পাঁচ বছরে আবাসন ও নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি ৬০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। একই সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর কাঁচামালের দাম বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। এর ফলে আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো এবং আবাসনবান্ধব নীতিসহায়তা প্রয়োজন।

রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কেবল আবাসন খাত নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পও ধ্বংসের মুখে। যদি আবাসন খাত পুনরায় উঠতে পারে তবে এসব শিল্পও আবার সক্রিয় হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।

রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল জানিয়েছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে নির্মাণ সামগ্রীর দাম প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে আরও ১১ শতাংশ ব্যয় যোগ হয়েছে। অর্থাৎ মোট বিষয়টি প্রত্যাশা করা যা প্রাপ্ত হয়েছে তা ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় এই খাতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণ ও আবাসন সহ সংশ্লিষ্ট খাতে মিলিয়ে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে যুদ্ধে ৪৪৬ মার্কিন সেনার হতাহতের ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ পি.এম


ইরানে যুদ্ধে ৪৪৬ মার্কিন সেনার হতাহতের ঘটনা

চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা জবাব দিতে থাকে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেঙে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর এককভাবে হামলা চালাতে থাকে। এই যুদ্ধে শুরু থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৪৬ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনাটি জর্ডানে ঘটে, যেখানে দু’জন সেনার প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া আহত হয়েছে ৪৩০ জনের বেশি সেনা। রিপোর্টের সময় পর্যন্ত একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর, ১ মার্চ প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই দিন ইরানের একটি ড্রোন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে হামলা চালিয়ে ছয়জন মার্কিন সেনাকে হত্যা করে। একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের আরেকটি হামলায় গুরুতর আহত হয় একজন মার্কিন সেনা। আহত সেনাটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে মারা যান, ফলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

এরপর, ১২ মার্চ ইরাকের একটি সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, দুর্ঘটনার আগে আরেকটি বিমানের সঙ্গে একটি অনির্দিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল, তবে তদন্তে শত্রুপক্ষের হামলা অথবা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত গুলিবর্ষণের (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সবশেষ ১ জুলাই, আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনীর একজন পাইলট নিহত হয়। নৌবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি শত্রুপক্ষের কোনো হামলার কারণে ঘটেছে-এমন কোনও তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় আরও দু’জন সেনা নিহত হওয়ায় ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, যুদ্ধ চলাকালে আহতের সংখ্যা ৪৩০ জন ছাড়িয়েছে। আহতদের অনেকেই ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে আহত হয়েছেন। এছাড়া একজন মার্কিন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছে, যার সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হতাহতের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%