প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং একজন ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা রয়েছেন।
দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা থেকে চারজন মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের নাম হলো—শর্ণশিষ দত্ত, আফসানা শিম্মিন, দেবাশিস দত্ত ও মো. আকরাম আলী। এছাড়া ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু নামে একজন নিহত হয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানেরও পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।
এখন পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ছয়জনের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হলো:
১. শর্ণশিষ দত্ত
জন্ম: ২০ ডিসেম্বর ২০২৩
পিতা: দেবাশিস দত্ত
ঠিকানা: আরুয়াপাড়া, ১৯/১, বাহাদুর আলী বিশ্বাস, কুষ্টিয়া মডেল, মোহিনী মিল, কুষ্টিয়া।
২. আফসানা শিম্মিন
জন্ম: ৬ জানুয়ারি ১৯৯৯
পিতা: মো. আকরাম আলী
ঠিকানা: আরুয়াপাড়া, ১৯/১, বাহাদুর আলী বিশ্বাস, কুষ্টিয়া মডেল, মোহিনী মিল, কুষ্টিয়া।
৩. দেবাশিস দত্ত
জন্ম: ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৭
পিতা: দিলীপ কুমার দত্ত
ঠিকানা: আরুয়াপাড়া, ১৯/১, বাহাদুর আলী বিশ্বাস, কুষ্টিয়া মডেল, মোহিনী মিল, কুষ্টিয়া।
৪. মো. আকরাম আলী
জন্ম: ১৬ জুন ১৯৬২
পিতা: ইয়াসিন আলী
ঠিকানা: থানাপাড়া, ৪, মনহুম বদরুদ্দোজা রোড, কুষ্টিয়া মডেল, কুষ্টিয়া হেড পোস্ট অফিস, কুষ্টিয়া।
৫. আহমেদ বাবু
জন্ম: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
পিতা: আদম আলী
ঠিকানা: বেগুনবাড়ি, সাভার, আমিনবাজার, ঢাকা–১৩৪৮।
৬. সন্দীপ পাসওয়ান
বয়স: ১৯ বছর
পিতা: প্রয়াত পাসওয়ান ভুবনেশ্বর
ঠিকানা: গ্রাম পিলমউ, পোস্ট খারিওডিহ, থানা হেরোডিহ, জেলা গিরিডি, ঝাড়খণ্ড–৮১৫৩১৪।
এখনো নিহত তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, এই ঘটনার পর প্রশাসন কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছে। খবর পাওয়ার পর দ্রুত দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী— পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য পূর্ণিমা চক্রবর্তী।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি জানান, বেআইনি কার্যকলাপ ও সুরক্ষাবিধি অমান্য করার ব্যাপারে সরকার বিন্দুমাত্র আপস করবে না। গণমাধ্যমের সামনে তাপস রায় বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক বা বিপজ্জনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, শহরের আনাচে-কানাচে শতাধিক ও হাজার হাজার বাড়ি ও গেস্ট হাউস চলমান রয়েছে। এগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় পারমিশন, লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। নিয়ম অমান্য করে বেআইনিভাবে চলা প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এবং জড়িতদের গ্রেফতার করা হবে।
কলকাতা পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী বলেন, পৌরসভা বা মেয়রের যদি কোনো ভুল বা গাফিলতি থাকে, তবে সেটাও চাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। যার বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে তিনি অভিমত দেন।
এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী সংকট খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দ্রুত ত্রাণ, উদ্ধারকার্য ও তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, বুধবার ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের দীর্ঘ তৎপরতায় প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়। তবে ৯ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন