০৭:৩১ এম
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
শনিবার (১৩ জুন) রাতে বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় এই তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ।
সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়েও দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে, ব্যবসাকে সহজতর করতে এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাজেটে দূরদর্শী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য তারা অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
বিজিএমইএ আরও মনে করে, ২০২৬-২৭ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট তাত্ত্বিকভাবে জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসাবান্ধব। বাজেটে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রিক চিন্তা থেকে সরে এসে সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার মতো খাতগুলো বাজেটের বিশেষ দিক হিসেবে উঠে এসেছে।
বাজেটে আগামী অর্থবছরের জন্য প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান, উৎপাদনমুখী অর্থনীতি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নতুন অগ্রাধিকার চিহ্নিত করা হয়েছে, যা দেশের শিল্প, বাণিজ্য এবং বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সংগঠনটি জানায়, বাজেটে থাকা সংস্কারমুখী ঘোষণাগুলো শিল্পের জন্য সহায়ক হতে পারে বলে তারা মনে করে। তবে তারা মনে করে, তৈরি পোশাক খাতের কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মূল চালিকাশক্তি রক্ষা করতে কিছু নীতিগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে, যেহেতু এই শিল্প বর্তমানে সংকটের মধ্যে রয়েছে।
বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক মন্দা ও অভ্যন্তরীণ ব্যয় বৃদ্ধির ফলে চলতি অর্থবছরে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ, ইউনিট প্রতি গড় মূল্য ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং কাঁচামাল আমদানির জন্য ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার পরিমাণ ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বিগত তিন বছরে প্রায় ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সংগঠনটি কিছু দাবি জানিয়েছে যা নিচে উপস্থাপন করা হলো।
আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার
উৎসে কর হ্রাস: নতুন বাজেটে উৎসে কর হার আগের মতো ১ শতাংশ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান সংকটের প্রেক্ষাপটে পোশাক রপ্তানির বিপরীতে এই কর ১ শতাংশ হতে হ্রাস করে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং আগামী পাঁচ বছরের জন্য তা সরকারের ঘোষিত দীর্ঘমেয়াদি নীতির আলোকে স্থিতিশীল করার দাবি জানাচ্ছে বিজিএমইএ।
নগদ সহায়তার ওপর আয়কর হ্রাস: বাজেটে নগদ সহায়তার বিপরীতে আয়কর কর্তনের হার ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এজন্য জাতির পিতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিজGAমইএ। তবে বর্তমান তারল্য সংকট বিবেচনায় এটি সম্পূর্ণরূপে মওকুফ (শূন্য শতাংশ) করার জন্য তারা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করছে।
সাব-কন্ট্রাক্ট প্রক্রিয়ায় দ্বৈত কর নিরসন: ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানাগুলোকে সচল রাখতে সাব-কন্ট্রাক্ট মূল্যের ওপর থেকে ১ শতাংশ দ্বৈত উৎসে করের অবসান এবং ভ্যাট অব্যাহতি পদ্ধতি আরও সহজ করা প্রয়োজন বলে মনে করে সংগঠনটি।
যৌক্তিক করপোরেট কর নিশ্চিতকরণ: পোশাক খাতের জন্য নির্ধারিত বিশেষায়িত করপোরেট কর হার (১২ শতাংশ এবং গ্রিন ফ্যাক্টরির জন্য ১০ শতাংশ) যেন অন্য কোনো আয়ের অজুহাতে বাড়িয়ে সাধারণ উচ্চ হারে অ্যাসেসমেন্ট না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার: ম্যান-মেড ফাইবার ভিত্তিক তৈরি পোশাক রপ্তানির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে প্রস্তাবিত পলিস্টার স্টেপল ফাইবারের (পিএসএফ) ওপর ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং পিভিসি রেজিন ও পেট রেজিনের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
বিজিএমইএ উল্লেখ করে, পোশাক খাত কেবল দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী উৎস নয়, বরং লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য প্রধান টানেলের কাজ করে। এলডিসি উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে, ব্যবসার খরচ কমানো, নিরবচ্ছিন্ন এবং সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কাস্টমস ও বন্দর-সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলো আরও সহজ করতে হবে।
বিজিএমইএ আশা করে, বাজেটে ঘোষিত বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত স্থিতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বাজেটে বিজিএমইএর যৌক্তিক দাবিগুলো সদয়ভাবে বিবেচনা করবেন।
আরও পড়ুন: বিমানের দাম্মাম ও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন