ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) পরপর শিক্ষক এবং হলের ক্যান্টিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এসময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন, যা সব ধরনের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি তুলে ধরে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেন। তারা দাবির আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন, এবং এ কারণে ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেন।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছার, অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম এবং হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিচারের দাবিতে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

আরও পড়ুন: নিউটাউনে জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ

তবে আলোচনার পরও দাবিগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় পূর্বঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের ৩ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। তাদের প্রথম দাবি হল, হলের ছাত্রীদের ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ইমাম হাসানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

দ্বিতীয় দাবি হল, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনসার এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে অতিদ্রুত স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। তাদের তৃতীয় দাবি হলো, সম্প্রতি গঠিত ‘স্পন্দন ২৪’ নামের ক্লাবটির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ হল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরাসরি কিছু সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং সময়ক্ষেপণও করেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, দাবিগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি বা কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন: ৮৪ শতাংশ জমি দান করেও প্রতিষ্ঠাতার স্বীকৃতি মেলেনি, নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে তদন্তের দাবি

এর আগে, বুধবার (২৩ জুলাই) সকালে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। পরে তারা হাদি চত্বরে অবস্থান নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত সবার বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিকবার বৈঠকে বসেন। বৈঠকগুলোর উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলসমূহের স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার, ডিসিপ্লিন প্রধান, আবাসিক হলগুলোর প্রভোস্ট, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক এবং অন্যান্য বিভাগের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় এ ঘটনার তদন্তে হল প্রশাসন ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এবং আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচালিত হল ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, হলে কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করা এবং দুই ছাত্রী হলের ক্যান্টিনে কোনো পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়াও ছাত্রী হলের ক্যান্টিন পরিচালনায় কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এবং শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে রিভিউ আবেদন পাওয়া সাপেক্ষে পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নুরুন্নবী জানান, অভিযুক্ত ইমাম হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর আদালতে হাজির করা হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমাম হাসানের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব ধারায় জামিনের সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন: আইজিপি: দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুলিশ

প্রসঙ্গত, গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়’২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে ছাত্রীরা। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে হলজুড়ে আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

এর আগে, চলতি বছরের ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা পাঠানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে ডিসিপ্লিন প্রধানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। বর্তমানে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের গঠিত ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি অভিযোগের তদন্ত করেছে।

এছাড়া, গত বছরের আগস্টে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে এক ছাত্রী অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ এনেছিল। এর কিছুদিন পর অন্য বিভাগের আরেক ছাত্রীও তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেন। অভিযোগ দুটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে গত ২৬ ডিসেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের তদন্ত কমিটি দুটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৪তম সিন্ডিকেট সভায় প্রতিবেদন দুটি গৃহীত হয়।

সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপক ড. রুবেল আনছারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে অন্য অভিযোগের কারণে তাকে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলা ডিসিপ্লিনে পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণসহ সকল ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়তে প্রতিটি শিশুর টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে: চসিক মেয়র

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ‘ফ্যাটি লিভার’ রোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২২ এম


শিশুদের মধ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ‘ফ্যাটি লিভার’ রোগ

 

কয়েক দশক ধরে ফ্যাটি লিভার রোগকে মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকরা একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করছেন। ক্রমেই অনেক বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরী এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যা অল্প বয়সি জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল দীর্ঘমেয়াদি যকৃৎ বা লিভারের রোগে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভোগা শিশুদের মধ্যে এই রোগের হার অনেক বেশি।

গবেষণা অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার যা ছিল মাত্র ৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা বেড়ে ১৮ শতাংশে দাঁড়ায়। এর ফলে ফ্যাটি লিভার বা ‘মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ’ বিশ্বব্যাপী শিশু ও কিশোরদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগে পরিণত হয়েছে, যা বর্তমানে প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ শিশু জনগোষ্ঠীকে প্রভাবিত করছে।

শিশুদের ফ্যাটি লিভার রোগের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো এটি প্রায়শই কোনো শব্দ ছাড়াই বা নীরবে বিস্তার লাভ করে। অধিকাংশ শিশু পুরোপুরি সুস্থ বোধ করে এবং কোনো শারীরিক কষ্টের কথা জানায় না। অথচ তাদের লিভারের ভেতরে অলক্ষ্যে চর্বি জমতে থাকে, যা একসময় প্রদাহ এবং যকৃৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দিকে নিয়ে যায়।

সময়মতো পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং করা না হলে এই ‘টাইম বোম’ পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং লিভারের মারাত্মক জটিলতার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

ফ্যাটি লিভার রোগের প্রকৃত কারণ

ফ্যাটি লিভারের কেস বৃদ্ধির পেছনে শুধু খাদ্যের চর্বিই একমাত্র কারণ নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে গবেষণা দেখাচ্ছে যে, অতিরিক্ত স্থূলতা এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সই হলো এই রোগের প্রধান চালিকাশক্তি।

খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট, আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং অতিরিক্ত ক্যালোরিযুক্ত খাদ্য অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় জটিলতা তৈরি করে।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং দীর্ঘসময় স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

কিশোর-কিশোরীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত চিনি বাদ দেওয়ার মাত্র আট সপ্তাহের মধ্যে তাদের লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে এবং লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটেছে।

অন্যান্য গবেষণায় দেখা গেছে, রান্নার তেল বা খাদ্যের চর্বির মতো কোনো একক উপাদান ফ্যাটি লিভারের একমাত্র কারণ নয়। বরং অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ, বিপাকীয় সমস্যা, বংশগত কারণ এবং কায়িক পরিশ্রমহীন জীবনযাত্রার যৌথ প্রভাব থেকেই এই রোগের সৃষ্টি হয়।

প্রতিরোধে করণীয় ও পুষ্টির ভূমিকা

ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের প্রধান লক্ষ্য কেবল ওজন কমানো নয়, বরং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং পেটের চর্বি কমানো। ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম, বীজ, মাছ এবং অন্যান্য পুষ্টিকর সমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

একটি সুষম খাদ্য তৈরির জন্য স্বাস্থ্যকর চর্বি অপরিহার্য। ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাটের পরিবর্তে সুষম ফ্যাটি এসিড এবং অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ চর্বি গ্রহণ করা উচিত—

ওমেগা-৩: সামুদ্রিক মাছের তেল, চিয়া বীজ, তিসি বা ফ্ল্যাক্স সিড, শণ বীজ।

ওমেগা-৬: পাম তেল, সয়াবিন, আখরোট, ডিম ও সূর্যমুখী তেল।

টোকোট্রিয়েনল: চিকিৎসায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

সুষম খাদ্যে চর্বির ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তবে গবেষকরা বর্তমানে খাদ্যের ফ্যাটে প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যমান কিছু বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদান নিয়ে গবেষণা করছেন যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে সহায়তা করতে পারে। এমনই একটি উপাদান হলো ‘টোকোট্রিয়েনল’—যা ভিটামিন ই-এর একটি রূপ। এটি পাম তেলে প্রচুর পরিমাণে, ধানের কুঁড়ার তেলে (রাইস ব্রান অয়েল) মাঝারি পরিমাণে এবং অ্যানাটো বীজে অনন্যভাবে পাওয়া যায়।

পাম তেল একটি সুষম ফ্যাটি এসিড প্রোফাইলযুক্ত তেল এবং এটি টোকোট্রিয়েনলের অন্যতম সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উৎস। এই ধরণের ভিটামিন ই-তে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী গুণ রয়েছে।

প্রাণী ও মানুষের ওপর করা একাধিক গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, টোকোট্রিয়েনল লিভারের চর্বি কমাতে, লিভারের কার্যক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে এবং প্রদাহ ও টিস্যুর ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

যদিও চলমান গবেষণা ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ বা ব্যবস্থাপনায় টোকোট্রিয়েনলকে একটি দরকারী পুষ্টি সহায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, তবুও কোনো সাপ্লিমেন্ট বা সম্পূরক উপাদানই সুষম খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ কমানো, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্ক্রিন টাইম কমানোর বিকল্প হতে পারে না।

শৈশবের সঠিক জীবনযাত্রা শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর স্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাসে উৎসাহিত করা, খেলাধুলা ও শারীরিক কার্যক্রমে সক্রিয় রাখা এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় ও জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে রাখা।

একইসঙ্গে সরকার ও সমাজকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে সব জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণ করা সহজ ও সাশ্রয়ী হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লালপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ এম


লালপুরে বাল্যবিয়ে বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ১০ হাজার টাকা জরিমানা

 

নাটোরের লালপুর উপজেলায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের ধূপাইল এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায়, ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শাহিনা সুলতানার প্রসিকিউশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মেয়ের বাবা মো. আসাদুল ইসলামকে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি তার মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার মর্মে লিখিত মুচলেকা দেন।

অভিযান শেষে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা খাবার অপচয় না করে কাছের এতিমখানায় বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই উদ্দেশ্যে খাবারগুলো ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকীর জিম্মায় দেওয়া হয় এবং তিনি তা যথাযথভাবে এতিমখানায় পৌঁছে দেন।

অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক অপরাধ। এটি বন্ধের জন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুদের মধ্যে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি, করণীয় কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৩৭ এম


শিশুদের মধ্যে বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি, করণীয় কী?

 

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘ফ্যাটি লিভার’ বা যকৃতে চর্বি জমার সমস্যাটিকে মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ হিসেবেই দেখা হতো। কিন্তু এখন বিশ্বজুড়ে চিকিৎসকদের কাছে এক উদ্বেগজনক প্রবণতা প্রকাশিত হচ্ছে। শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ক্রমশ বাড়ছে, যা তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে এটিকে অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগে পরিণত করেছে।

অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলকায় শিশুদের মধ্যে এর ঝুঁকি আরও বেশি। গবেষণা বলছে, ১৯৭৫ সালে শিশু ও কিশোর-কিশোরীর মধ্যে স্থূলতার হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে বেড়ে ১৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ফ্যাটি লিভার বা 'মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টেয়াটোটিক লিভার ডিজিজ' বিশ্বব্যাপী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সবচেয়ে সাধারণ দীর্ঘস্থায়ী লিভারের রোগে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ শিশু এই রোগে আক্রান্ত।

প্রতিবেশী দেশ ভারতও এর ব্যতিক্রম নয়। ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী অতিরিক্ত ওজনের শিশুদের ওপর করা স্কুলভিত্তিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের প্রায় ৬২ শতাংশেরই কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই ফ্যাটি লিভার রয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে এমনও বলা হয়েছে যে, ভারতের প্রায় ৩৫ শতাংশ শিশুর বর্তমানে ফ্যাটি লিভার থাকতে পারে। এদের অনেকেরই ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, যা লিভারের রোগ ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের (মেটাবলিক হেলথ) মধ্যে গভীর সম্পর্কের বিষয়টিই তুলে ধরে।

শিশুদের ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এটি নীরবে শরীরে বাসা বাঁধে। বেশিরভাগ শিশুই নিজেকে পুরোপুরি সুস্থ মনে করে এবং তাদের কোনো শারীরিক সমস্যার কথা জানায় না। অথচ লিভারে ধীরে ধীরে চর্বি জমতে থাকে, যা একপর্যায়ে প্রদাহ এবং লিভারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। সময়মতো পরীক্ষা না করালে এই নীরব ঘাতক বা 'টিকিং বোম' পরবর্তী জীবনে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ এবং লিভারের মারাত্মক জটিলতার জন্ম দিতে পারে।

ফ্যাটি লিভারের প্রকৃত কারণ

ফ্যাটি লিভার বাড়ার পেছনে কেবল চর্বিযুক্ত খাবারই দায়ী নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে স্থূলতা এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রোগের পেছনের মূল কারণগুলো হলো:

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ শরীরে অস্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি করে।

জীবনযাপন: শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম (মোবাইল বা টিভির পর্দায় চোখ রাখা) এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চিনিমুক্ত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে মাত্র আট সপ্তাহের মধ্যে বয়ঃসন্ধিকালীন শিশুদের লিভারের চর্বি উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। গবেষকেরা ফ্যাটি লিভারের জন্য নির্দিষ্ট কোনো একক উপাদানকে (যেমন: রান্নার তেল) দায়ী করেন না। বরং অতিরিক্ত ক্যালরি, বিপাকীয় সমস্যা, জিনগত প্রবণতা এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার সম্মিলিত রূপই এই রোগের কারণ।

তাই ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধের মূল লক্ষ্য শুধু ওজন কমানো নয়, বরং পেটের মেদ কমানো এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটানো। খাদ্যতালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল, বাদাম, বীজ এবং সামুদ্রিক মাছের মতো পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি। ট্রান্স ফ্যাটের বদলে ওমেগা-৩ (মাছের তেল, চিয়া সিড, ফ্ল্যাক্স সিড) এবং ওমেগা-৬ (পাম তেল, সয়াবিন, আখরোট, ডিম, সূর্যমুখী তেল) সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর চর্বি বেছে নিতে হবে।

টোকোট্রিয়েনল: সম্ভাবনাময় এক সমাধান

সুষম খাদ্যে চর্বির ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতার পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা চর্বিতে থাকা প্রাকৃতিক বায়োঅ্যাকটিভ যৌগগুলো নিয়েও গবেষণা করছেন। এমনই একটি যৌগ হলো 'টোকোট্রিয়েনল', যা ভিটামিন 'ই'-এর একটি বিশেষ রূপ। এটি পাম তেলে প্রচুর পরিমাণে এবং রাইস ব্র্যান অয়েলে মাঝারি মাত্রায় পাওয়া যায়।

পাম তেলে ফ্যাটি অ্যাসিডের এক চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (প্রদাহরোধী) গুণ রয়েছে। প্রাণী ও মানুষের ওপর করা বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, টোকোট্রিয়েনল লিভারের চর্বি কমাতে, লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং প্রদাহ ও দাগ (স্কারিং) কমাতে সাহায্য করতে পারে।

আমাদের করণীয়

যদিও টোকোট্রিয়েনল বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান নিয়ে গবেষণা চলছে, তবে কোনো সাপ্লিমেন্টই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের বিকল্প হতে পারে না। শিশুদের সুস্থ রাখতে প্রয়োজন:

• সুষম খাদ্যাভ্যাস

• নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম

• প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা

• পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ক্রিন টাইম কমানো

ছোটবেলার এই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন পদ্ধতি শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই পরিবার ও স্কুলগুলোকে শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহিত করতে হবে। সবার জন্য স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সঠিক খাবার বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে সমাজ ও সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ল্যান্ড ক্রুজারে সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, পুলিশের অভিযানে ভেস্তে গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ এম


ল্যান্ড ক্রুজারে সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা, পুলিশের অভিযানে ভেস্তে গেল

গাড়িতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার বিলাসবহুল একটি ল্যান্ড ক্রুজারে সেনাবাহিনীর স্টিকার লাগিয়ে ইয়াবা পাচারের চেষ্টা পুলিশ ভেস্তে দিয়েছে।

কক্সবাজারের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ২৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ল্যান্স করপোরাল পরিচয়ধারী একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ল্যান্ড ক্রুজারটিও জব্দ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানাধীন ঝিলংজা ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ৩ নম্বর গেটের সামনে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করে এ অভিযান চালানো হয়েছিল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ওবায়দুল হাসান (৪১)। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার বাগুপাড়া এলাকার মৃত দেলোয়ার রহমানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক ল্যান্স করপোরাল।

পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চেকপোস্ট পরিচালনা করছিলেন। এসময় একটি বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজারকে থামার সংকেত দেওয়া হলে, চালক দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

পালানোর সময় গাড়িটি একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে, মোটরসাইকেল আরোহী আহত হন।

এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসানসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যও আহত হন। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে গাড়িটি আটক করে তল্লাশি চালায়।

তল্লাশিতে গাড়ি থেকে ২৮ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ল্যান্ড ক্রুজারটিও জব্দ করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদুল হাসান জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে থামার সংকেত দিলে, তিনি দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন। এসময় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল আরোহী আহত হন। একই ঘটনায় অন্য পুলিশ সদস্যসহ তিনি নিজেও আহত হন। পরে ধাওয়া করে ওবায়দুলকে আটক করা হয়।

তিনি আরো জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তার সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ মাদক চক্র জড়িত রয়েছে কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই কক্সবাজারের রামু উপজেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেট কারে ইয়াবা পাচারের সময় ৩ সদস্যের একটি চক্রকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ওই অভিযানে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও ৪টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছিল।

মাত্র ৮ দিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্টিকার ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের দ্বিতীয় ঘটনা সামনে আসায়, মাদক পাচারকারীদের নতুন কৌশল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%