প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা জবাব দিতে থাকে এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতি ভেঙে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর এককভাবে হামলা চালাতে থাকে। এই যুদ্ধে শুরু থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৪৬ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ ঘটনাটি জর্ডানে ঘটে, যেখানে দু’জন সেনার প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া আহত হয়েছে ৪৩০ জনের বেশি সেনা। রিপোর্টের সময় পর্যন্ত একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর, ১ মার্চ প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই দিন ইরানের একটি ড্রোন কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে হামলা চালিয়ে ছয়জন মার্কিন সেনাকে হত্যা করে। একই দিনে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের আরেকটি হামলায় গুরুতর আহত হয় একজন মার্কিন সেনা। আহত সেনাটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পরে মারা যান, ফলে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।
এরপর, ১২ মার্চ ইরাকের একটি সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত কেসি-১৩৫ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, দুর্ঘটনার আগে আরেকটি বিমানের সঙ্গে একটি অনির্দিষ্ট ঘটনা ঘটেছিল, তবে তদন্তে শত্রুপক্ষের হামলা অথবা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত গুলিবর্ষণের (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সবশেষ ১ জুলাই, আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে মার্কিন নৌবাহিনীর একজন পাইলট নিহত হয়। নৌবাহিনী জানিয়েছে, দুর্ঘটনাটি শত্রুপক্ষের কোনো হামলার কারণে ঘটেছে-এমন কোনও তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলায় আরও দু’জন সেনা নিহত হওয়ায় ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধ চলাকালে আহতের সংখ্যা ৪৩০ জন ছাড়িয়েছে। আহতদের অনেকেই ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে আহত হয়েছেন। এছাড়া একজন মার্কিন সেনা এখনও নিখোঁজ রয়েছে, যার সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হতাহতের এই ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ও মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপও আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন