০২:১৭ পি.এম
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, হালাল খাদ্যসংস্কৃতি ও মূল্যবোধ শুধুমাত্র মুসলিম বিশ্বের জন্য নয়, বরং এটি সমগ্র মানবসভ্যতার জন্য একটি বড় সম্পদ এবং শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, হালাল পণ্য ও সংস্কৃতির বিকাশ কেবল একটি ধর্মীয় অথবা সাংস্কৃতিক বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং মানবকল্যাণের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। বিশ্ববাজারে হালাল খাদ্যের জন্য একটি বিশাল বাজার বিদ্যমান রয়েছে এবং ভোক্তা ও বিনিয়োগকারী উভয়ই এই খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রস্তুত রয়েছে।
বুধবার রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে মালয়েশিয়ান হাইকমিশন দ্বারা আয়োজিত ‘থিংক হালাল, গ্রো গ্লোবাল’ শীর্ষক সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই বিষয়গুলোর উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন: গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে সতর্কতা মানা খুবই জরুরি
ধর্মীয় এবং সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, দুই দেশ যৌথভাবে তাদের অভিন্ন মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হালাল শিল্পের বিকাশ এবং বিশ্ববাজারে এর পরিধি সম্প্রসারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি মন্ত্রী হিসেবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন হালাল পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদার দিকে, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানালে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য সঠিক ধারণা, তথ্য, জ্ঞান এবং সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। সঠিক ধারণা এবং জ্ঞানের সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব হবে এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যেও হালাল পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, কুয়ালালামপুর সফরের সময় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম যেভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়েছেন, তা দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের সরকার এবং জনগণের পক্ষ থেকে তিনি মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন: মাদকের আস্তানায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অভিযান, ৬ জনকে ধরলেন
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্কের ভিত্তি কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং জনগণের মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই এই সম্পর্ক বজায় রয়েছে। হালাল শিল্প দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করবে।
সেমিনারে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান এবং বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি আনোয়ার শাহিদ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: লালন সাঁই অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথপ্রদর্শক: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন