প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তির চুক্তি আজ রবিবার সই হতে পারে। শনিবার (১৩ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একথা জানান। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, রবিবার কোনো চুক্তি সই হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার সম্ভাবনা বর্তমানে আগের তুলনায় অনেক বেশি। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, দেশ দুটির মধ্যে একটি চুক্তি রবিবার সই হতে পারে।
তিনি আরও জানান, চুক্তি স্বাক্ষরের পর পরই হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, পরিস্থিতি শান্ত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক উপাদান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে এবং সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে ধ্বংস করবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এর আগে জানান, উভয় পক্ষ শান্তি চুক্তির একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছে এবং রবিবার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। পরবর্তী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যদিও চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও তা রবিবারই হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। তিনি জানান, আগামী দুই একদিনের মধ্যে জেনেভা অথবা অন্য কোথাও সফরের কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।
যদিও মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, পাকিস্তান, কাতার, মিশর এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনার অংশ হিসেবে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।
ইসরাইল এ বিষয়ে জানিয়েছে যে, আলোচিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক প্রক্রিয়ায় তারা অংশগ্রহণ করছে না বলে প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বলা হয়েছে। টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, টেলিফোনে ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার চূড়ান্ত চুক্তির মধ্যে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অবকাঠামো ধ্বংস এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যদিও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই ইরান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুবিধা পেয়ে যাবে, কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা করা সমঝোতা চুক্তির পূর্ণাঙ্গ খসড়া এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। তবে বিভিন্ন কূটনৈতিক ও গণমাধ্যম সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, চুক্তিটি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি দ্রুত আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারও হতে পারে। তাছাড়া, কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্রগুলো বলছে, এই প্রাথমিক সমঝোতায় পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিতর্কিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বরং ওই ইস্যুতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পৃথক আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থানে এখনও স্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। হোয়াইট হাউসের দাবি, প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস বা বিদেশে স্থানান্তরে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে, ইরান এই দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তারা ইউরেনিয়াম ধ্বংস করবে না বা বিদেশে পাঠাবে না। বরং নিজেদের দেশে এটি সংরক্ষণ করেই এর সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন