বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪২ পি.এম
ভারতের উত্তরপ্রদেশে মাঝ আকাশে ‘স্মোক অ্যালার্ম’ বেজে ওঠার কারণে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমান জরুরি অবতরণ করেছে লখনউ বিমানবন্দরে। বৃহস্পতিবার সকালে বারাণসী থেকে দিল্লিগামী বিমানটির এই ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আইএক্স ১২৫৩ ফ্লাইটটি সকাল ৮টা ৫২ মিনিটে বারাণসী থেকে দিল্লির উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানে হঠাৎ করে ‘স্মোক অ্যালার্ম’ বেজে ওঠে। পাইলট বিষয়টি বুঝতে পেরে সতর্ক হয়ে যান।
পাইলট এরপর লখনউ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি অবতরণের জন্য অনুমতি চান। লখনউ এটিসি অনুমতি দেওয়ার পর বিমানটি নিরাপদে লখনউ বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে আগে থেকেই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল।
বিমানটি অবতরণের পর ১৫৫ জন যাত্রীকে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়। পরবর্তীতে বিমানটি ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয়।
তবে প্রাথমিক পরীক্ষায় বিমানে ধোঁয়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং সন্দেহজনক কিছু শনাক্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ‘স্মোক অ্যালার্ম’ বেজে ওঠার কারণ জানার জন্য তদন্ত চলছে। সূত্র: আনন্দবাজার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণের পাশাপাশি স্থলপথে ট্যাংক ও বুলডোজার নিয়ে অনুপ্রবেশ করছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে শব্দ বোমা ফেলার ঘটনা ঘটেছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার, লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, ইসরায়েলি কামান থেকে মানসুরি শহরের দিকে গোলাবর্ষণ করা হয়। এই ঘটনার সময় একটি মেরকাভা ট্যাংক ও একটি ডি-৯ বুলডোজার শহরটিতে প্রবেশ করে।
এছাড়া, লেবাননের সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, ওই এলাকায় ইসরায়েলি সামরিক যানগুলোকে ফাঁদ পাতা কন্টেইনার পরিবহন করতে দেখা গেছে।
অন্য একটি অনুপ্রবেশের ঘটনায়, ইসরায়েলি বাহিনী নাবাতিয়েহ গভর্নরেটের হাসবায়া জেলার হালতা ফার্ম এলাকায় প্রবেশ করে। সেখানে কয়েকটি বাড়ি ঘেরাও করা হয় এবং কিছু বাসিন্দাকে বাড়ি থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, একটি ইসরায়েলি ড্রোন আজিয়াহ-মানসুরি সড়কে দুটি শব্দ বোমা ফেলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ইসরায়েলি বাহিনী হাদাথা ও ওয়াদি বারাচিত এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটায়। ভোরে টায়ার এলাকার আকাশে ইসরায়েলি ড্রোন উড়তে দেখা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসার নিয়ম ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার নির্দেশনা প্রদান করেছে। তবে, গুগলের বিশাল বিজ্ঞাপন ব্যবসা বিক্রি করে দেওয়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিযোগীদের জন্য বাজারে আরও সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ব্যবসার পরিচালনার নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে।
বুধবার ভার্জিনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় জেলা আদালতের বিচারক লিওনি এম. ব্রিংকেমা এই নির্দেশ দেন। মার্কিন বিচার বিভাগের করা মামলায় বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগে গুগলের বিরুদ্ধে কয়েক বছর ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছে মার্কিন বিচার বিভাগ। এ বিষয়ে দুটি মামলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০ সালে দায়ের করা একটি মামলায় গুগলের অনলাইন অনুসন্ধান ব্যবসা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে দায়ের করা মামলাটি সরাসরি গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসাকে লক্ষ্য করে।
দুই মামলাতেই সরকারের অভিযোগ, অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজারে গুগল বেআইনিভাবে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০২৪ সালে একটি আদালতের রায়ে গুগলের অনুসন্ধান ব্যবসাকে বেআইনি একচেটিয়া ব্যবসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর আওতায় অনুসন্ধানভিত্তিক বিজ্ঞাপন ব্যবসার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আদালত উল্লেখ করে, গুগল তার একচেটিয়া ক্ষমতা ব্যবহার করে অনুসন্ধান ও অনুসন্ধান বিজ্ঞাপনের বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে।
এরপর মার্কিন বিচার বিভাগ গুগলের ব্যবসা পুনর্গঠনের জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে গুগলের ক্রোম ব্রাউজার ও অ্যান্ড্রয়েড পরিচালন ব্যবস্থা আলাদা করে দেওয়ার প্রস্তাবও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিচারক অমিত মেহতা এসব প্রস্তাব নাকচ করেন। ফলে গুগল ক্রোম ও অ্যান্ড্রয়েড নিজেদের অধীনে রাখতে সক্ষম হয়। তবে, অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তি করা যাবে না, যার মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রে গুগলের অনুসন্ধান সেবা পূর্বনির্ধারিত হিসেবে রাখা হয়। একই সঙ্গে প্রতিযোগীদের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু অনুসন্ধান তথ্য ভাগ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
এবার গুগলের বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যবসা নিয়েও একই ধরনের নির্দেশনা এসেছে। বিচারক ব্রিংকেমা বলেছেন, গুগলকে তার বিজ্ঞাপন ব্যবসা বিক্রি করে দিতে হবে না। তবে, প্রতিযোগীদের জন্য সুযোগ বাড়াতে ব্যবসার নিয়ম ও কার্যক্রমে পরিবর্তন আনতে হবে।
আদালতের পূর্ণ লিখিত রায় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। আগামী ১৪ দিন রায়টি গোপন রাখা হবে। এই সময়ে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রয়োজনীয় গোপনীয় তথ্য বাদ দেওয়ার কাজ করবে। এরপর বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।
গুগল আদালতের এই সিদ্ধান্তকে নিজেদের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রকবিষয়ক বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট লি-অ্যান মুলহল্যান্ড বলেন, "ছোট ব্যবসাগুলোকে নতুন গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করে এমন প্রযুক্তি ভেঙে দেওয়ার সরকারের প্রস্তাব আদালত প্রত্যাখ্যান করায় তাঁরা সন্তুষ্ট।"
অনলাইন বিজ্ঞাপনের বাজার বেশ জটিল। এই বাজারে গুগলের প্রভাব তৈরির পেছনে প্রতিষ্ঠানটির অনুসন্ধান সেবার জনপ্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
মার্কিন সরকারের অভিযোগ, বিভিন্ন যন্ত্র নির্মাতার সঙ্গে একচেটিয়া চুক্তি করেছিল গুগল। এসব চুক্তির কারণে বিপুলসংখ্যক মুঠোফোনে গুগলের অনুসন্ধান সেবা পূর্বনির্ধারিত হিসেবে রাখা হতো।
এ ছাড়া, মুঠোফোন অপারেটরদের সঙ্গেও আয় ভাগাভাগির চুক্তি ছিল গুগলের। এসব চুক্তির আওতায় গুগলের অনুসন্ধান সেবা পূর্বনির্ধারিত হিসেবে রাখার বিনিময়ে অপারেটররা বিজ্ঞাপন থেকে পাওয়া আয়ের একটি অংশ পেত।
মার্কিন সরকারের দাবি, এ ধরনের চুক্তির মাধ্যমে গুগল তার অনুসন্ধান ও বিজ্ঞাপন ব্যবসার আধিপত্য আরও শক্তিশালী করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া দুটি হত্যা মামলায় আগাম জামিনের জন্য হাইকোর্টে হাজির হয়েছিলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। বৃহস্পতিবার তিনি সশরীরে আদালতে গিয়ে জামিনের আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তার আবেদন গ্রহণ না করে ফিরিয়ে দেয়।
রিয়াজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে একটি হলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় রাজধানীর সরকারি আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ এমদাদকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে। এই মামলা ২০২৫ সালের ২ মে দায়ের করা হয়। মামলায় শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে শিল্পী, সাংবাদিক, শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ মোট ২০১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলামের আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে শাহবাগ থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলায় আসামি করা ১৪ অভিনয়শিল্পীর মধ্যে চিত্রনায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস আহমেদ, চঞ্চল চৌধুরী, মামুনুর রশীদ, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন, অরুণা বিশ্বাস, জ্যোতিকা জ্যোতি, শামীমা তুষ্টি, শমী কায়সার, সাজু খাদেম, আশনা হাবীব ভাবনা, সোহানা সাবা, রোকেয়া প্রাচী ও জায়েদ খান অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
এ মামলায় সাংবাদিকদের মধ্যেও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে কালবেলা সম্পাদক সন্তোষ শর্মা এবং এটিএন নিউজের মুন্নী সাহা উল্লেখযোগ্য। শিক্ষকদের মধ্যে জাফর ইকবাল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মিজানুর রহমান ও মুনতাসির মামুনসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ইমরান এইচ সরকার ও লাকী আক্তারকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।
জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া অন্য একটি হত্যা মামলাতেও রিয়াজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ওই দুই মামলায় আগাম জামিনের জন্য বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু আদালত শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন ফিরিয়ে দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নিথর রাতগুলোতে মাঝে মাঝে বৃদ্ধাশ্রমের ঘরটিতে বসে হরিনামে সুর তুলতেন ৯৭ বছর বয়সী বৃদ্ধা গুণ মায়া বোহরা। কিন্তু হঠাৎ করে সেই সুরে ছেদ পড়েছে। এখন ‘হরে রাম, হরে কৃষ্ণ’ ভজনের সুর বাতাসে মিলিয়ে গিয়ে ভেসে আসছে একটি উদাস প্রশ্ন; পানি কেন আমাকে ওভাবে এসে আঘাত করল? হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে তিনি এই একই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন। বর্তমানে নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর বীর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই প্রবীণ নারী চরম মানসিক ট্রমা (অ্যাকিউট স্ট্রেস ডিসঅর্ডার)-এ ভুগছেন। তার দুই হাত ও পা জুড়ে কালো আর নীল দাগ, শরীরের ভেতর বয়ে চলেছে এক অলৌকিক টিকে থাকার গল্প।
গত ২৬ আগস্টের সেই কালরাত আর সকালের স্মৃতি এখনও তার মনে তাড়া করে ফিরছে। নুয়াকোটের দেবীঘাট এলাকার নদীতীরবর্তী বৃদ্ধাশ্রমের নিচতলার একটি কামরায় ছিলেন গুণ মায়া। হিমালয়ের সুউচ্চ চূড়ায় যে এক বিশাল হিমবাহ ধসে পড়েছে, এবং সেই ধস থেকে সৃষ্টি হওয়া ভূমিধসের জলরাশি ত্রিশূলী নদীতে আছড়ে পড়ে প্রলয়ঙ্করী বন্যা তৈরি করেছে, এসবের কিছুই তার জানা ছিল না। দেখতে দেখতে সেই উত্তাল জলস্রোত আর কাদা-পাথরের পাহাড়ি ঢল আছড়ে পড়ে বৃদ্ধাশ্রমটির নিচতলায়। স্রোতের তীব্র ধাক্কায় গুণ মায়া নিচতলার এক কোণে গিয়ে আটকে পড়েন। যদিও ধ্বংসাত্মক স্রোতে অনেকেই জীবন হারালেও অলৌকিকভাবে গুণ মায়ার আশপাশের পানির তীব্রতা কিছুটা কম ছিল।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নেপাল পুলিশ ও নেপালি সেনাবাহিনী উদ্ধার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ, যাতে ভেতরে আটকে থাকা বৃদ্ধার কোনো ক্ষতি না হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তার আত্মীয়স্বজনরাও ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তারা একটি জেসিবি এস্কেভেটর যন্ত্র নিয়ে সেখানে হাজির হন। গুণ মায়ার এক বড় নাতি দীপকের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, তারা ধাপে ধাপে কাদা ও পাথরের স্তূপ সরিয়ে অবশেষে এস্কেভেটরের বালতিতে করে তাকে পরম যত্নে নিরাপদে তুলে নিয়ে আসেন। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তুলে আনা এই দীর্ঘজীবী নারী যেন মৃত্যুর মুখ থেকে নতুন এক জীবন ছিনিয়ে আনলেন।
তবে গত সপ্তাহের এই প্রলয়ঙ্করী বন্যা গুণ মায়ার জীবনে আসা ঘাত-প্রতিঘাতের প্রথম গল্প নয় বরং দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দীর জীবনে বারবার শোক ও হার না মানা সংগ্রামের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ৯৭ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে তিনি তার স্বামীর মৃত্যুর ৮১ বছর পার করেছেন। তৎকালীন সমাজের বাল্যবিবাহের রেওয়াজ অনুযায়ী মাত্র আট বছর বয়সে নুয়াকোটের সূর্যগড়িতে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের মাত্র আট বছরের মাথায় স্বামীকে হারান তিনি। শোকের মিছিল এখানেই থামেনি; এর চার বছরের মধ্যে মা-বাবাকে হারান গুণ মায়া এবং তার কিছুদিন পর বিদায় নেন তাঁর একমাত্র ভাইও। কুড়ি বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই তার নিজের রক্তের সম্পর্কের প্রায় সব মানুষ পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।
জীবনের এই দীর্ঘ যাত্রায় নিজের কোনো সন্তান হয়নি গুণ মায়ার। কিন্তু রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও তিনি কখনোই একা ছিলেন না। স্বামীর তিন ভাই, তাদের স্ত্রী এবং পরবর্তীতে তাঁদের সন্তানদের নিজের পরিবার বানিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তেরো জন ভাইপো আর বারো জন ভাইঝিকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ-ভালোবাসায় লালন-পালন করে বড় করেছেন। প্রতিদিন সকালে তাদের স্কুলে পাঠানোর জন্য পরম আদরে ভুট্টা ভেজে নাস্তা প্যাক করে দিতেন। দীপকের মতে, গুণ মায়াদের প্রজন্মের নারীরা তখনকার দিনে নীরবে-নিভৃতে কীভাবে গোটা সংসারকে আগলে রেখেছেন, তা আজকের দিনে সত্যি অবিশ্বাস্য। রক্তের কেউ বেঁচে না থাকলেও তার নিজের হাতে গড়া সেই পরিবারের ২৫ জন ভাইপো-ভাইঝি আজও পর্যায়ক্রমে বীর হাসপাতালের শয্যা পাশে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তাদের প্রিয় ‘মা’ সদৃশ অভিভাবককে।
৮৩ বছর বয়সে তিনি নিজ ইচ্ছাতেই দেবীঘাটের ‘সিনিয়র সিটিজেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ নামের ওই বৃদ্ধাশ্রমটিকে নিজের নতুন ঠিকানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন, যাতে কাছাকাছি থাকা ভাইঝিরা এসে প্রতিদিন দেখা করে যেতে পারেন। বৃদ্ধাশ্রমের সমবয়সী মানুষদের মাঝে বেশ ভালোই কাটছিল তার দিন। সবার জন্মদিন উদ্যাপন করা, একসাথে ভজন গাওয়াই ছিল তার আনন্দের খোরাক। পায়ের পুরোনো সমস্যা আর বন্যায় হাতে পাওয়া চোট নিয়ে এখনও ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। তবে এত বয়সেও তাঁর শারীরিক যে সক্ষমতা, তা সত্যিই বিস্ময়কর। দুর্ঘটনার পর প্রথম দুই দিন কেবল ফলের রস খেয়ে থাকলেও এখন দুধ ও সাধারণ খাবার হজম করতে পারছেন তিনি।
শারীরিক জখম হয়তো সময়ের সাথে সাথে শুকিয়ে যাবে, কিন্তু মনের ভেতরের গভীর ক্ষত মিটতে সময় লাগছে। চিকিৎসাধীন গুণ মায়া বারবার জিজ্ঞেস করছেন, পানি কেন তাঁকেই এসে ওভাবে আঘাত করল। পরম মমতায় নাতি দীপক তাঁকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেন যে, অনেক উঁচুতে থাকা গোসাইকুণ্ড হ্রদটি ভেঙে পড়ার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। বুড়িমা কিছুক্ষণ চুপ থেকে হয়তো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেন, কিন্তু কয়েক ঘণ্টা বাদেই সেই পুরোনো আতঙ্ক আবার তাকে গ্রাস করে, আবার ভেসে আসে সেই একই কাতর প্রশ্ন। কাঠমাণ্ডুর হাসপাতালের কোণে বসে ২৫ জন স্বজন এখন অপেক্ষা করছেন সেই দিনের, যেদিন দীর্ঘ সংগ্রামের প্রতীক ৯৭ বছরের এই বৃদ্ধার মন থেকে বন্যার আতঙ্ক মুছে যাবে এবং তিনি আবার আগের মতো শান্তিতে ভজনের সুরে হারিয়ে যাবেন।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ