বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪০ পি.এম
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের ফ্ল্যাগশিপ ফ্রি-মিল (বিনামূল্যের খাদ্য) কর্মসূচির আওতায় খাবার গ্রহণের পর চলতি সপ্তাহে দেশটির জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপে তিনটি ভিন্ন ঘটনায় ৮০০’রও বেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। বমি বমি ভাব, বমি এবং পেটে তীব্র ব্যথার কারণে অনেককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর প্রেসিডেন্টের এই প্রধান কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক ও সমালোচনা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।
অপুষ্টি দূর করার উদ্দেশ্যে গত বছর ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তো দেশের ৬ কোটি ২০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী এবং গর্ভবতী নারীর জন্য বহু বিলিয়ন ডলারের বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ প্রকল্প শুরু করেছিলেন। তবে এই বৃহৎ নীতিটি শুরু থেকেই খাদ্য বিষক্রিয়া, দুর্নীতির অভিযোগ, নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং বাজেট ঘাটতির অভিযোগসহ নানা বিতর্কে জর্জরিত হয়ে পড়েছে।
চলতি সপ্তাহের ঘটনায় পূর্ব জাভার সিদোয়ারজোতে খাবার খাওয়ার পর ৫৬৬ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে, যাদের মধ্যে ৮৮ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে হয়। একই অঞ্চলের এনগাঞ্জুতে বুধবার ফ্রাইড রাইস, মুরগির মাংস ও তোফু খাওয়ার পর ৪৯ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, একই দিনে পশ্চিম সুমাত্রার আগামে আরও ২৩৭ জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন, যেখানে ডিমকে এই বিষক্রিয়ার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে।
অসুস্থতার ঘটনার পর আগাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার খাদ্য বিতরণ মূল্যায়নের অজুহাতে আপাতত স্থগিত করেছে এবং সিদোয়ারজোর ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট রান্নাঘরের কার্যক্রমও বুধবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত এক বছরের মধ্যে এই কর্মসূচি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। টেম্পেতে পোকা, চালে কাচের টুকরো এবং নোংরা পানিতে থালাবাসন ধোয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সরব হয়েছেন। শিক্ষা নজরদারি সংস্থা ‘নেটওয়ার্ক ফর এডুকেশন ওয়াচ’-এর হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ আগস্ট পর্যন্ত এই খাবার খেয়ে প্রায় ৩৭ হাজার ৬০০ মানুষ খাদ্য বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছেন।
সরকারবিরোধী একমাত্র রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য চার্লস হনোরিস পুরো পরিস্থিতিকে ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে, জাতীয় পুষ্টি সংস্থা পূর্বে ঘটে যাওয়া বিষক্রিয়ার ঘটনাগুলোর জন্য খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার পৌঁছাতে দেরি হওয়াকে দায়ী করেছে।
তবে প্রেসিডেন্ট প্রাবোও এই সংকটকে খুব একটা বড় করে দেখতে নারাজ। তিনি বিষক্রিয়ার ঘটনাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, এ পর্যন্ত পরিবেশন করা শতকোটি খাবারের মধ্যে বিষক্রিয়ার হার মাত্র “০.০০১৭ শতাংশ; যা বেশ গর্ব করার মতো একটি সাফল্য।” তিনি আরও দাবি করেন যে, এই নীতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতি এবং পড়াশোনার মান বাড়িয়েছে।
জুলাই মাসে গবেষণা সংস্থা সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিংয়ের এক জরিপে দেখা যায়, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ এই প্রকল্পে সন্তুষ্ট, যার প্রধান কারণ বারবার ঘটে যাওয়া খাবার বিষক্রিয়া।
তবে নানামুখী সমালোচনা সত্ত্বেও গত মাসে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রাবোও কর্মসূচিটি চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা একদম মৌলিক বিষয় পুষ্টি দিয়েই শুরু করছি। আমাদের শিশুরা ক্ষুধার্ত পেটে পড়াশোনা করতে পারে না। কোনো শিশুই ক্ষুধার্ত থেকে সঠিকভাবে শিখতে পারে না। প্রতি চারজন ইন্দোনেশীয় শিশুর একজন অপুষ্টি বা স্টান্টিংয়ে ভুগবে – এই পরিস্থিতি আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা এটা হতে দেব না।"
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোর ওপর দিয়ে একটি শক্তিশালী বজ্রঝড় বয়ে গেছে। প্রবল বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং শিলাবৃষ্টির তীব্র তাণ্ডবে শহরের স্বাভাবিক জনজীবন একপ্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। ঝড়ের কারণে বাড়িঘরের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে, শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান টরন্টো হাইড্রোর তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের পর থেকে অন্তত ৪৫ হাজার গ্রাহক সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। ঝোড়ো বাতাসের দাপটে শহরের একাধিক স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ পরিবাহী তার ছিঁড়ে গেছে। এর ফলে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ভারী বর্ষণের কারণে শহরের ব্যস্ততম ডন ভ্যালি পার্কসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অনেক যানবাহন প্রায় নিমজ্জিত অবস্থায় আটকে থাকতে দেখা যায়।
ঝড়ের প্রভাব জরুরি স্বাস্থ্যসেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও পড়েছে। টরন্টোর ইস্ট ইয়র্ক এলাকায় অবস্থিত মাইকেল গ্যারন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পানি ঢুকে পড়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। বৈরি আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে নির্ধারিত ডজন ডজন ফ্লাইট বাতিল অথবা বিলম্বিত করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ। তিনি জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরের ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার চালু করা হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো উদ্ধারকাজে মাঠে নেমেছে। রাস্তা থেকে উপড়ে পড়া গাছ অপসারণ, ছিটকে পড়া বিদ্যুতের তার সরিয়ে নেওয়া এবং জমা পানি নিষ্কাশনে কাজ করছে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। পাশাপাশি টরন্টো ট্রানজিট কমিশন সাময়িকভাবে থমকে যাওয়া সাবওয়ে ও বাস সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঝড়ের পর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা গ্রেটার টরন্টো এলাকার জন্য জারি করা তীব্র বজ্রঝড়ের কমলা সতর্কতা তুলে নিয়েছে। তবে সাউথওয়েস্টার্ন অন্টারিও প্রদেশের কিছু অংশে দাবদাহ ও বজ্রঝড়ের সংকেত এখনো বহাল রাখা হয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর দুর্যোগকবলিত বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বের হতে এবং সাবধানে চলাফেরা করার নির্দেশ দিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের উত্তরপ্রদেশে মাঝ আকাশে ‘স্মোক অ্যালার্ম’ বেজে ওঠার কারণে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান জরুরি অবতরণ করেছে লখনউ বিমানবন্দরে। বৃহস্পতিবার সকালে বারাণসী থেকে দিল্লিগামী বিমানটির এই ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আইএক্স ১২৫৩ ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫২ মিনিটে বারাণসী থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানে হঠাৎ করে ‘স্মোক অ্যালার্ম’ বেজে ওঠে। পাইলট বিষয়টি বুঝতে পেরে সতর্ক হয়ে যান।
পাইলট এরপর লখনউ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি অবতরণের জন্য অনুমতি চান। লখনউ এটিসি অনুমতি দেওয়ার পর বিমানটি নিরাপদে লখনউ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে আগে থেকেই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল।
বিমানটি অবতরণের পর ১৫৫ জন যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে বিমানটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়।
তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় বিমানে ধোঁয়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং সন্দেহজনক কিছু শনাক্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ‘স্মোক অ্যালার্ম’ বেজে ওঠার কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে। সূত্র: আনন্দবাজার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণের পাশাপাশি স্থলপথে ট্যাংক ও বুলডোজার নিয়ে অনুপ্রবেশ করছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে শব্দ বোমা ফেলার ঘটনা ঘটেছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার, লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, ইসরায়েলি কামান থেকে মানসুরি শহরের দিকে গোলাবর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার সময় একটি মেরকাভা ট্যাংক ও একটি ডি-৯ বুলডোজার শহরটিতে প্রবেশ করে।
এছাড়া, লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, ওই এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক যানগুলোকে ফাঁদ পাতা কন্টেইনার পরিবহন করতে দেখা গেছে।
অন্য একটি অনুপ্রবেশের ঘটনায়, ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের হাসবায়া জেলার হালতা ফার্ম এলাকায় প্রবেশ করে। সেখানে কয়েকটি বাড়ি ঘেরাও করা হয় এবং কিছু বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, একটি ইসরায়েলি ড্রোন আজিয়াহ-মানসুরি সড়কে দুটি শব্দ বোমা ফেলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী হাদাথা ও ওয়াদি বারাচিত এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটায়। ভোরে টায়ার এলাকার আকাশে ইসরায়েলি ড্রোন উড়তে দেখা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসার নিয়ম ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার নির্দেশনা প্রদান করেছে। তবে, গুগলের বিশাল বিজ্ঞাপন ব্যবসা বিক্রি করে দেওয়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগীদের জন্য বাজারে আরও সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ব্যবসার পরিচালনার নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে।
বুধবার ভার্জিনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় জেলা আদালতের বিচারক লিওনি এম. ব্রিংকেমা এই নির্দেশ দেন। মার্কিন বিচার বিভাগের করা মামলায় বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগে গুগলের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এ বিষয়ে দুটি মামলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালে দায়ের করা একটি মামলায় গুগলের অনলাইন অনুসন্ধান ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে দায়ের করা মামলাটি সরাসরি গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসাকে লক্ষ্য করে।
দুই মামলাতেই সরকারের অভিযোগ, অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে গুগল বেআইনিভাবে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০২৪ সালে একটি আদালতের রায়ে গুগলের অনুসন্ধান ব্যবসাকে বেআইনি একচেটিয়া ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর আওতায় অনুসন্ধানভিত্তিক বিজ্ঞাপন ব্যবসার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আদালত উল্লেখ করে, গুগল তার একচেটিয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে অনুসন্ধান ও অনুসন্ধান বিজ্ঞাপনের বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে।
এরপর মার্কিন বিচার বিভাগ গুগলের ব্যবসা পুনর্গঠনের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে গুগলের ক্রোম ব্রাউজার ও অ্যান্ড্রয়েড পরিচালন ব্যবস্থা আলাদা করে দেওয়ার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিচারক অমিত মেহতা এসব প্রস্তাব নাকচ করেন। ফলে গুগল ক্রোম ও অ্যান্ড্রয়েড নিজেদের অধীনে রাখতে সক্ষম হয়। তবে, অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তি করা যাবে না, যার মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রে গুগলের অনুসন্ধান সেবা পূর্বনির্ধারিত হিসেবে রাখা হয়। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু অনুসন্ধান তথ্য ভাগ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এবার গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসা নিয়েও একই ধরনের নির্দেশনা এসেছে। বিচারক ব্রিংকেমা বলেছেন, গুগলকে তার বিজ্ঞাপন ব্যবসা বিক্রি করে দিতে হবে না। তবে, প্রতিযোগীদের জন্য সুযোগ বাড়াতে ব্যবসার নিয়ম ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হবে।
আদালতের পূর্ণ লিখিত রায় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আগামী ১৪ দিন রায়টি গোপন রাখা হবে। এই সময়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রয়োজনীয় গোপনীয় তথ্য বাদ দেওয়ার কাজ করবে। এরপর বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।
গুগল আদালতের এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রকবিষয়ক বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি-অ্যান মুলহল্যান্ড বলেন, "ছোট ব্যবসাগুলোকে নতুন গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করে এমন প্রযুক্তি ভেঙে দেওয়ার সরকারের প্রস্তাব আদালত প্রত্যাখ্যান করায় তাঁরা সন্তুষ্ট।"
অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজার বেশ জটিল। এই বাজারে গুগলের প্রভাব তৈরির পেছনে প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধান সেবার জনপ্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন সরকারের অভিযোগ, বিভিন্ন যন্ত্র নির্মাতার সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তি করেছিল গুগল। এসব চুক্তির কারণে বিপুলসংখ্যক মুঠোফোনে গুগলের অনুসন্ধান সেবা পূর্বনির্ধারিত হিসেবে রাখা হতো।
এ ছাড়া, মুঠোফোন অপারেটরদের সঙ্গেও আয় ভাগাভাগির চুক্তি ছিল গুগলের। এসব চুক্তির আওতায় গুগলের অনুসন্ধান সেবা পূর্বনির্ধারিত হিসেবে রাখার বিনিময়ে অপারেটররা বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া আয়ের একটি অংশ পেত।
মার্কিন সরকারের দাবি, এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে গুগল তার অনুসন্ধান ও বিজ্ঞাপন ব্যবসার আধিপত্য আরও শক্তিশালী করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ