প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চায়ের সঙ্গে বিস্কুট, এই সাধারণ অভ্যাসটি কি আপনার স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে? বিকেলের আলসেমি কাটাতে বা সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে মচমচে বিস্কুট ডুবিয়ে খাওয়া, বাঙালিদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় চর্চা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, চা এবং বিস্কুটের এই যৌথ উপাদানগুলো আমাদের পরিপাকতন্ত্রের সুরক্ষা প্রাচীর বা ‘গাট ব্যারিয়ার’-কে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আমাদের পরিপাকতন্ত্রে প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর ‘গাট ব্যারিয়ার’ রয়েছে। এটি ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুকে রক্তে মিশে যেতে বাধা দেয় এবং খাবারে থাকা পুষ্টি উপাদান শোষণে সহায়তা করে। এই সুরক্ষা স্তরের সচল থাকা অত্যন্ত জরুরি যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে এবং পরিপাকপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
চা-বিস্কুটের মিশ্রণ কিভাবে পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করছে? চায়ের ক্যাফেইন এবং বিস্কুটের প্রক্রিয়াজাত উপাদান একত্রে পেটে তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিস্কুটে থাকা মিহি ময়দায় ফাইবারের পরিমাণ প্রায় শূন্য থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়া ‘মাইক্রোবায়োম’ বিনষ্ট করে। এর ফলে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বিস্কুট খেয়ে ফেলে। এছাড়া, বিস্কুটে অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম উপাদান এবং ইমালসিফায়ারও বিপজ্জনক ইফেক্ট সৃষ্টি করে, যা পেটে প্রদাহ তৈরি করে।
চা, বিশেষ করে খালি পেটে খেলে, পাকস্থলীর সংবেদনশীল আস্তরণকে উত্তেজিত করে, যা অ্যাসিডিটির সমস্যা বৃদ্ধি করে। বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় হজমপ্রক্রিয়া ধীরে হয়ে যায়। খাবারে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি, শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়া এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে পেট ফাঁপা ও বদহজমের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
যদি আপনার পরিপাকতন্ত্র বা ‘গাট ব্যারিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, শরীর নিম্নলিখিত লক্ষণগুলোর মাধ্যমে সংকেত দেয়: ঘন ঘন পেট ফাঁপা, এসিডিটি, খাবার পর পেট ভারী লাগা, এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি। অত্যাবশ্যকীয় সতর্কতা হলো, যদি পেট ফাঁপার সঙ্গে ওজন কমতে থাকে, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া হয়, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যায় বা পেটে তীব্র ব্যথা হয়, তবে অবিলম্বে পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চা-বিস্কুটের ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে উদ্ধার পেতে কিছু পুষ্টিকর পরিবর্তন করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর নাশতার মধ্যে ভাজা ছোলা, বাদাম, ফল ও দই অথবা লাল আটার পাউরুটি দ্বারা তৈরি সবজি স্যান্ডউইচ যোগ করতে পারেন। সাধারণ চায়ের বদলে আদা চা, জিরা পানি, অথবা মৌরি ভেজানো পানি পান করা যেতে পারে। সহজপাচ্য খাবার হিসেবে ঘরে তৈরি দই, ফারমেন্টেড খাবার, কলা, ওটস, ডাল, এবং সেদ্ধ সবজি পেটের স্থায়িত্ব ও হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে কিছুটা সচেতনতাই আপনার পরিপাকতন্ত্রকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন