১২:৫৪ পি.এম
দেশের আবাসন ও নির্মাণ খাতে গতি কমে গেছে। গত এক বছরে রড, বালু, সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটেছে। একই সময়ে, পরিবহন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ সূচিত হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দ্বারা প্রকাশিত বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস প্রাইস ইনডেক্সের (বিএমপিআই) তথ্য এমন চিত্রই উপস্থাপন করছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি হচ্ছে যে, বাস্তবে ব্যয় সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং শুল্কের চাপ আবাসন খাতকে ক্রমেই ক্রয়ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে আবাসনবান্ধব নীতিসহায়তা জরুরি হয়ে পড়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নীতির কারণে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নও কমে গেছে। অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের সময় মে পর্যন্ত বরাদ্দের অর্ধেকও কার্যকর হওয়া সম্ভব হয়নি। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আবাসন ও নির্মাণ খাতে।
এই পরিস্থিতির প্রতিফলন দেখা গেছে বিবিএসের বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস প্রাইস ইনডেক্সে (বিএমপিআই)। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে সূচকের প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ, সেখানে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ২ দশমিক ০২ শতাংশে। অর্থাৎ রড, বালু, সিমেন্টসহ নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
আরও পড়ুন: রপ্তানি বৃদ্ধি ও নতুন বিনিয়োগে জাপানের সঙ্গে ইপিএ দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি: দূতাবাস
রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, শুধুমাত্র কর বৃদ্ধির কারণে ২৫ লাখ টাকার একটি লিফটের দাম এখন ৩৫ লাখ টাকায় পৌঁছে গেছে। বালু, সিমেন্ট, তারকাঁটা, বাঁশের চাটাই, টাইলস, রড—প্রায় সব নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়েছে। যার ফলে পুরো খাত চরম সংকটে রয়েছে।
এদিকে, নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার কমলেও পরিবহন এবং শ্রমিকের মজুরিতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিএমপিআইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল জানান, জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে পরিবহন খরচ বেড়েছে। জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধির ফলে শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। আগে যে ফ্ল্যাট প্রতি বর্গফুট ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করা হত, এখন তার নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১৩ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।
তবে ব্যবসায়ীদের হিসাব বলছে, গত পাঁচ বছরে আবাসন ও নির্মাণ খাতে প্রবৃদ্ধি ৬০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। একই সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর কাঁচামালের দাম বেড়েছে প্রায় ৩১ শতাংশ। এর ফলে আবাসন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পও ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো এবং আবাসনবান্ধব নীতিসহায়তা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: নাটোরে ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যার ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিলেন প্রতিমন্ত্রী পুতুল
রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, কেবল আবাসন খাত নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পও ধ্বংসের মুখে। যদি আবাসন খাত পুনরায় উঠতে পারে তবে এসব শিল্পও আবার সক্রিয় হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে।
রিহ্যাবের সভাপতি আলী আফজাল জানিয়েছেন, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে নির্মাণ সামগ্রীর দাম প্রায় ৩১ শতাংশ বেড়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে আরও ১১ শতাংশ ব্যয় যোগ হয়েছে। অর্থাৎ মোট বিষয়টি প্রত্যাশা করা যা প্রাপ্ত হয়েছে তা ৪২ থেকে ৪৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় এই খাতে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
তথ্য অনুযায়ী, নির্মাণ ও আবাসন সহ সংশ্লিষ্ট খাতে মিলিয়ে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) অবদান প্রায় ১৬ শতাংশ।
আরও পড়ুন: পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন