০১:১১ পি.এম
ফুটবল, ক্রিকেটসহ প্রতিটি খেলায় সব দলের খেলোয়াড়দের জার্সিতে একটি চোখে পড়ার মতো প্রতীক থাকে। এসব প্রতীক সাধারণত নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্য বা সংস্কৃতির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে, তারা নিজেদের প্রাচীন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে জার্সিতে মোরগের ছবি ব্যবহার করে থাকে।
ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা, অলিম্পিক দল এবং সরকারি প্রতীকেও এই মোরগের চিত্র দেখা যায়। বিশেষ করে ক্রীড়াক্ষেত্রে এটি ফরাসি পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন হিসেবে ধরা হয়।
তবে অনেকেই জানেন না কেন ফ্রান্সের জার্সিতে মোরগের ছবি রাখা হয়েছে। আসুন, আমরা সেই ইতিহাসটি জানি।
আরও পড়ুন: জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করা যাবে না: আব্দুল্লাহ আল জাবের
গ্যালিক মোরগের গল্পটি এমন— ফরাসি ভাষায় এই প্রতীককে বলা হয় ‘কক গ্যালোয়া’ (Coq Gaulois), অর্থাৎ গ্যালিক মোরগ। প্রাচীনকালে বর্তমান ফ্রান্সের অঞ্চলকে গল (Gaul) বলা হত। রোমানরা এই অঞ্চলের মানুষদের ‘গ্যাল’ বলে ডাকত।
মজার বিষয় হলো, ল্যাটিন ভাষায় মোরগের শব্দ ‘Gallus’, এবং গল অঞ্চলের মানুষের নামও ছিল ‘Gallus’। এই শব্দের মধ্যে কিছুটা মিল থেকে ধীরে ধীরে মোরগটি ফরাসিদের সঙ্গে প্রতীকীভাবে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।
প্রাচীন রোমানদের দ্বারা গলদের নিয়ে কখনো কখনো ব্যঙ্গ করা হত, কিন্তু সময়ের সঙ্গে ফরাসিরা এই প্রতীককে গৌরবের অংশ হিসেবে গ্রহণ করে নেয়।
কেন মোরগই প্রতীক হলো, সেটিও জানতে হবে। মোরগের সঙ্গে ফ্রান্সের চরিত্রের সম্পর্ক রয়েছে। কারণ মোরগ ভোরের আগে ডাক দিয়ে নতুন দিনের আগমন ঘোষণা করে। সাহস, সতর্কতা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হিসেবেও একে দেখা হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপিকে যারা ভোট দিয়েছে ও দেয়নি, তারা নিরাপদে থাকবে: নয়ন
ফরাসি সংস্কৃতিতে, মোরগ ওই প্রাণী হিসেবে গণ্য হয়, যে প্রতিকূলতার মধ্যেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। সুতরাং, এটি জাতীয় পরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
ফুটবলে মোরগের আগমন ঘটে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (FFF) ১৯০০-এর দশকের শুরু থেকেই বিভিন্ন ভাবে মোরগ প্রতীকটিকে ব্যবহার করে আসছে। জাতীয় দলের জার্সিতে এই প্রতীক জাতীয় পরিচয়কে বোঝাতে সহায়তা করে এবং এটি খেলোয়াড়দের মনে দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের অনুভূতি জন্মায়।
বিশ্বকাপ বা ইউরোর মতো বড় মঞ্চে যখন ফরাসি খেলোয়াড়রা মাঠে নামেন, তখন বুকের ওপর থাকা সেই ছোট্ট মোরগ হয়ে ওঠে কোটি ফরাসি সমর্থকের আবেগের প্রতীক।
মোরগ কেবল ফুটবল দলের প্রতীক নয়। ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা, অলিম্পিক দল এবং সরকারি প্রতীকেও এর ব্যবহার দেখা যায়। বিশেষ করে ক্রীড়াক্ষেত্রে এটি ফরাসি পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন।
আরও পড়ুন: কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ, এক দিনে দুই জয়
যদিও ফ্রান্সের জাতীয় প্রতীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোরগের অবস্থান নেই, তবুও সাধারণ মানুষের কাছে এটি এতটাই জনপ্রিয় যে তা প্রায় জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা পেয়ে গেছে।
জার্সির ওপর থাকা ছোট্ট মোরগটি অনেকের কাছে হয়তো একটি ডিজাইন, কিন্তু ফরাসিদের কাছে এটি ইতিহাসের স্মৃতি, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং লড়াইয়ের মানসিকতার প্রতীক।
মাঠে যখন ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা নীল জার্সি পরে নামেন, তখন সেই জার্সির বুকে থাকা মোরগ যেন বলে দেয়, এটি শুধু একটি দল নয়, এটি একটি দেশের গল্প।
আরও পড়ুন: সরকার চায় গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন