০৪:৪৬ এম
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বিএনপির এক প্রবীণ নেতাকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত যুবদলের চার কর্মীকে সংগঠনের সব ধরণের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে জেলা যুবদল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলা পরিষদে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
পরে জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির স্বাক্ষর করা এক বহিষ্কার আদেশে অভিযুক্ত চারজনকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
আরও পড়ুন: বগুড়ায় পুলিশ পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ৪ জন গ্রেপ্তার
মারধরের শিকার হয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অকিল উদ্দিন ভূইয়া। বহিষ্কৃত যুবদলের কর্মীরা হলেন: মামুন, কাওসার, শ্রী নিতাই ও মো. দেলোয়ার হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে রক্তদান কর্মসূচি, বৃক্ষমেলা, বইমেলা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় সামনের সারিতে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে অকিল উদ্দিন ভূইয়ার সঙ্গে যুবদলের কয়েকজন কর্মীর বাকবিতণ্ডা হয়। তবে সেই সময় উপস্থিত সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি শান্ত করেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিকে উদ্দেশ করে অকিল উদ্দিন ভূইয়া নেতাকর্মীদের সামনে ‘গত ১৪ বছর কী করেছেন’ এমন মন্তব্য করেন। এতে রনি ক্ষুব্ধ হন। পরে রনির অনুসারীরা বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অকিল উদ্দিন ভূইয়াকে মারধর করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দুপুর ২টার দিকে অনুষ্ঠান শেষে জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় অকিল উদ্দিন ভূইয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে কিল-ঘুষি মারলে তার ঠোঁট ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হন। এ সময় তার পরনের জামাও ছিঁড়ে ফেলা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজেও এ ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: চিরিরবন্দরে পৃথক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২ জনের মৃত্যু
ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভিডিও ফুটেজ পর্যাবেক্ষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিএনপি সন্ত্রাসীদের দল নয়, এখানে কোনো সন্ত্রাসীকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না।’
হামলার শিকার অকিল উদ্দিন ভূইয়া অভিযোগ করেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মশিউর রহমান রনির সঙ্গে তার তর্কবিতর্ক হয়েছিল। তবে সিনিয়র নেতারা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন। পরে প্রশাসকের কক্ষ থেকে তিনি ও রনি এক সঙ্গে নিচে নামলেও রনির অনুসারীরাই তার ওপর হামলা চালান।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি বলেন, ‘জেলা পরিষদের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন, তারা খুবই অন্যায় করেছেন এবং দলের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন। তাই সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অভিযুক্ত চারজনকে যুবদলের সব ধরণের পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াতকে সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা মো. ফারুকের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন