ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্বামীর পরকীয়া জেনেও ১২ বছর সংসার করলেন জিনাত আমান, বিচ্ছেদ চাননি


স্বামীর পরকীয়া জেনেও ১২ বছর সংসার করলেন জিনাত আমান, বিচ্ছেদ চাননি

বলিউডের একজন সাহসী ও স্বতন্ত্র অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত জিনাত আমানের ব্যক্তিগত জীবনও কম আলোচিত নয়। বিশেষ করে অভিনেতা মাজহার খানের সঙ্গে তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে আলোচনা বহু বছর পরও অব্যাহত রয়েছে। বিয়ের প্রথম বছরেই সম্পর্ক নিয়ে সংশয়ে পড়েছিলেন জিনাত। স্বামীর অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের খবর জানার পরও বিচ্ছেদের পথে তিনি হাঁটেননি। বরং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

এক পুরনো সাক্ষাৎকারে সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে আলাপচারিতায় জিনাত তার দাম্পত্য জীবনের নানা অজানা অধ্যায় তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, বিয়ের এক বছরের মধ্যেই তার মনে হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল। সেই সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

এর মধ্যেই মাজহারের অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের খবর প্রকাশিত হয় ‘স্টারডাস্ট’ পত্রিকায়। বিষয়টি জিনাতের কাছেও গোপন ছিল না। স্বামীর পরকীয়ার খবর জানার পরও তিনি সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসেননি।

আরও পড়ুন: আরটিভিতে রাত ৮টায় সম্প্রচারিত হবে নাটক ‘মন দরজা’

জিনাতের পেছনে একটি বিশেষ যুক্তিও ছিল। পরিবারের আপত্তি অগ্রাহ্য করেই তিনি মাজহারকে বিয়ে করেছিলেন। তাই সম্পর্কটি ভেঙে দেওয়ার বদলে সেটিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন অভিনেত্রী।

তবে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে ওঠে। মাজহার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে জিনাতের ভূমিকা বদলে যায়। বিচ্ছেদের কথা না ভেবে বরং স্বামীর চিকিৎসা ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন তিনি।

পরবর্তী প্রায় পাঁচ বছর মাজহারের চিকিৎসাই হয়ে ওঠে জিনাতের জীবনের অন্যতম বড় দায়িত্ব। তিনি স্বামীর জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করার চেষ্টা করেছিলেন। মুম্বাইয়ের একের পর এক হাসপাতালে ছুটেছেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশেও যেতে হয়েছিল তাকে।

শুধু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াতেই থেমে থাকেননি জিনাত। বাড়িতে অসুস্থ স্বামীর দেখভালের জন্য প্রয়োজনীয় নানা কাজও নিজে শিখে নিয়েছিলেন। কঠিন সেই সময়ে ব্যক্তিগত কষ্ট ও দাম্পত্যের জটিলতার ঊর্ধ্বে উঠে মাজহারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: নোলক: কাদের ও নাদের ভাইদের সম্পদ ও সম্পর্কের নাটক

জিনাত ও মাজহারের দাম্পত্য জীবন স্থায়ী হয়েছিল ১২ বছর। সম্পর্কের শুরুতেই নানা টানাপোড়েন থাকলেও বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেননি অভিনেত্রী। বরং জীবনের শেষ কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে থেকে তার চিকিৎসা ও পরিচর্যায় নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন।

১৯৯৮ সালে মাজহার খান মারা যান। তার মৃত্যুর পরও জিনাতের দাম্পত্য জীবনের এই অধ্যায় বলিউডের আলোচিত ব্যক্তিগত গল্পগুলোর একটি হয়ে আছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ‘মাদক তৈরির কারখানা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৯ পি.এম


ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র ‘মাদক তৈরির কারখানা’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে মাদক তৈরির কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি ওকলাহোমার একটি জনসভায় জানান, যেসব স্থাপনায় হামলা হয়েছে, সেখানে পারমাণবিক উপকরণের পাশাপাশি অবৈধ মাদকও উৎপাদিত হচ্ছিল।

পারমাণবিক বিশেষজ্ঞরা এই দাবির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ওই স্থাপনাগুলোতে মাদক তৈরির কোনো তথ্য বা প্রমাণ নেই। ট্রাম্প ২০২৫ সালের জুনে ইরানের ফোরডো পারমাণবিক স্থাপনায় পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ সম্পর্কে বক্তব্য রাখছিলেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘মার্কিন বোমারু বিমানগুলো যেসব স্থাপনায় বোমা ফেলেছিল, সেগুলো একাধারে পারমাণবিক ও মাদকের কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।’ আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নীতি বিশেষজ্ঞ জেমস অ্যাকটন জানান, ফোরডোর মতো স্পর্শকাতর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে মাদক তৈরির কোনো ইতিহাস বা প্রমাণ নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। তবে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত তিনি এসব স্থাপনাকে ‘মাদক তৈরির কারখানা’ হিসেবে উল্লেখ করেননি।

ট্রাম্পের নতুন এই মন্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিশেষজ্ঞরা তার বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সিএনএন ট্রাম্পের মন্তব্যের একটি ভিডিও কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের নিউক্লিয়ার পলিসি প্রোগ্রামের সহপরিচালক জেমস অ্যাকটনের কাছে পাঠায়। শুক্রবার এক ইমেইলে অ্যাকটন বলেন, ‘ওয়াও… এটা আমার কাছে নতুন।’

তিনি আরো জানান, ‘আমার জানামতে, ফোরডো স্থাপনা মাদক উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল না। এর আগে এমন কোনো অভিযোগের কথাও আমি শুনিনি, তা বিশ্বাসযোগ্য হোক বা না হোক।’

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ বা পূর্বের প্রকাশ্য অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ফলে তার মন্তব্যটি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর প্রকৃত ব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সিএনএনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিতে রাজি হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভাষণে ক্যারিবীয় অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযানের কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প ভুলবশত ইরানের ক্ষেত্রেও ‘মাদক’ শব্দটি উচ্চারণ করে ফেলেন। তবে ভুল স্বীকার না করে পরবর্তীতে তিনি নিজের মন্তব্যকেই সত্য হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুখে হাঁক সাফল্যে ‘ডাক’, ফিরলেন লিটন-নিগার রিক্ত হাতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫০ পি.এম


মুখে হাঁক সাফল্যে ‘ডাক’, ফিরলেন লিটন-নিগার রিক্ত হাতে

বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, "যত গর্জে তত বর্ষে না"। এই প্রবাদের বাস্তব উদাহরণ হলো লিটন দাস ও নিগার সুলতানা জ্যোতির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। তাদের পারফরম্যান্সের স্বচ্ছতা স্পষ্ট।

তবে, বাংলাদেশের হাঁকডাক কমে না, পারফরম্যান্স যাই হোক। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের আগে তাদের গলার স্বর থাকে উঁচু। সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনই তাদের লক্ষ্য থাকে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা রিক্ত হাতেই ফিরছেন। তাই বলা যায়, "মুখে হাঁক সাফল্যে ‘ডাক’"। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজ প্রথম তিন ব্যাটার সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক লিটনও ‘ডাক’ মারলেন। পরে তাদের সঙ্গী হন মাহাদী হাসান।

সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমসে নজর দেওয়া যাক। জাপানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে লিটন ও জ্যোতি অনেক স্বপ্ন দেখালেন। দুই অধিনায়কের কথার সুর ছিল, "ব্রোঞ্জ অনেক হয়েছে, এবার আমাদের চোখ স্বর্ণে।"

এশিয়ান গেমস নিয়ে লিটন ও জ্যোতির মন্তব্য দেখা যাক। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন বলেছিলেন, "জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই বড় জিনিস, সঙ্গে এ রকম জায়গায় খেলা এটাও বড় বিষয়। সব সময় (অন্য টুর্নামেন্টে) জিতলে আপনি ট্রফি জিতবেন, কিন্তু এখানে সোনা জেতার বিষয় থাকে। এটা একটা বড় স্বপ্ন, আমার মনে হয় সব ক্রিকেটার রোমাঞ্চিত।"

এ ধরনের টুর্নামেন্টে সাধারণত দ্বিতীয় সারির দল পাঠায় দেশগুলো, কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারত ব্যতিক্রম। তারা জাতীয় দল পাঠিয়েছে। লক্ষ্য একদম স্পষ্ট। লিটন দেশ ছাড়ার সময় বলেছিলেন, "আমরা কিভাবে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারি, এদিকেই তাকিয়ে আছি। কারণ, ফাইনাল খেললে সুযোগ থাকবে সোনা জেতার। ক্রিকেটে যে জিনিসটা বলি অলওয়েজ ম্যাচ বাই ম্যাচ। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচই যাব।"

কিন্তু লিটনরা কি মাঠে তাদের মুখের কথা ফলাতে পেরেছেন? সোনা জয়ের যে স্বপ্ন তাদের চোখেমুখে ছিল, বাস্তবে তার উল্টোটা ঘটেছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কাছে তারা ধরাশায়ী হয়েছেন। দুই দলের কাছে হেরে যাওয়ার পর সন্দেহ হয়, তারা কি মালয়েশিয়ার কাছেও...! বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি ভেস্তে যাওয়ায় তারা বাঁচতে পেরেছে।

২০১০ সালে স্বর্ণ জয়ের পর গত দুই আসরে বাংলাদেশ রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পেয়েছিল। ১৬ বছর পর আবারও সোনার হাসির খোঁজে ছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য পূরণে শক্তিশালী দলের সঙ্গে উইকেটও বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। কেননা, জাপানের কোরোগি স্পোর্টস পার্কের পিচ তৈরি করেছেন গামিনি ডি সিলভা। বাংলাদেশের সাবেক কিউরেটরের পরামর্শ নিয়ে বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের স্বপ্ন পূরণের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের পরেও বাংলাদেশ খাতায় নম্বর তুলতে পারেনি। উল্টো সব হারিয়ে রিক্ত হাতে ফিরেছে।

মেয়েদের নামের পাশে দুটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ রয়েছে। এবার তাই চক্রপূরণ করাই ছিল জ্যোতিদের লক্ষ্য। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার বলেছিলেন, "এবার আমাদের মূল লক্ষ্য ফাইনাল। আমরা এর আগেও সেমিফাইনালে খেলেছি এবং বাদ পড়েছি। বারবার একই জিনিস হচ্ছে, তাই এবার আমরা সেই বাধাটা ভাঙতে চাই।"

বাধা ডিঙানো দূরে থাক, তারা প্রতিরোধ গড়তেও পারেননি। অসহায় আত্মসমার্পণে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন তারা। স্বপ্ন শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে হুশ ফিরেছে। তাই বাস্তবতা মেনে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছে। ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচ শেষে পুরুষ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছেন, "সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।"

তবে প্রশ্ন হলো, ক্ষমা চেয়েই কি দায় শেষ? জয়ের পর মুক্ত আকাশে জাতীয় পতাকা উড়ানোয় অভ্যস্ত হবে না বাংলাদেশ। কে জানে, এমন দৃশ্যের অপেক্ষা কবে ফুরাবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রেমিট্যান্সকে কাজে লাগাতে হবে, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমায় : রূপা হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


রেমিট্যান্সকে কাজে লাগাতে হবে, আন্তর্জাতিক সাহায্য কমায় : রূপা হক

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহায়তা বা ফরেন এইড কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে রূপা হক, যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য (এমপি), প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল রেমিট্যান্সকে দেশের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ শনিবার অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বাংলাদেশি প্রবাসীদের অর্থনৈতিক অবদান, রাজনৈতিক ভূমিকা এবং পরিচয়গত পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

রূপা হক উল্লেখ করেন, অফিশিয়াল হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৮৭ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তবে আনঅফিশিয়াল হিসাবে এ সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। সৌদি আরবে প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে, যেখানে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। ইউরোপের মধ্যে যুক্তরাজ্যে সবচেয়ে বড় বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী থাকলেও ফ্রান্সের প্যারিস ও স্পেনের মাদ্রিদের মতো শহরেও বাংলাদেশি কমিউনিটির শক্তিশালী উপস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে কাতারসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে কঠিন ও প্রতিকূল পরিবেশে কাজ করে অভিবাসী শ্রমিকরা যে অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন, তা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। যুক্তরাজ্য থেকেই বছরে প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড রেমিট্যান্স বাংলাদেশে পাঠানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে রূপা হক বলেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলো আন্তর্জাতিক সাহায্য কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাজ্যে একসময় জিডিপির দশমিক ৭ শতাংশ আন্তর্জাতিক সাহায্যে দেওয়ার নীতি থাকলেও তা কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ বা তারও নিচে নামানো হয়েছে। এতে খাদ্য কর্মসূচি, রোগ প্রতিরোধ এবং নারী শিক্ষার মতো বিভিন্ন বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দানশীল ব্যক্তি ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্সকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক সাহায্যের ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন অর্থায়ন মডেল তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসীদের রাজনৈতিক অধিকার নিয়েও কথা বলেন রূপা হক। তিনি জানান, সম্প্রতি ভোটাধিকার পেয়ে প্রায় পাঁচ লাখ অনিবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) ভোট দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ ব্যবস্থার প্রশংসা করেন তিনি, যেখানে অভিবাসীদের ভোটাধিকারের সুযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন রূপা হক। তিনি বলেন, দেশের পরিবর্তনের দাবিতে প্রবাসীরা বিভিন্নভাবে ভূমিকা রেখেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার, বিগ বেন এবং ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে তারা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পরিচয় ও সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়েও রূপা হক বলেন, গত কয়েক দশকে প্রবাসীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সত্তরের দশকের নানা বাধা পেরিয়ে বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখেই ব্রিটিশ সমাজের মূলধারায় সমন্বিত হতে পেরেছে।

নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে রসাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য শেষ করেন রূপা হক। তিনি বলেন, ‘একটি মেয়েকে বাংলাদেশ থেকে বের করে আনা সম্ভব, কিন্তু সেই মেয়েটির ভেতর থেকে বাংলাদেশকে কখনো বের করে আনা সম্ভব নয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা সংকট চিরকাল বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫১ পি.এম


রোহিঙ্গা সংকট চিরকাল বহন করা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের দ্বারা সৃষ্ট কোনো সমস্যা নয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই সংকটের ভারী বোঝা চিরকাল ধরে বহন করা সম্ভব নয়।

শনিবার ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড বলরুমে অনুষ্ঠিত ‘দ্য ফার্স্ট কনভারসেশন : আ ওয়ার্ল্ড রিরাইটেন—পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন দ্য এজ অব আনসার্টেনটি’ শীর্ষক উদ্বোধনী সেশনে তিনি এ কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বহুমুখী ও জটিল পরিস্থিতি সমাধানের জন্য আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমার সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে।

কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, শিবিরে বসবাসরত তরুণ রোহিঙ্গা জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য ও নিরাপত্তার চরম অভাব রয়েছে। প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করছে এবং নতুন করে শরণার্থীদের আগমন ঘটছে, ফলে এই মানবিক সংকট ক্রমেই বাড়ছে। তিনি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তে নতুন নিরাপত্তা সংকটের বিষয়টিও উল্লেখ করেন।

সংকট সমাধানে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফরে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মির ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টির জন্য চীন কিভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সমস্যা সমাধানে শুধু প্রতিবেশী দেশগুলো নয়, বরং আসিয়ানভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসলামিক দেশগুলোসহ পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একত্রে এগিয়ে আসতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%