০১:৪৯ পি.এম
বলিউডের একজন সাহসী ও স্বতন্ত্র অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত জিনাত আমানের ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচিত নয়। বিশেষ করে অভিনেতা মাজহার খানের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে আলোচনা বহু বছর পরও অব্যাহত রয়েছে। বিয়ের প্রথম বছরেই সম্পর্ক নিয়ে সংশয়ে পড়েছিলেন জিনাত। স্বামীর অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের খবর জানার পরও বিচ্ছেদের পথে তিনি হাঁটেননি। বরং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
এক পুরনো সাক্ষাৎকারে সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে আলাপচারিতায় জিনাত তার দাম্পত্য জীবনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বিয়ের এক বছরের মধ্যেই তার মনে হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। সেই সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
এর মধ্যেই মাজহারের অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের খবর প্রকাশিত হয় ‘স্টারডাস্ট’ পত্রিকায়। বিষয়টি জিনাতের কাছেও গোপন ছিল না। স্বামীর পরকীয়ার খবর জানার পরও তিনি সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসেননি।
আরও পড়ুন: আরটিভিতে রাত ৮টায় সম্প্রচারিত হবে নাটক ‘মন দরজা’
জিনাতের পেছনে একটি বিশেষ যুক্তিও ছিল। পরিবারের আপত্তি অগ্রাহ্য করেই তিনি মাজহারকে বিয়ে করেছিলেন। তাই সম্পর্কটি ভেঙে দেওয়ার বদলে সেটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী।
তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে ওঠে। মাজহার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে জিনাতের ভূমিকা বদলে যায়। বিচ্ছেদের কথা না ভেবে বরং স্বামীর চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।
পরবর্তী প্রায় পাঁচ বছর মাজহারের চিকিৎসাই হয়ে ওঠে জিনাতের জীবনের অন্যতম বড় দায়িত্ব। তিনি স্বামীর জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করার চেষ্টা করেছিলেন। মুম্বাইয়ের একের পর এক হাসপাতালে ছুটেছেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশেও যেতে হয়েছিল তাকে।
শুধু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াতেই থেমে থাকেননি জিনাত। বাড়িতে অসুস্থ স্বামীর দেখভালের জন্য প্রয়োজনীয় নানা কাজও নিজে শিখে নিয়েছিলেন। কঠিন সেই সময়ে ব্যক্তিগত কষ্ট ও দাম্পত্যের জটিলতার ঊর্ধ্বে উঠে মাজহারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: নোলক: কাদের ও নাদের ভাইদের সম্পদ ও সম্পর্কের নাটক
জিনাত ও মাজহারের দাম্পত্য জীবন স্থায়ী হয়েছিল ১২ বছর। সম্পর্কের শুরুতেই নানা টানাপোড়েন থাকলেও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেননি অভিনেত্রী। বরং জীবনের শেষ কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে থেকে তার চিকিৎসা ও পরিচর্যায় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন।
১৯৯৮ সালে মাজহার খান মারা যান। তার মৃত্যুর পরও জিনাতের দাম্পত্য জীবনের এই অধ্যায় বলিউডের আলোচিত ব্যক্তিগত গল্পগুলোর একটি হয়ে আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন