০৫:৪৬ পি.এম
পাবলিক পরীক্ষার দীর্ঘ সময়সূচির কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং স্কুল-কলেজগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান সচল রাখতে সরকার বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় দুটি পাবলিক পরীক্ষা–এসএসসি ও এইচএসসির বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষা গ্রহণের কর্মদিবস উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতিমধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। সরকারি বার্তা সংস্থা বাসসকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আরও পড়ুন: এবার আফ্রিকার তিউনিসিয়ায় বিক্ষোভের ঘটনা
এনসিটিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করতে ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসিতে ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার ফলে হাজার হাজার স্কুলে স্বাভাবিক পাঠদান বন্ধ থাকে। এতে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন ঘণ্টা (লার্নিং আওয়ার্স) মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। দীর্ঘ পরীক্ষার কারণে পরীক্ষার্থীরাও অসহনীয় মানসিক চাপে ভোগেন। ফলে এই জটলা ও চাপ কাটানোই সরকারের নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে এনসিটিবি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই রূপরেখা নিয়ে একটি দুই দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, ‘কর্মশালায় দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম ও মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি এবং অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। সবার মতামত পর্যালোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
জানা গেছে, প্রস্তাবিত কর্মশালায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর-এর পরিচালক অধ্যাপক হোসনে আরা বেগমসহ প্রায় ৯০ জন বিশেষজ্ঞ অংশ নেবেন। সেখানে ৬টি আলাদা দল গঠন করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হবে। বর্তমান বিষয়গুলোর কোন কোনটিকে একীভূত বা সমন্বিত করা যায়, আবশ্যিক ও ঐচ্ছিক বিষয়ের পুনর্বিন্যাস কীভাবে হবে এবং প্রতিবছর ডিসেম্বরের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করা সম্ভব কি না–তা যাচাই করা হবে এই কর্মশালায়।
অবশ্য এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন। এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক মুহাম্মাদ ফাতিহুল কাদীর জানিয়েছেন, ‘পরীক্ষার সময় ও বিষয় কমানোর বিষয়ে আমরা একটি প্রাথমিক রূপরেখা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তবে বর্তমানে প্রক্রিয়াটিতে নতুন কোনো অগ্রগতি নেই। কারণ, আমাদের পুরো টিম এখন আগামী শিক্ষাবর্ষের বইগুলোর জরুরি পরিমার্জন (কারেকশন) ও তা অন্তর্ভুক্ত করার বিশাল কর্মযজ্ঞ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে।’
আরও পড়ুন: ঢাকা মহানগরীতে ডিএমপির অভিযানে ৪৭৭ জন গ্রেফতার, ৩৪ মামলা দায়ের
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পরীক্ষার বিষয় ও দিনসংখ্যা কমানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করেই নির্ধারিত হবে।
তথ্যসূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন