শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৪ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলায় আজ জাতীয়তাবাদী যুবদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ শুরু হয়েছে।
আজ শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পাশের সড়কে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও বানিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
এ সময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জহিরুল হক খোকন, সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ, যুগ্ম সম্পাদক সৈয়দ তৈমুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসাবাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করেছেন হাজারো নাগরিক। পরিচ্ছন্ন নগর গঠন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিতে এ আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অস্থায়ী এ বাজার বসে। এতে এলাকার বাসিন্দারা তাদের বাসাবাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ নাগরিকদের সেই অংশগ্রহণে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল। তিনি উল্লেখ করেন, ড্রেন ও নালা-নর্দমায় প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য জমা দিলে জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষাও নিশ্চিত হবে।
এই উদ্যোগ পুরো নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, শিগগিরই ডিএসসিসির উদ্যোগে গুলিস্তানে একটি স্থায়ী স্টল স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে চেয়ার-টেবিল ও বইসহ ‘বই পড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। বক্তব্যের শেষে কামরাঙ্গীরচরবাসীকে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, নদী দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান প্রশাসক।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শুধু সহায়তা না দিয়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশীদার করা হচ্ছে। গত দুই বছরে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আহার করানো সম্ভব হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে বহুদলীয় সিরিজের সংখ্যা আবারও বৃদ্ধি পেতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ত্রিদেশীয় ও চারজাতি সিরিজ পুনরায় চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করছে, এমন তথ্য একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
এক সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে নিয়মিতভাবে ত্রিদেশীয় ও চারজাতি সিরিজ অনুষ্ঠিত হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজের আধিপত্যের কারণে এসব আয়োজন অনেকটাই কমে গেছে। ভারতের ক্ষেত্রেও দীর্ঘ সময় ধরে ত্রিদেশীয় সিরিজ দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশগ্রহণ করেছিল।
‘ক্রিকবাজ’-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজন অনেক ক্রিকেট বোর্ডের জন্য পূর্বের তুলনায় কম লাভজনক হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই কারণে আইসিসি একাধিক দল নিয়ে আয়োজিত সিরিজগুলোকে তুলনামূলকভাবে অধিক আকর্ষণীয় ও লাভজনক মনে করছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ত্রিদেশীয় সিরিজের সংখ্যা খুবই সীমিত। ২০২৬ সালে নামিবিয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত হবে। এই সিরিজের ফাইনালও নির্ধারিত হয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর।
ওয়ানডে ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মাত্র একটি ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানকে নিয়ে সেই সিরিজটি আয়োজন করা হয়েছিল।
আইসিসির সম্ভাব্য নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সূচিতে আবারও নিয়মিতভাবে ত্রিদেশীয় কিংবা চারজাতি সিরিজ দেখা যেতে পারে। এতে ক্রিকেট বোর্ডগুলোর বাণিজ্যিক সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং দর্শকদের জন্য একসঙ্গে একাধিক শীর্ষ দলের লড়াই দেখার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে আইসিসির এই পরিকল্পনা এখনও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সূচিতে এর প্রভাব কেমন হবে, সেটি এখন দেখার বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাকে মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রি করলেন ছেলে
একটি অভিযোগ উঠেছে যে, ছেলে তার জীবিত মাকে কাগজে-কলমে মৃত বানিয়ে নিজের পৈতৃক বসতভিটাসহ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। এই ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে।
এমন নজিরবিহীন প্রতারণার ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজাবাড়িয়া গ্রামের মৃত জমসেদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল, জুয়ার টাকার জোগান দিতে, গত প্রায় সাত মাস আগে তার জীবিত মা রহিমাকে মৃত দেখিয়ে বসতঘরের ভিটেসহ ২১ শতক জমি প্রতিবেশীর কাছে বিক্রি করে দেন।
সম্প্রতি ক্রেতা মজিবুর রহমান তার লোকজন নিয়ে ওই বাড়ির আশপাশের পানের বরজ ও বড় পুকুরসহ সবকিছু নিজের দাবি করে দখল নিতে গেলে এই জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়ে যায়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবার নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দলিলের নকল (কপি) উত্তোলন করলে জালিয়াতির সত্যতা তারা খুঁজে পান।
নথি অনুযায়ী, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ১১৫৪ ও ১১৫৫ নম্বরসহ মোট তিনটি দলিলের মাধ্যমে মোট ২১ শতক জমি রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।
জমির ক্রেতা হলেন, পাশের পূর্ব রাজাবাড়িয়া গ্রামের মৃত আমির হোসেনের ছেলে মজিবুর রহমান। এই জালিয়াতির দলিলে সাক্ষী হিসেবে সই করেছেন একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. হোসেন মিয়া। আর এই বিতর্কিত দলিলটি সম্পাদন করেছেন ঝন্টু সরকার নামের এক দলিল লেখক।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজাবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, যাকে দলিলে মৃত দেখানো হয়েছে, সেই বৃদ্ধা রহিমা নিজের বাড়ির সামনেই বসে আছেন। নিজের বেঁচে থাকার প্রমাণ দিয়ে ক্ষোভ ও অশ্রুসজল চোখে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, "আমি তো মরছি না। তা অইলে কেরে আমারে মরা বানাইয়া জমি বেচছে? আমি এইডার কঠিন বিচার চাই।"
এসময় তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অভিযুক্ত আব্দুল জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম, তার ছোট ছেলে অলি মিয়া, ছোট ছেলের স্ত্রী হাফছা বেগম এবং একমাত্র মেয়ে রোকিয়া বেগম।
জলিলের স্ত্রী নাছিমা বেগম স্বামীর এই হীন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "আমার স্বামী নিজের মাকে জীবিত রেখে যেভাবে মৃত বলে জমি বিক্রি করে দিয়েছেন, তা কোনোভাবেই মানা যায় না।"
তিনি জানান, জলিল জুয়া খেলায় আসক্ত। জুয়া খেলতে গিয়ে এর আগেও সে পরিবারের আরো অনেক জমি বিক্রি করে দিয়েছে।
অভিযুক্ত জলিলের ছোট ভাই অলি মিয়া জানান, তার বড় ভাই জলিল মূলত একটি জুয়াড়ি চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। দিনের পর দিন ধারদেনা করে জুয়া খেলে বিপুল পরিমাণ টাকা হারান তিনি। একপর্যায়ে জুয়ার আসরেই জমি বিক্রি করার কথা বলে ওই চক্রের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের নগদ টাকা নেন। সেই দেনা শোধ করতেই গোপনে মাকে মৃত দেখিয়ে এই জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
তবে অলি মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, মা যে মারা গেলেন, সেই ভুয়া মৃত্যু সার্টিফিকেট কে দিল? আর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসই বা কিভাবে এত বড় জালিয়াতির দলিল রেজিস্ট্রি করল? এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল ও দলিল জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত চক্রটি পরিবারের ওপর ভিন্ন ধরনের অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে দলিল লেখক ঝন্টু সরকার জানান, "আমাকে মৃত সার্টিফিকেট ও ওয়ারিশান দিয়েছে। তা দেখে দলিল সম্পন্ন করে দিয়েছি। যাচাই করার দায়িত্ব আমার না।"
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. হামিদুল মৃত সার্টিফিকেট ও ওয়ারিশ দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, "আসলে আমার ভুল হয়ে গেছে। এখন বিষয়টি দেখছি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ