ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মরক্কো যেভাবে ব্রাজিলকে চাপে ফেলল


মরক্কো যেভাবে ব্রাজিলকে চাপে ফেলল

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ব্রাজিলকে ১ ১ গোলে রুখে দিয়ে মরক্কো আবারও নিজেদের কৌশলগত পরিপক্বতা প্রদর্শন করেছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি মরক্কোর ট্যাকটিক্সের কারণে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

মরক্কো শুরু থেকেই উচ্চ প্রেসিং কৌশল গ্রহণ করে, যা ব্রাজিলের ডিফেন্সিভ লাইন ও মাঝমাঠে যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে ব্রাজিলের ব্যাকলাইন থেকে বল বের করার সময় তারা দুই থেকে তিনজন খেলোয়াড় দিয়ে খুব দ্রুত চাপ তৈরি করে, ফলে সেলেসাওদের বিল্ড আপ অনেক সময় ব্যাহত হয়।

মাঝমাঠে মরক্কোর সংগঠিত অবস্থান ব্রাজিলকে ফাইনাল থার্ডে সহজে প্রবেশ করতে দেয়নি। যদিও ব্রাজিল বল দখলে এগিয়ে ছিল, তারা কার্যকর পাসিং রিদম তৈরি করতে পারেনি, যার অন্যতম কারণ ছিল মরক্কোর ব্লকড ডিফেন্সিভ সেটআপ।

আরও পড়ুন: টঙ্গীতে মাদক সেবন-বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখম

কাউন্টার অ্যাটাকে মরক্কো ছিল সবচেয়ে বেশ কার্যকর। তাদের দ্রুত বল আদান প্রদান ব্রাজিলের ডিফেন্সকে বারবার অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে। ২১তম মিনিটে তাদের গোলটিও এসেছে এমনই এক দ্রুত ট্রানজিশন থেকে, যেখানে ব্রাহিম দিয়াজের পাস ও সাইবারির ফিনিশিং ছিল নিখুঁত।

ডিফেন্সিভ সংগঠনে মরক্কো ছিল অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ। তারা বক্সের ভেতরে জায়গা কমিয়ে এনে ব্রাজিলের উইঙ্গারদের স্বাধীনতা সীমিত করে দেয়, ফলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছাড়া ব্রাজিল খুব বেশি জায়গা তৈরি করতে পারেনি।

অন্যদিকে, ব্রাজিল কিছু সময় পজিশন ধরে রাখলেও মরক্কোর ব্লক ভাঙতে ব্যর্থ হয়েছে। মরক্কো কাসেমিরো ও গিমারায়েসদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ম্যাচের টেম্পো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়।

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একক দক্ষতার কারণে ব্রাজিল সমতায় ফিরলেও পুরো ম্যাচে মরক্কোর ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। আনচেলত্তির দলের জন্য এটি ছিল কঠিন এক কৌশলগত পরীক্ষা।

আরও পড়ুন: পারিবারিক ব্যবসা গবেষণায় বিশ্বে ৭৪তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অংশ নয় ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অংশ নয় ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি চুক্তির অংশীদার বা পক্ষ হবে না। এই বক্তব্যটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ওই মন্তব্য করেছেন যখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য চুক্তি সইয়ের আগে তিনি এই খবরটি জানিয়েছেন।

শুক্রবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ওয়াশিংটন লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছে। এই মার্কিন আহ্বানকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরোধ তৈরি হয়ে গেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, এই চুক্তির ফলে লেবানন যুদ্ধের অবসান ঘটবে। এই চুক্তির কারণে দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পূর্ববর্তী বক্তব্যে জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনি এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে না।

জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বলেছেন, তারা যেকোনও হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব স্বাধীনতা বজায় রাখবে বলে প্রত্যাশা করছে।

অপরদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতার অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক রোববার সই হবে না। শনিবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাঈ বলেছেন, চুক্তি সইয়ের সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে এবং দেখতে হবে কবে এটি সম্পন্ন হবে। তবে তিনি এও জানান যে, এটি আগামীকাল (রোববার) হচ্ছে না।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে পারে বলে পাকিস্তান জানিয়েছেন। এর পরই ইসমাঈল বলেছেন, আগামী দিনগুলিতে এটি হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করা যায় না।

একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পোস্ট করেন, পাকিস্তান এখন আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সম্ভাব্য একটি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর (ই-স্বাক্ষর) অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, “আমরা একটি শান্তি চুক্তির ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছি।”

এবং তিনি বলেন, “আলোচনা চলাকালীন ধারাবাহিক অঙ্গীকার বজায় রাখার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। সেই সঙ্গে আমাদের পাশে থাকার জন্য এই অঞ্চলের ভাইদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

সূত্র: রয়টার্স, এএফপি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী: বিজিএমইএ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩১ এম


প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী: বিজিএমইএ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় এই তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ।

সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়েও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে, ব্যবসাকে সহজতর করতে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাজেটে দূরদর্শী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য তারা অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছে।

বিজিএমইএ আরও মনে করে, ২০২৬-২৭ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট তাত্ত্বিকভাবে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব। বাজেটে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রিক চিন্তা থেকে সরে এসে সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতগুলো বাজেটের বিশেষ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংগঠনটি জানায়, বাজেটে থাকা সংস্কারমুখী ঘোষণাগুলো শিল্পের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে তারা মনে করে। তবে তারা মনে করে, তৈরি পোশাক খাতের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি রক্ষা করতে কিছু নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে, যেহেতু এই শিল্প বর্তমানে সংকটের মধ্যে রয়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধির ফলে চলতি অর্থবছরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, ইউনিট প্রতি গড় মূল্য ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বিগত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সংগঠনটি কিছু দাবি জানিয়েছে যা নিচে উপস্থাপন করা হলো।

উৎসে কর হ্রাস: নতুন বাজেটে উৎসে কর হার আগের মতো ১ শতাংশ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে পোশাক রপ্তানির বিপরীতে এই কর ১ শতাংশ হতে হ্রাস করে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য তা সরকারের ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি নীতির আলোকে স্থিতিশীল করার দাবি জানাচ্ছে বিজিএমইএ।

নগদ সহায়তার ওপর আয়কর হ্রাস: বাজেটে নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এজন্য জাতির পিতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিজGAমইএ। তবে বর্তমান তারল্য সংকট বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণরূপে মওকুফ (শূন্য শতাংশ) করার জন্য তারা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছে।

সাব-কন্ট্রাক্ট প্রক্রিয়ায় দ্বৈত কর নিরসন: ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোকে সচল রাখতে সাব-কন্ট্রাক্ট মূল্যের ওপর থেকে ১ শতাংশ দ্বৈত উৎসে করের অবসান এবং ভ্যাট অব্যাহতি পদ্ধতি আরও সহজ করা প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।

যৌক্তিক করপোরেট কর নিশ্চিতকরণ: পোশাক খাতের জন্য নির্ধারিত বিশেষায়িত করপোরেট কর হার (১২ শতাংশ এবং গ্রিন ফ্যাক্টরির জন্য ১০ শতাংশ) যেন অন্য কোনো আয়ের অজুহাতে বাড়িয়ে সাধারণ উচ্চ হারে অ্যাসেসমেন্ট না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার: ম্যান-মেড ফাইবার ভিত্তিক তৈরি পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে প্রস্তাবিত পলিস্টার স্টেপল ফাইবারের (পিএসএফ) ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং পিভিসি রেজিন ও পেট রেজিনের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।

বিজিএমইএ উল্লেখ করে, পোশাক খাত কেবল দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী উৎস নয়, বরং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য প্রধান টানেলের কাজ করে। এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে, ব্যবসার খরচ কমানো, নিরবচ্ছিন্ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কাস্টমস ও বন্দর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো আরও সহজ করতে হবে।

বিজিএমইএ আশা করে, বাজেটে ঘোষিত বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত স্থিতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বাজেটে বিজিএমইএর যৌক্তিক দাবিগুলো সদয়ভাবে বিবেচনা করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি সই হতে পারে আজ, কী কী আছে এতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০৯ এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি সই হতে পারে আজ, কী কী আছে এতে

যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তির চুক্তি আজ রবিবার সই হতে পারে। শনিবার (১৩ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একথা জানান। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, রবিবার কোনো চুক্তি সই হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার সম্ভাবনা বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক বেশি। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, দেশ দুটির মধ্যে একটি চুক্তি রবিবার সই হতে পারে।

তিনি আরও জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরই হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, পরিস্থিতি শান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক উপাদান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে এবং সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে ধ্বংস করবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এর আগে জানান, উভয় পক্ষ শান্তি চুক্তির একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছে এবং রবিবার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যদিও চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও তা রবিবারই হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি জানান, আগামী দুই একদিনের মধ্যে জেনেভা অথবা অন্য কোথাও সফরের কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।

যদিও মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, পাকিস্তান, কাতার, মিশর এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনার অংশ হিসেবে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।

ইসরাইল এ বিষয়ে জানিয়েছে যে, আলোচিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক প্রক্রিয়ায় তারা অংশগ্রহণ করছে না বলে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বলা হয়েছে। টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, টেলিফোনে ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার চূড়ান্ত চুক্তির মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো ধ্বংস এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

যদিও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই ইরান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পেয়ে যাবে, কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা করা সমঝোতা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। তবে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও গণমাধ্যম সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, চুক্তিটি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দ্রুত আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারও হতে পারে। তাছাড়া, কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

সূত্রগুলো বলছে, এই প্রাথমিক সমঝোতায় পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরং ওই ইস্যুতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পৃথক আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থানে এখনও স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা বিদেশে স্থানান্তরে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা ইউরেনিয়াম ধ্বংস করবে না বা বিদেশে পাঠাবে না। বরং নিজেদের দেশে এটি সংরক্ষণ করেই এর সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টির পর ঢাকার বাতাসের উন্নতি, দূষণের শীর্ষে কোন শহর?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:১০ এম


বৃষ্টির পর ঢাকার বাতাসের উন্নতি, দূষণের শীর্ষে কোন শহর?

বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আজ সকালের দিকে ঢাকার অবস্থানের কিছুটা উন্নতি ঘটেছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের লাইভ র‍্যাংকিংয়ে ঢাকা ২২তম অবস্থানে অবস্থান করছে।

রোববার (১৪ জুন) সকাল ৭টা ৪৩ মিনিটে পরিমাপ অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ৮০। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুসারে এই স্কোরকে ‘মাঝারি’ বা গ্রহণযোগ্য বাতাস হিসেবে পরিগণনা করা হচ্ছে। তবে সংবেদনশীল মানুষের জন্য এই বাতাস সামান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আইকিউএয়ারের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বর্তমানে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ স্থানে রয়েছে ইরাকের বাগদাদ, যার একিউআই স্কোর ১৮৮। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কঙ্গোর কিনশাসা (১৭৪ স্কোর) এবং তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চিলির সান্তিয়াগো (১৬২ স্কোর)।

এ ছাড়াও শীর্ষ ১০-এর মধ্যে রয়েছে ভারতের দিল্লি (৪র্থ, ১৫৬ স্কোর), ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (৫ম, ১৫৪ স্কোর), পাকিস্তানের লাহোর (৬ষ্ঠ, ১৫২ স্কোর), উগান্ডার কাম্পালা (৭ম, ১৪৪ স্কোর), সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই (৮ম, ১২৯ স্কোর), ভারতের কলকাতা (৯ম, ১২৮ স্কোর) এবং ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটি (১০ম, ১২৭ স্কোর)।

দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রধান শহরের তুলনায় আজকের সকালে ঢাকার বাতাসের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো রয়েছে। ভারতের দিল্লি ও কলকাতার বাতাস যেখানে ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে অবস্থান করছে, সেখানে ঢাকার বাতাস হলুদ জোনে অর্থাৎ ‘মাঝারি’ অবস্থানে রয়েছে। এমনকি নেপালের কাঠমান্ডু (১৯তম, ৮৩ স্কোর) এবং মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের (২০তম, ৮২ স্কোর) চেয়েও ঢাকা আজ তালিকায় পিছনের দিকে (ভালো অবস্থানে) রয়েছে।

আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে স্কোর থাকলে বাতাসের মান ভালো ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে তা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হয়। কিন্তু ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে সবার জন্যই ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।

সাধারণত শুষ্ক ও শীতকালে ঢাকার বায়ুদূষণ চরম আকার ধারণ করে। তবে বর্ষা বা বৃষ্টির মৌসুমে দূষণের মাত্রা অনেকটাই কমে আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে বাতাসে ধুলাবালির পরিমাণ কম থাকার কারণে এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে আজ সকালে ঢাকার বাতাসের মানে ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%