প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
একদিকে তীব্র গ্রীষ্মের দাবদাহ, অন্যদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে মাঝেমধ্যেই সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে উঠছে। এর মধ্যেই কুয়েতের জেলিব আল-শুয়ুখ এলাকায় পরিচালিত বৃহৎ নিরাপত্তা অভিযানের ফলস্বরূপ এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করার সরকারি পদক্ষেপে হঠাৎ করেই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো প্রবাসী। ফলে দেশটির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মানবিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন নানা দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা।
কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, কুয়েত ফায়ার ফোর্স, বিদ্যুৎ ও পানি মন্ত্রণালয়, পৌরসভাসহ মোট ১১টি সরকারি সংস্থার অংশগ্রহণে জেলিব এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করা, বিধিবহির্ভূত ভবনগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, আবাসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও একই ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
তবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের দাবি, গভীর রাতে কার্যকর কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভবনগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত বের হয়ে যেতে বলা হয়। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলস্বরূপ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য পরিবার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হন।
প্রবাসীদের অভিযোগ, চলতি জুলাই মাসের ১০ তারিখে বাড়ির মালিকেরা পুরো মাসের ভাড়া আদায় করেছেন। কিন্তু ভবনগুলো উচ্ছেদ বা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হবে—এ বিষয়ে ভাড়াটিয়াদের আগে থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। তাদেরদাবি, যদি পর্যাপ্ত সময় দেয়া হতো তবে তারা বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারতেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় অনলাইন ফোরামেও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা উঠে এসেছে। অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, রাত দুই থেকে তিনটার মধ্যে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পরিচয়পত্র যাচাই করে দ্রুত ভবন ছাড়ার নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর ছোট শিশু ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই রাস্তায় অবস্থান করতে বাধ্য হন।
কুয়েত সরকার বলছে, এটি কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘ সময় ধরে জেলিব আল-শুয়ুখ এলাকার অনেক ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ২০২৫ সালে ৬৭টি ভবন খালি করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালেও ধাপে ধাপে আরও ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সরকারের দাবি, অভিযানের পূর্বে উচ্ছেদ নোটিশ প্রদান, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
হঠাৎ উচ্ছেদের ফলে হাজারো শ্রমিক কর্মস্থল, পরিবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। অনেকের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও ভবনের ভেতরে রয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কুয়েত টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রবাসীদের জন্য সরকার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে। কিন্তু এসব আশ্রয়কেন্দ্রের ধারণক্ষমতা এবং সেখানে সহজে পৌঁছানোর সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক প্রবাসী।
এদিকে শুক্রবার (১৭ জুলাই) কুয়েতে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। দূতাবাসের কাউন্সেলর ও মিশন প্রধান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান এবং শ্রম কল্যাণ শাখার কাউন্সেলর শোয়াইব-উল-ইসলাম তরফদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের খোঁজখবর নেয়। পাশাপাশি স্থানীয় কুয়েতি কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করে তারা।
কুয়েতি কর্মকর্তারা প্রতিনিধি দলকে জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ এবং অবৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। একই ধরনের অভিযান দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন