০৪:২৮ এম
নাটোরের লালপুর উপজেলায় বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের ধূপাইল এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখা যায়, ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের বাল্যবিয়ের আয়োজন চলছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বরিশাল মহানগরের নিরাপত্তায় নতুন ছক, থানার সংখ্যা ৮ করার পরিকল্পনা বিএমপির
পরে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মোছা. শাহিনা সুলতানার প্রসিকিউশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মেয়ের বাবা মো. আসাদুল ইসলামকে বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি তার মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার মর্মে লিখিত মুচলেকা দেন।
অভিযান শেষে বিয়ের জন্য প্রস্তুত করা খাবার অপচয় না করে কাছের এতিমখানায় বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই উদ্দেশ্যে খাবারগুলো ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকীর জিম্মায় দেওয়া হয় এবং তিনি তা যথাযথভাবে এতিমখানায় পৌঁছে দেন।
অভিযান চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওয়ালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন বলেন, বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক অপরাধ। এটি বন্ধের জন্য প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতেও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার
স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন