ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দিরাইয়ে ১২ লিটার মদসহ গ্রেপ্তার ১, পলাতক ১


দিরাইয়ে ১২ লিটার মদসহ গ্রেপ্তার ১, পলাতক ১

সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে পুলিশের অভিযানে ১২ লিটার মদসহ পিকলু তালুকদার (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাসেন্দ্র তালুকদার (৩৭) নামে আরও একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই (নিঃ) শাহ আলম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালান। এ সময় জনৈক সঞ্জয়ের টিনের ঘরের ভেতর চৌকির নিচ থেকে ১২ লিটার মদ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পিকলু তালুকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় রাসেন্দ্র তালুকদার কৌশলে পালিয়ে যায়। তিনি রফিনগর ইউনিয়নের সমীপুর গ্রামের রমাকান্ত তালুকদারের ছেলে।
এ ঘটনায় দিরাই থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ২৪(খ)/৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার এফআইআর নম্বর-৬, তারিখ ৫ অক্টোবর ২০২৬ এবং জিআর নম্বর-১৮৯।
দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চবিতে সময় যেখানে থেমে আছে ইতিহাসের মাঝে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১০ পি.এম


চবিতে সময় যেখানে থেমে আছে ইতিহাসের মাঝে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের দিকে গেলে পরিচিত ক্যাম্পাসের দৃশ্যটি বদলে যায়। চারপাশে সবুজ গাছপালা ও তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটি ভবন, যেখানে শত শত বছরের ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম থেকে শুরু করে প্রাচীন মুদ্রা, পাথর ও ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য, এমনকি মুঘল আমলের কামান, এখানে সময় যেন থমকে আছে নানা নিদর্শনের মধ্যে।

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনে অবস্থানের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর কাছে জাদুঘরটি দীর্ঘদিন ধরে অজ্ঞাত রয়ে গেছে। কিন্তু একবার ভেতরে প্রবেশ করলে ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, শিল্পকলা ও লোকঐতিহ্যের ভিন্ন এক জগতের সঙ্গে পরিচিত হন দর্শনার্থীরা।

ক্লাসের ফাঁকে কিংবা অবসর সময়ে শিক্ষার্থীরা এখানে আসেন ইতিহাস জানতে, গবেষণার উপকরণ খুঁজতে, অথবা কৌতূহলবশত ঘুরে দেখতে। ফলে এটি কেবল পুরোনো নিদর্শন সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের শেখা ও ঘুরে দেখার একটি আলাদা জায়গা হয়ে উঠেছে।

২৪টি প্রত্নসামগ্রীর প্রদর্শনী থেকে আজকের জাদুঘর

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের ধারণার সূচনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মলগ্নেই ঘটে। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধনের সময় ইতিহাস বিভাগের উদ্যোগে ২৪টি প্রত্নসামগ্রী নিয়ে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য ইতিহাসবিদ ড. এ আর মল্লিক জাদুঘর গড়ে তোলার বিষয়ে আগ্রহী ছিলেন।

পরবর্তীতে ইতিহাসবিদ ড. আবদুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে একটি প্রাতিষ্ঠানিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কমিটি ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় ১৯৭৩ সালের ১৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর।

শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদ ভবনের ছোট একটি পরিসরে কার্যক্রম চললেও বিভিন্ন সময়ে স্থান পরিবর্তনের পর ১৯৯২ সালে জাদুঘরটি বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয়।

সময়ের সঙ্গে বেড়েছে এর সংগ্রহ, গবেষণা কার্যক্রম ও পরিধি। বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরকে দেশের ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক সংগ্রহশালাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এক ছাদের নিচে পাঁচ গ্যালারির ইতিহাস

জাদুঘরের ওপরতলার প্রধান প্রদর্শনী অংশে পাঁচটি গ্যালারি রয়েছে- প্রাগৈতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ব গ্যালারি, প্রাচীন ভাস্কর্য গ্যালারি, ইসলামিক শিল্পকলা গ্যালারি, লোকশিল্প গ্যালারি এবং সমকালীন শিল্পকলা গ্যালারি।

প্রতিটি গ্যালারির বিষয় ও সংগ্রহ আলাদা। কোথাও হাজার বছরের পুরোনো প্রত্ননিদর্শন, কোথাও বাংলার লোকজ জীবন, আবার কোথাও আধুনিক শিল্পীদের শিল্পকর্ম। ফলে এক গ্যালারি থেকে আরেক গ্যালারিতে যেতে যেতে দর্শনার্থীর সামনে খুলে যায় ইতিহাসের একেকটি অধ্যায়।

প্রাগৈতিহাসিক ও প্রত্নতত্ত্ব গ্যালারির উল্লেখযোগ্য সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ পাহাড় থেকে পাওয়া মাছের জীবাশ্ম। এছাড়া রয়েছে কাঠের জীবাশ্ম, বিভিন্ন প্রত্নস্থল থেকে সংগৃহীত টেরাকোটা ফলক, মাটির তৈরি প্রত্নবস্তু, সিলমোহর, পুঁতি ও প্রাচীন মুদ্রাসহ নানা নিদর্শন।

প্রাচীন ভাস্কর্য গ্যালারি আরও এক বিস্ময়ের জায়গা। জাদুঘরের সংগ্রহে ৫২টি পাথরের এবং ২৫টি ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য রয়েছে। পাল ও সেন যুগসহ বিভিন্ন সময়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে এসব প্রত্নবস্তু।

দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে ‘সার জং’

জাদুঘরের সবচেয়ে আলোচিত নিদর্শনগুলোর একটি মুঘল সম্রাট শাহজাহানের শাসনামলের কামান ‘সার জং’। প্রায় ১৯৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের কারুকাজখচিত কামানটি সামনে দাঁড়ালে কয়েক শতাব্দী আগের এক সময় যেন মুহূর্তেই কাছে চলে আসে।

ইসলামিক শিল্পকলা গ্যালারিতে মুঘল ও সুলতানি আমলের বিভিন্ন নিদর্শনের পাশাপাশি রয়েছে প্রাচীন ও মধ্যযুগের মুদ্রা, হাতে লেখা পবিত্র কোরআন, পুঁথি, দলিল, ক্যালিগ্রাফি এবং ঐতিহাসিক মসজিদের ছবি। জাদুঘরের মুদ্রা সংগ্রহও বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। প্রাচীন ও মধ্যযুগের প্রায় এক হাজার মুদ্রা রয়েছে এই সংগ্রহে।

অন্যদিকে লোকশিল্প গ্যালারিতে ধরা দিয়েছে বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ জীবন। তাঁতের তৈরি সামগ্রী, চরকা, পালকি, পুরোনো অলংকার, ঢেঁকি, কাঠের নৌকা, মাটির পুতুল, তামা-পিতলের তৈজসপত্র, বেতের ঝুড়িসহ নানা উপকরণ মনে করিয়ে দেয় এক সময়ের জীবনযাত্রাকে।

সমকালীন শিল্পকলা গ্যালারিতে রয়েছে জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, মুর্তজা বশীর ও রশীদ চৌধুরীর মতো দেশের বরেণ্য শিল্পীদের কাজ। ফলে প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে আধুনিক শিল্প পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের এক বিস্তৃত যাত্রা একই ভবনে দেখতে পারেন দর্শনার্থীরা।

প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইতিহাসের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ের স্মৃতিও সংরক্ষণ করছে জাদুঘরটি। এখানে রয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান হল’। জুলাই আন্দোলনে শহীদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের দুই শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ও মো. ফরহাদ হোসেনের বেশ কিছু স্মৃতিচিহ্ন এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে হৃদয় তরুয়ার পরিহিত পোশাকও রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।

জাদুঘরে ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তারের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় ছিল নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন একটি জাদুঘর থাকা।

তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জাদুঘর আছে, আগে জানতাম না। এখানে ইতিহাসের অনেক পুরোনো নিদর্শন স্বচক্ষে দেখতে পেরেছি। বিশেষ করে মুঘল আমলের বিভিন্ন নিদর্শন দেখেছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব এমন একটি জাদুঘর থাকা সত্যিই গর্বের বিষয়।"

তবে এমন সমৃদ্ধ সংগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জাদুঘরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর কাছে সমান পরিচিত নয়।

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিসা কারিমা বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব এমন একটি জাদুঘর থাকা আমাদের জন্য বিশেষ ব্যাপার। কিন্তু এটি এখনো শিক্ষার্থীদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের দিকে হওয়ায় অনেক সময় চোখের আড়ালেই থেকে যায়। ভেতরে এসে এত সমৃদ্ধ সংগ্রহ দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি।"

শুধু প্রদর্শনী নয়, গবেষণারও জায়গা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের গুরুত্ব কেবল দর্শনীয় স্থান হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষকদের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি কেন্দ্র।

জাদুঘরের নিচতলায় রয়েছে ‘আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ কোষ গ্রন্থাগার’। এখানে বাংলা, সংস্কৃত, ফারসি, আরবি, পালিসহ বিভিন্ন ভাষার দুর্লভ পাণ্ডুলিপি, বই ও ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষিত রয়েছে। ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, শিল্পকলা, জাতিতত্ত্ব, প্রাচীন লিপি, লোকসংস্কৃতি ও বাংলাদেশের ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা গবেষকদের জন্য রয়েছে গবেষণার উপকরণ ও পাঠের সুযোগ।

এ ছাড়া জাদুঘরে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী সংরক্ষণ গবেষণাগার। অর্থাৎ প্রদর্শনীতে রাখা নিদর্শন দেখানোর পাশাপাশি সেগুলো সংরক্ষণ এবং গবেষণার কাজও চলে একই প্রতিষ্ঠানে।

জাদুঘর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এখানে দুই হাজারের বেশি প্রত্ন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে। প্রাগৈতিহাসিক জীবাশ্ম, প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় মুদ্রা, পাথর ও ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য, টেরাকোটা ফলক, লোকশিল্প, পাণ্ডুলিপি, দলিল ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপকরণ বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এর সংগ্রহ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের সুপারভাইজার আলী হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারিতে বিভিন্ন যুগের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষিত আছে এবং শিক্ষার্থী ও গবেষকেরা নিয়মিত এগুলো দেখতে ও গবেষণার কাজে ব্যবহার করতে আসেন। ভবিষ্যতে জাদুঘরটিকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পেছনের নিরিবিলি জায়গাটিতে তাই শুধু একটি দোতলা ভবন দাঁড়িয়ে নেই; তার ভেতরে পাশাপাশি অবস্থান করছে বিভিন্ন সময়, সমাজ ও সংস্কৃতির অসংখ্য চিহ্ন।

কয়েক শতাব্দী আগের একটি মুদ্রা, পাথরে খোদাই করা ভাস্কর্য, হাতে লেখা একটি পাণ্ডুলিপি কিংবা মুঘল আমলের কামান প্রতিটি বস্তুই যেন নিজের সময়ের একটি গল্প বলে।

কোলাহলময় বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের খুব কাছেই এই নীরব জায়গাটি তাই ইতিহাসকে শুধু পড়ার নয়, চোখের সামনে দেখারও সুযোগ করে দেয়। অনেক শিক্ষার্থীর কাছে এখনো কিছুটা আড়ালে থাকা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘর সেই অর্থে ক্যাম্পাসের ভেতরেই লুকিয়ে থাকা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক সমৃদ্ধ ঠিকানা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপের টিকে থাকতে রুশ জ্বালানি অপরিহার্য: পুতিনের বিশেষ দূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


ইউরোপের টিকে থাকতে রুশ জ্বালানি অপরিহার্য: পুতিনের বিশেষ দূত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আসন্ন শীতে একটি চরম জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে ইউরোপকে আবারও রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হবে, এমন মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি এবং রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি বার্তায় কিরিল দিমিত্রিভ উল্লেখ করেন, "শীত ঘনিয়ে আসছে। আমাদের পূর্বানুমান অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একগুঁয়ে আদর্শিক জ্বালানি নীতির ভুল ইতোমধ্যেই তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ইউরোপের টিকে থাকার জন্য রাশিয়ার জ্বালানি অপরিহার্য।"

মার্কিন প্রভাবশালী ব্লগার ও ক্রিপ্টো উদ্যোক্তা মারিও নফলের একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই পোস্টে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।

আরডিআইএফ প্রধান আরও সতর্ক করে বলেন, ২০২২ সালের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য এটি হবে সবচেয়ে কঠিন শীতকাল। রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ বর্জন করার ফলে ইউরোপকে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এই শীত আবারও তা মনে করিয়ে দেবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলো রুশ গ্যাস ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর ঘোষণা দিলেও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে সাধারণ ভোক্তা ও শিল্পখাতকে চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাকিমপুরের ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


হাকিমপুরের ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। অথচ, দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে, একদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ, কাগজপত্র প্রস্তুত, বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। এর ফলে, একজন শিক্ষকের পক্ষে প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব সমানভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন প্রধান শিক্ষক শূন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা একদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে নির্ধারিত শ্রেণিতে পাঠদানও করছেন। শিক্ষকরা জানান, দাপ্তরিক কাজের কারণে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আলমাস বলেন, "প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অফিসের বিভিন্ন কাজও সামলাতে হয়। সব দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।"

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, শুধু প্রধান শিক্ষক পদই নয়, কয়েকটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে উপস্থিত অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. আইনুনাহার এলি বলেন, "যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন, তাকে প্রশাসনিক কাজেও সময় দিতে হয়। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় কিছুটা কমে যায়। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হলে এ চাপ অনেকটাই কমবে।"

একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. কাকুলি আক্তারও শিক্ষক সংকটের কারণে বাড়তি চাপের কথা জানান। তার মতে, শিক্ষক সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলে একজন শিক্ষক ছুটিতে থাকলেও পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সহজ হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে কখনো কখনো সব শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে নির্ধারিত পাঠ শেষ করতে সমস্যা হচ্ছে এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ভিত্তি মজবুত করার জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জামান আলী বলেন, "প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে বিদ্যালয় পরিচালনা ও পাঠদান, দুই ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকতা ফিরবে।"

তবে শিক্ষক সংকট থাকলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোত্তালেব আলম। তিনি বলেন, "বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ ও পাঠদান করতে হওয়ায় তাদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি যেখানে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, সেসব পদও পূরণ করা হলে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনে ফের স্থবিরতা, ২ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহকের সেবা এখনও পটুয়াখালীনির্ভর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনে ফের স্থবিরতা, ২ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহকের সেবা এখনও পটুয়াখালীনির্ভর

বরগুনায় পূর্ণাঙ্গ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনের উদ্যোগে আবারও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গত জুন মাসে নতুন ‘বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’ গঠনের প্রক্রিয়া দৃশ্যমানভাবে এগোতে শুরু করলেও বর্তমানে অজ্ঞাত কারণে তা অনেকটাই থমকে রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, নতুন এই সমিতির আওতায় আসার কথা জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ গ্রাহক। বরগুনার বিদ্যুৎ বিতরণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন রয়েছে, ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিভিন্ন সেবা পেতে গ্রাহকদের ভোগান্তির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি স্থানান্তর, ত্রুটি মেরামত, নতুন সংযোগ, লাইন সম্প্রসারণ কিংবা দুর্যোগের পর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার মতো স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কাজের জন্য পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে অনেক ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ ঘটে এবং গ্রাহকসেবায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বরগুনা উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ জেলা হিসেবে পরিচিত। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই দুর্যোগের পর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপনে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক ও কারিগরি সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বরগুনার জন্য পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠন হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দূরত্ব কমবে এবং গ্রাহকসেবায় গতি আসবে।

সম্প্রতি পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত বিভাজনের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। নথির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রয়েছে ৪ হাজার ৯৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা এবং সংযোগপ্রাপ্ত গ্রাহক সংখ্যা ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৯১ জন। বিভাজনের পর পটুয়াখালী অংশের আয়তন দাঁড়াবে ৩ হাজার ৯৯ বর্গকিলোমিটার এবং গ্রাহক সংখ্যা থাকবে ৫ লাখ ১০ হাজার ২৮৬ জন।

অন্যদিকে, প্রস্তাবিত বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় থাকবে ১ হাজার ৮৪৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা। গ্রাহক সংখ্যা হবে ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ জন। অর্থাৎ, জেলার বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে একটি পৃথক প্রশাসনিক ও কারিগরি কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নথিতে স্থান পেয়েছে।

প্রস্তাবিত সমিতির সেবাব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ৩টি জোনাল অফিস, ৩টি সাব-জোনাল অফিস, ১২টি অভিযোগ কেন্দ্র ও ৪টি উপকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্যও পৃথক জনবল কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ৯ জন কর্মকর্তা ও ২১৬ জন নিয়মিত কর্মচারী থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভাজনের পর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা ও সিস্টেম লস নিয়েও প্রস্তাবে হিসাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিস্টেম লসের হার ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিভাজনের পর পটুয়াখালী অংশে তা ১০ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আসার প্রাক্কলন করা হয়েছে। অপরদিকে, প্রস্তাবিত বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিস্টেম লস ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। ফলে নতুন সমিতি গঠনের পাশাপাশি সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রতিবেদনে আর্থিক বিষয়ও উঠে এসেছে। এতে বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বার্ষিক নিট লোকসান ৭২ কোটি ২ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ১১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। নতুন সদর দপ্তর ভবন, আবাসিক ভবন ও রেস্ট হাউস নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন একটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, জনবল, অবকাঠামো, প্রশাসনিক কাঠামো ও পরিচালন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা স্বাভাবিক। তবে এসব বিষয় পর্যালোচনার নামে প্রক্রিয়াটি অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখা হলে বরগুনার গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়নের দিকে এগোনো প্রয়োজন।

বরগুনা জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, নতুন সমিতি গঠিত হলে বরগুনা অঞ্চলের গ্রাহকসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রশাসনিক দূরত্ব কমার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়বে। বিদ্যুৎ সরবরাহে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নতুন সংযোগ প্রদানের প্রক্রিয়াও সহজ হবে। আলাদা সমিতি বরগুনার বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, বরগুনার সচেতন মহলের প্রশ্ন, ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ গ্রাহককে নিয়ে পৃথক সমিতি গঠনের প্রস্তাব যখন নথিতে রয়েছে, তখন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা কোথায়? জুন মাসে যে প্রক্রিয়ায় গতি এসেছিল, সেটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন স্থবির হয়ে পড়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, একটি বিশেষ মহল বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। তবে এ দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে বিভাজন প্রক্রিয়াটি বর্তমানে কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এর সম্ভাব্য সময়সীমা কী তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো জরুরি।

বরগুনার গ্রাহকদের মতে, বিদ্যুৎ সেবা মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, নতুন সংযোগ, লাইন সম্প্রসারণ কিংবা দুর্যোগের পর সরবরাহ পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও তাৎক্ষণিক কারিগরি ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো থাকা জরুরি।

তাদের দাবি, বরগুনার জন্য প্রস্তাবিত পৃথক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রক্রিয়া আর দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন সমিতির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে একটি কার্যকর ও টেকসই বিদ্যুৎ সেবা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

বরগুনাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রস্তাবিত ‘বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’ গঠনের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%