ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউরোপের টিকে থাকতে রুশ জ্বালানি অপরিহার্য: পুতিনের বিশেষ দূত


ইউরোপের টিকে থাকতে রুশ জ্বালানি অপরিহার্য: পুতিনের বিশেষ দূত

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আসন্ন শীতে একটি চরম জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে ইউরোপকে আবারও রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হবে, এমন মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি এবং রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিভ।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত একটি বার্তায় কিরিল দিমিত্রিভ উল্লেখ করেন, "শীত ঘনিয়ে আসছে। আমাদের পূর্বানুমান অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একগুঁয়ে আদর্শিক জ্বালানি নীতির ভুল ইতোমধ্যেই তাদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ইউরোপের টিকে থাকার জন্য রাশিয়ার জ্বালানি অপরিহার্য।"

মার্কিন প্রভাবশালী ব্লগার ও ক্রিপ্টো উদ্যোক্তা মারিও নফলের একটি পোস্টের প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি এই মন্তব্য করেন। ওই পোস্টে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: ভোটার নিবন্ধন কড়াকড়ি, নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য জরুরি নিয়ম

আরডিআইএফ প্রধান আরও সতর্ক করে বলেন, ২০২২ সালের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য এটি হবে সবচেয়ে কঠিন শীতকাল। রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ বর্জন করার ফলে ইউরোপকে যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, এই শীত আবারও তা মনে করিয়ে দেবে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় দেশগুলো রুশ গ্যাস ও তেলের ওপর নির্ভরতা কমানোর ঘোষণা দিলেও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে সাধারণ ভোক্তা ও শিল্পখাতকে চড়া মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাকিমপুরের ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১১ পি.এম


হাকিমপুরের ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। অথচ, দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার ৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর ফলে, একদিকে প্রশাসনিক দায়িত্বের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কাজ, কাগজপত্র প্রস্তুত, বিভিন্ন প্রতিবেদন তৈরি ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। এর ফলে, একজন শিক্ষকের পক্ষে প্রশাসনিক ও একাডেমিক দায়িত্ব সমানভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন প্রধান শিক্ষক শূন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা একদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে নির্ধারিত শ্রেণিতে পাঠদানও করছেন। শিক্ষকরা জানান, দাপ্তরিক কাজের কারণে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আলমাস বলেন, "প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে অফিসের বিভিন্ন কাজও সামলাতে হয়। সব দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।"

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, শুধু প্রধান শিক্ষক পদই নয়, কয়েকটি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে। কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে উপস্থিত অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। এতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. আইনুনাহার এলি বলেন, "যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন, তাকে প্রশাসনিক কাজেও সময় দিতে হয়। ফলে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় কিছুটা কমে যায়। প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হলে এ চাপ অনেকটাই কমবে।"

একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোছা. কাকুলি আক্তারও শিক্ষক সংকটের কারণে বাড়তি চাপের কথা জানান। তার মতে, শিক্ষক সংখ্যা পর্যাপ্ত থাকলে একজন শিক্ষক ছুটিতে থাকলেও পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সহজ হয়।

এদিকে শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক সংকটের কারণে কখনো কখনো সব শ্রেণিতে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। এতে নির্ধারিত পাঠ শেষ করতে সমস্যা হচ্ছে এবং পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ভিত্তি মজবুত করার জন্য নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদগুলো দ্রুত পূরণ করা প্রয়োজন।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. জামান আলী বলেন, "প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। এতে তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে বিদ্যালয় পরিচালনা ও পাঠদান, দুই ক্ষেত্রেই স্বাভাবিকতা ফিরবে।"

তবে শিক্ষক সংকট থাকলেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু মোত্তালেব আলম। তিনি বলেন, "বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা হচ্ছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।"

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রমে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক কাজ ও পাঠদান করতে হওয়ায় তাদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি যেখানে সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে, সেসব পদও পূরণ করা হলে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনে ফের স্থবিরতা, ২ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহকের সেবা এখনও পটুয়াখালীনির্ভর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১২ পি.এম


বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনে ফের স্থবিরতা, ২ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহকের সেবা এখনও পটুয়াখালীনির্ভর

বরগুনায় পূর্ণাঙ্গ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনের উদ্যোগে আবারও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। গত জুন মাসে নতুন ‘বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’ গঠনের প্রক্রিয়া দৃশ্যমানভাবে এগোতে শুরু করলেও বর্তমানে অজ্ঞাত কারণে তা অনেকটাই থমকে রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, নতুন এই সমিতির আওতায় আসার কথা জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ গ্রাহক। বরগুনার বিদ্যুৎ বিতরণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন রয়েছে, ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিভিন্ন সেবা পেতে গ্রাহকদের ভোগান্তির অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটি স্থানান্তর, ত্রুটি মেরামত, নতুন সংযোগ, লাইন সম্প্রসারণ কিংবা দুর্যোগের পর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার মতো স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কাজের জন্য পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও অনুমোদনের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে অনেক ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ ঘটে এবং গ্রাহকসেবায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বরগুনা উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ জেলা হিসেবে পরিচিত। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই দুর্যোগের পর দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনঃস্থাপনে স্থানীয় পর্যায়ে শক্তিশালী প্রশাসনিক ও কারিগরি সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বরগুনার জন্য পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠন হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক দূরত্ব কমবে এবং গ্রাহকসেবায় গতি আসবে।

সম্প্রতি পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত বিভাজনের বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। নথির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় রয়েছে ৪ হাজার ৯৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা এবং সংযোগপ্রাপ্ত গ্রাহক সংখ্যা ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৯১ জন। বিভাজনের পর পটুয়াখালী অংশের আয়তন দাঁড়াবে ৩ হাজার ৯৯ বর্গকিলোমিটার এবং গ্রাহক সংখ্যা থাকবে ৫ লাখ ১০ হাজার ২৮৬ জন।

অন্যদিকে, প্রস্তাবিত বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় থাকবে ১ হাজার ৮৪৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা। গ্রাহক সংখ্যা হবে ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ জন। অর্থাৎ, জেলার বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে একটি পৃথক প্রশাসনিক ও কারিগরি কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা ইতোমধ্যে নথিতে স্থান পেয়েছে।

প্রস্তাবিত সমিতির সেবাব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ৩টি জোনাল অফিস, ৩টি সাব-জোনাল অফিস, ১২টি অভিযোগ কেন্দ্র ও ৪টি উপকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্যও পৃথক জনবল কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ৯ জন কর্মকর্তা ও ২১৬ জন নিয়মিত কর্মচারী থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বিভাজনের পর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা ও সিস্টেম লস নিয়েও প্রস্তাবে হিসাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিস্টেম লসের হার ১১ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিভাজনের পর পটুয়াখালী অংশে তা ১০ দশমিক ৯২ শতাংশে নেমে আসার প্রাক্কলন করা হয়েছে। অপরদিকে, প্রস্তাবিত বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিস্টেম লস ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৭১ শতাংশ। ফলে নতুন সমিতি গঠনের পাশাপাশি সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণ ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রতিবেদনে আর্থিক বিষয়ও উঠে এসেছে। এতে বর্তমানে পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বার্ষিক নিট লোকসান ৭২ কোটি ২ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ১১২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। নতুন সদর দপ্তর ভবন, আবাসিক ভবন ও রেস্ট হাউস নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন একটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতা, জনবল, অবকাঠামো, প্রশাসনিক কাঠামো ও পরিচালন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা স্বাভাবিক। তবে এসব বিষয় পর্যালোচনার নামে প্রক্রিয়াটি অনির্দিষ্টকাল ঝুলিয়ে রাখা হলে বরগুনার গ্রাহকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হবে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাস্তবায়নের দিকে এগোনো প্রয়োজন।

বরগুনা জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বলেন, নতুন সমিতি গঠিত হলে বরগুনা অঞ্চলের গ্রাহকসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রশাসনিক দূরত্ব কমার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়বে। বিদ্যুৎ সরবরাহে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং নতুন সংযোগ প্রদানের প্রক্রিয়াও সহজ হবে। আলাদা সমিতি বরগুনার বিদ্যুৎ সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি জেলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, বরগুনার সচেতন মহলের প্রশ্ন, ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ গ্রাহককে নিয়ে পৃথক সমিতি গঠনের প্রস্তাব যখন নথিতে রয়েছে, তখন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাধা কোথায়? জুন মাসে যে প্রক্রিয়ায় গতি এসেছিল, সেটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কেন স্থবির হয়ে পড়েছে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, একটি বিশেষ মহল বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি গঠনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে। তবে এ দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে বিভাজন প্রক্রিয়াটি বর্তমানে কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে এবং এর সম্ভাব্য সময়সীমা কী তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো জরুরি।

বরগুনার গ্রাহকদের মতে, বিদ্যুৎ সেবা মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। কোনো এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট, নতুন সংযোগ, লাইন সম্প্রসারণ কিংবা দুর্যোগের পর সরবরাহ পুনঃস্থাপনের ক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও তাৎক্ষণিক কারিগরি ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো থাকা জরুরি।

তাদের দাবি, বরগুনার জন্য প্রস্তাবিত পৃথক পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রক্রিয়া আর দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত চূড়ান্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন সমিতির জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে একটি কার্যকর ও টেকসই বিদ্যুৎ সেবা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

বরগুনাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৯০৫ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক করতে প্রস্তাবিত ‘বরগুনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি’ গঠনের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, ওজন কমানোর গবেষণায় পুরস্কারের সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


নোবেল পুরস্কার সপ্তাহ শুরু, ওজন কমানোর গবেষণায় পুরস্কারের সম্ভাবনা

ঢাকা, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ : ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তি নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের উপর গবেষণা এ বছরের নোবেল চিকিৎসাবিজ্ঞান পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সোমবার এই পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সপ্তাহ শুরু হচ্ছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, সাহিত্য, শান্তি ও অর্থনীতির জন্য এ বছরের নোবেল পুরস্কার ৫ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন ঘোষণা করা হবে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আজ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময় ০৯টা ৩০ মিনিট) চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। নোবেল পর্যবেক্ষকদের মতে, ওজেম্পিক ও মাউঞ্জারোর মতো ওজন কমানোর ওষুধ তৈরির গবেষণা এবারের পুরস্কারের জন্য সম্ভাব্য।

এই গবেষণার মধ্যে রয়েছে মানবদেহের মাইক্রোবায়োম, ক্ষুধা ও পেট ভরা অনুভূতি নিয়ন্ত্রণকারী লেপটিন ও ঘ্রেলিন হরমোনের আবিষ্কার এবং খাবার খাওয়ার পর অন্ত্র থেকে নিঃসৃত গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১ (জিএলপি-১) নামের হরমোন নিয়ে গবেষণা। ওজেম্পিকের মতো ওষুধ এই হরমোনের কার্যপ্রক্রিয়াকে অনুকরণ করে।

নোবেল পুরস্কারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের নিয়ে গবেষণা করে ডেটা বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্ল্যারিভেট। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ডেভিড পেন্ডেলবুরি মন্তব্য করেন, এসব গবেষণার যেকোনো একটির স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।

তার মতে, জিএলপি-১ গবেষণাই সবচেয়ে এগিয়ে, কারণ এর চিকিৎসাগত প্রভাব বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত বড়।

এ ক্ষেত্রে অনেক বিজ্ঞানীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। তবে নোবেলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিয়মিতভাবে তিনজনের নাম আলোচনায় আসে—কানাডার হরমোন বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ড্রাকার, ডেনমার্কের চিকিৎসক ইয়েন্স জুল হলস্ট এবং যুগোস্লাভিয়ায় জন্ম নেওয়া মার্কিন রসায়নবিদ স্বেতলানা মোইসভ।

ত্বকের পুনর্গঠন বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা?

নোবেল কমিটি যদি অন্য কোনো দিকে নজর দেয়, তাহলে ত্বক কীভাবে নিজেকে পুনর্গঠন করে এবং ক্ষত সারিয়ে তোলে—এ নিয়ে স্টেম সেল গবেষণা পুরস্কার পেতে পারে।

সুইডিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসআরের বিজ্ঞানবিষয়ক প্রতিবেদক আনিকা ওস্টম্যান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কোষবিজ্ঞানী এলাইন ফুকস এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ফিওনা ওয়াট এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ গবেষক।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন একটি ইমেজিং প্রযুক্তি—অপটিক্যাল কোহেরেন্স টমোগ্রাফি নিয়েও পুরস্কার দেওয়া হতে পারে।

এই অ-আক্রমণাত্মক প্রযুক্তি প্রতিফলিত আলো ব্যবহার করে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুর উচ্চ-রেজোলিউশনের ক্রস-সেকশনাল ছবি তৈরি করে।

বিশেষ করে চোখের রেটিনা ও অপটিক নার্ভের বিস্তারিত ছবি পাওয়ার মাধ্যমে চিকিৎসকেরা বিভিন্ন রোগ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হন।

আরও একটি ক্ষেত্র যা সম্ভবত মেডিসিন কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, তা হলো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অ্যাডহেশন রিসেপ্টর, যা মার্কিন ইমিউনোলজিস্ট টিমোথি স্প্রিংগার শনাক্ত করেছেন।

এসব রিসেপ্টর রোগ প্রতিরোধকারী কোষকে রক্তনালির সঙ্গে যুক্ত হতে, টিস্যুর ভেতরে প্রবেশ করতে এবং সংক্রমণের স্থানে পৌঁছাতে সাহায্য করে। প্রদাহজনিত ও অটোইমিউন রোগের চিকিৎসা নিয়ে গবেষণাতেও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া স্তন ক্যানসার গবেষণা কিংবা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সহায়ক ডিএনএ সিকোয়েন্সিং প্রযুক্তির গবেষণাও পুরস্কারের জন্য বিবেচনায় আসতে পারে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কারের পর মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞানের নোবেল ঘোষণা করা হবে এবং বুধবার রসায়নের নোবেল ঘোষণা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাগুরায় আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:১৩ পি.এম


মাগুরায় আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা গ্রেফতার

মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-দফতর সম্পাদক সোহেল রানাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার সংকোচখালি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে সংকোচখালি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি স্থানীয়ভাবে যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন বলে জানা যায়।

শত্রুজিৎপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শুভঙ্কর রায় জানিয়েছেন, দুপুর ১টার সময় সংকোচখালি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে তাকে মাগুরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তীতে থানার পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। তবে, তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ বা কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেনি।

এদিকে, সোহেল রানার গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%