০৫:৪১ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর মাধ্যমে ঘটে যাওয়া ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো নোটিশকে ‘বেআইনি’ এবং আইনবহির্ভূত আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী আইনি পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে এই অবস্থানের কথা জানান।
শিশির মনির বলেন, ‘ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের জন্য যে নোটিশ দিয়েছে, তা আইনসম্মত নয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই নোটিশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে পেশাগত অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় দুই নার্সকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অবস্থান তুলে ধরে আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ–কোনো পক্ষই চায় না হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাক বা এর চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হোক। তবে ঘটনার জন্য প্রকৃত দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান নিহত শিশুদের স্বজনরা।
নিহত নবজাতকদের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পাশে আজীবন থাকবে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিবারগুলোর যোগ্য সদস্যদের চাকরির সুযোগ এবং সম্মানজনক আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবলিক পরীক্ষার দীর্ঘ সময়সূচির কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং স্কুল-কলেজগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান সচল রাখতে সরকার বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় দুটি পাবলিক পরীক্ষা–এসএসসি ও এইচএসসির বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষা গ্রহণের কর্মদিবস উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এনসিটিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করতে ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসিতে ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ফলে হাজার হাজার স্কুলে স্বাভাবিক পাঠদান বন্ধ থাকে। এতে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন ঘণ্টা (লার্নিং আওয়ার্স) মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। দীর্ঘ পরীক্ষার কারণে পরীক্ষার্থীরাও অসহনীয় মানসিক চাপে ভোগেন। ফলে এই জটলা ও চাপ কাটানোই সরকারের নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই রূপরেখা নিয়ে একটি দুই দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, ‘কর্মশালায় দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম ও মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি এবং অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সবার মতামত পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
জানা গেছে, প্রস্তাবিত কর্মশালায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমসহ প্রায় ৯০ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন। সেখানে ৬টি আলাদা দল গঠন করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হবে। বর্তমান বিষয়গুলোর কোন কোনটিকে একীভূত বা সমন্বিত করা যায়, আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক বিষয়ের পুনর্বিন্যাস কীভাবে হবে এবং প্রতিবছর ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব কি না–তা যাচাই করা হবে এই কর্মশালায়।
অবশ্য এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন। এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক মুহাম্মাদ ফাতিহুল কাদীর জানিয়েছেন, ‘পরীক্ষার সময় ও বিষয় কমানোর বিষয়ে আমরা একটি প্রাথমিক রূপরেখা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তবে বর্তমানে প্রক্রিয়াটিতে নতুন কোনো অগ্রগতি নেই। কারণ, আমাদের পুরো টিম এখন আগামী শিক্ষাবর্ষের বইগুলোর জরুরি পরিমার্জন (কারেকশন) ও তা অন্তর্ভুক্ত করার বিশাল কর্মযজ্ঞ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।’
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পরীক্ষার বিষয় ও দিনসংখ্যা কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্ধারিত হবে।
তথ্যসূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়াগামী ট্রলার থেকে রোহিঙ্গা সহ ৫০ ভুক্তভোগীকে কক্সবাজারের টেকনাফে উদ্ধার করা হয়েছে, পাশাপাশি ৯ জন মানবপাচারকারীকে আটক করেছে কোস্টগার্ড।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. মুত্তাকীন সিদ্দিকী শনিবার দুপুরে এ তথ্য তুলে ধরেন। আটকের জায়গায় পাচারকারিরা টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১১ জন রোহিঙ্গা এবং ৩৯ জন বাংলাদেশি নাগরিক কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
সমুদ্রপথে মানবপাচার রোধে নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কোস্টগার্ড জাহাজ মনসুর আলী, স্টেশন টেকনাফ, আউটপোস্ট শাহপরী ও বাহারছড়া যৌথভাবে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে লে. কমান্ডার মুত্তাকীন সিদ্দিকী উল্লেখ করেন যে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কোস্টগার্ড টেকনাফের সমুদ্র উপকূল দিয়ে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে ট্রলারযোগে লোকজন নিয়ে যাওয়ার খবর পায়। এর পরই ট্রলারটিকে থামানোর জন্য নির্দেশ দেয় কোস্টগার্ড। কিন্তু পাচারকারিরা ট্রলারটি দ্রুত চালিয়ে পালাতে চেষ্টা করে। ধাওয়া দিয়ে ট্রলারটিকে জব্দ করে এবং পরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৫০ ভুক্তভোগীকে।
কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা জানান, সংঘবদ্ধ পাচারকারি চক্র বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের টেকনাফে নিয়ে আসে, পরে তাদের গোপন আস্তানায় আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় করা হয়। পাচারকারিরা উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে পাচারের পরিকল্পনা করেছিল।
আটক পাচারকারিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী টেকনাফ থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান লে. কমান্ডার মু. মুত্তাকীন সিদ্দিকী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ