মোঃ শাহিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
১১:৫০ এম
সরকারি ছুটির দিনের অলস সময়কে একপাশে ঠেলে কর্মনিষ্ঠার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিল্লুর রহমান। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘সবুজ বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে তিনি নিজ উদ্যোগে উপজেলা ক্যাম্পাসে এক ব্যতিক্রমী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বর্তমান সরকারের বৃক্ষরোপণ নীতিকে তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতেই তাঁর এই উদ্যোগ। ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও নিজে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন তিনি। দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে প্রশাসনিক ভবনের চারপাশ ও চত্বরের বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় সারিবদ্ধভাবে বহু প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
নিজের হাতে চারা রোপণ শেষে ইউএনও জিল্লুর রহমান বলেন:
"মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প বাস্তবায়ন ও দেশকে সবুজে ছেয়ে দিতে আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। ছুটির দিন মানেই দায়িত্ব শেষ নয়; বরং এই সময়কে পরিবেশের কল্যাণে কাজে লাগানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।"
উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও পরিবেশপ্রেম দেখে মুগ্ধ স্থানীয় সচেতন মহল ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ছুটির দিনেও তাঁর এমন নিরলস কর্মনিষ্ঠা এলাকায় সর্বত্র প্রশংসিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মতে, প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে এসে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় ইউএনও জিল্লুর রহমানের এই উদ্যোগ সবার জন্যই একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মুসলিমদের জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন স্মরণ করা এবং তাঁর জীবন ও আদর্শ থেকে শিক্ষা নেওয়ার দিন হিসেবে ঈদে মিলাদুন্নবী বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রতি বছর হিজরি বর্ষের ১২ রবিউল আউয়াল এ দিনটি বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপন করা হয়।
‘মিলাদুন্নবী’ শব্দটি মহানবী (সা.)-এর জন্ম উপলক্ষে স্মরণ বা আলোচনা করার বিষয়বস্তু নির্দেশ করে। মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহানবী (সা.) ছিলেন মানবজাতির জন্য আল্লাহর প্রেরিত শেষ নবী। তাঁর জীবন, চরিত্র, ন্যায়বিচার, ক্ষমাশীলতা, দয়া ও মানবিকতার শিক্ষা মুসলিমদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ হিসেবে বিবেচিত।
কেন বিশেষ এই দিন?
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম আরবের মক্কা নগরীতে ঘটে।
তাঁর জন্মের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়। পরবর্তীতে তাঁর ওপর ওহি নাজিল হয় এবং তিনি মানুষকে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, ন্যায়, সততা ও মানবিকতার পথে আহ্বান জানান।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মুসলিমরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা স্মরণ করেন। তাঁর দেখানো পথে চলা, মানুষের প্রতি দয়া করা এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কীভাবে দিনটি স্মরণ করেন মুসলিমরা?
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে মুসলিমদের মধ্যে নানা ধরনের ধর্মীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশেও অনেকে এ দিন কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ, মিলাদ মাহফিল, সিরাত আলোচনা ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেন।
বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাঁর চরিত্র, ন্যায়বোধ, ক্ষমাশীলতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
জশনে জুলুস ও ধর্মীয় শোভাযাত্রা
বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুস বা ধর্মীয় শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
এতে অংশ নেওয়া মানুষ দরুদ ও নাত পাঠের মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বড় পরিসরে জশনে জুলুসের আয়োজন হয়ে আসছে। দেশের অন্যান্য এলাকাতেও বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে এমন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
খাবার ও তবারক বিতরণ
এই দিনকে কেন্দ্র করে অনেক মুসলিম অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন। বিভিন্ন এলাকায় মিলাদ মাহফিলের পর তবারক, মিষ্টি ও খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়।
অনেকে ব্যক্তিগতভাবে দরিদ্র, এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। এর মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর দয়া, সহমর্মিতা ও মানুষের কল্যাণের শিক্ষাকে স্মরণ করা হয়।
মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা
ঈদে মিলাদুন্নবীর মূল তাৎপর্য শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা বা উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মুসলিমরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও চরিত্র থেকে শিক্ষা নেওয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
সততা, ন্যায়বিচার, ধৈর্য, ক্ষমা, প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি সহানুভূতি এবং মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণ—তাঁর জীবনের এসব শিক্ষা এ দিনে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়।
ধর্মীয় ও সামাজিক তাৎপর্য
ঈদে মিলাদুন্নবী মুসলিমদের কাছে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। এ দিনে তাঁর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শান্তি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার বার্তা দেওয়া হয়।
তবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের ধরন নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন মত রয়েছে। কেউ মিলাদ, জশনে জুলুস ও অন্যান্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন, আবার কেউ আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষা অধ্যয়ন এবং ইবাদতের মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করেন।
সব ক্ষেত্রেই মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ মুসলিমদের কাছে এই দিনের প্রধান আলোচ্য বিষয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। প্রায় দুই মাস আগে ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিমানবন্দরটি আবার চালু হতে যাচ্ছে। এ তথ্য মঙ্গলবার দেশটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
কারাকাসের সেবা প্রদানকারী মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জানায়, লা গুয়াইরা রাজ্যে অবস্থিত বিমানবন্দরটিতে ওই দিন থেকে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের ফ্লাইট চালু হবে। মূল স্থাপনার ক্ষতির কারণে আপাতত অস্থায়ী টার্মিনাল ব্যবহার করে এসব ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে, পুনরায় চালুর মাধ্যমে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার ‘বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ আবারও স্বাভাবিক হওয়ার’ সুযোগ সৃষ্টি হবে।
গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। লা গুয়াইরা ছিল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি। ভূমিকম্পের ফলে ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয় এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
ভূমিকম্পের কারণে বিমানবন্দরের অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রধান রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক সপ্তাহ ধরে বিমানবন্দরটিতে শুধুমাত্র মানবিক সহায়তা ও ত্রাণবাহী ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।
এ সময়ে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল দেশের ছোট আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
চলতি মাসের শুরুতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের বাইরে বড় তাঁবু স্থাপন করে দুটি অস্থায়ী বহির্গমন টার্মিনাল এবং দুটি অস্থায়ী আগমন টার্মিনাল প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব অস্থায়ী স্থাপনা ব্যবহার করেই আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রতারণার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা সিদ্দিককে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে গুলশান থানার পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে যায়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের এরাবিকা রেস্টুরেন্ট থেকে বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল, যা কার্যকর করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে দায়ের হওয়া একটি প্রতারণার মামলায় বিদিশা সিদ্দিককে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম চলতি বছরের ২০ মে এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের নামে প্রতারণার অভিযোগে ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত এ রায় প্রদান করে।
গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, ‘আদালত থেকে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০০ জন গ্রেফতার হয়েছে। একই সময়ে ৫৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ কর্তৃক ৩১ জন, লালবাগ বিভাগ কর্তৃক ৪০ জন, ওয়ারী বিভাগ কর্তৃক ৫৮ জন, মতিঝিল বিভাগ কর্তৃক ৬৩ জন, তেজগাঁও বিভাগ কর্তৃক ৭১ জন, মিরপুর বিভাগ কর্তৃক ১৩৬ জন, গুলশান বিভাগ কর্তৃক ৫৭ জন, উত্তরা বিভাগ কর্তৃক ৩২ জন গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক ১০ জন ও সিটিটিসি বিভাগ কর্তৃক ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানকালে অভিযানকালে ৪টি মোটরসাইকেল, ৪টি সিএনজি, ৫টি ভুয়া নাম্বার প্লেট, ১২৬৬ পিস ভারতীয় শাড়ী, ২টি মনিটর, ৮টি মোবাইলফোন, চুরির কাজে ব্যবহৃত ১৬টি ডালি, ৮টি চাবি, ১টি কাটার কাচি, ১টি ছিটকিনি, ২৬ কেজি ১৬০ গ্রাম গাঁজা, ৭২১২ পিস ইয়াবা, ৫.৫ গ্রাম হেরোইন, ৪৪০ বোতল এস্কাফ সিরাপ (ফেনসিডিল) জব্দ করা হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ