০৬:২৯ পি.এম
সরকার সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বন্ধের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের পরিবর্তে রাষ্ট্রের কাজ এবং জনস্বার্থ রক্ষার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেছে। সরকারের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে এমনটি বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, প্রধানমন্ত্রী তার মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার ১০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন।
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর নির্বাচনের আগে বিএনপি ৩১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে। জনগণের সমর্থন নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
এ উপলক্ষে সরকারের প্রকাশিত ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশ ছিল আমদানিনির্ভর এবং ঋণনির্ভর অর্থনীতি, ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন এবং দুর্বল শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্যে। সরকার প্রথম দিন থেকেই পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে। তবে প্রথম ১৮০ দিনে প্রতিটি খাতে শতভাগ সাফল্যের দাবি করেনি সরকার।
জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের শতভাগ আন্তরিকতা ছিল বলে ই-বুকে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা, কৃষির পুনরুজ্জীবন, সামাজিক সুরক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং বিশ্ব পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সরকারের দাবি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ন্যায়, জবাবদিহি, মানবিক মূল্যবোধ ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের কাজ চলছে। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে ধৈর্য ও সহনশীলতার রাজনীতির কথা বলা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার বন্ধ, সরকারি অফিস, আদালত, স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে অপ্রয়োজনে নেতার ছবি টাঙানোর সংস্কৃতি বন্ধ, প্রধানমন্ত্রীর চলাচলে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং গাড়িবহরে প্রটোকলের বাড়াবাড়ি না রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার মূল বেতনের ১০ শতাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দিচ্ছেন এবং দলীয় এমপিদের বাড়ি-গাড়ির সুবিধা নিতে নিষেধ করেছেন।
সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বন্ধের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচারের পরিবর্তে রাষ্ট্রের কাজ এবং জনস্বার্থকে সামনে আনার দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরকারি ব্যয় সংকোচন, প্রটোকল সরলীকরণ, ব্যক্তিবন্দনার অবসান এবং জনমুখী উদ্যোগের সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন ধরনের চর্চার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আব্বাসউদ্দীনের ভাওয়াইয়া গান নিয়ে উৎসবের আয়োজন করবে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
সংসদীয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে ভোজ, আপ্যায়ন, বিদেশ সফরের প্রতিনিধিদলসহ অপ্রয়োজনীয় খাতে কাটছাঁট করা হয়েছে। দেশীয় পণ্য ব্যবহারে অগ্রাধিকার, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, সরল জীবনযাপন এবং প্রশাসনে অপচয় রোধে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিরোধী দলের প্রতি সৌজন্যমূলক আচরণ, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের সংস্কৃতি নিরুৎসাহিত করার কথাও বলা হয়েছে।
প্রবাসী কর্মীদের শ্রমিক ঋণ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ঋণ, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা, কৃষিঋণ মওকুফ, ‘ওয়ান স্টপ ওয়ান সার্ভিস’, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’, খুদে বৈজ্ঞানিক প্রকল্প এবং ‘নজরুলবর্ষ’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মাসিক মূল বেতন ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এর ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি মাসে ১১ হাজার ৫০০ টাকা তিনি সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন বলেও ই-বুকে উল্লেখ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন