প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, "যত গর্জে তত বর্ষে না"। এই প্রবাদের বাস্তব উদাহরণ হলো লিটন দাস ও নিগার সুলতানা জ্যোতির সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স। তাদের পারফরম্যান্সের স্বচ্ছতা স্পষ্ট।
তবে, বাংলাদেশের হাঁকডাক কমে না, পারফরম্যান্স যাই হোক। টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের আগে তাদের গলার স্বর থাকে উঁচু। সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জনই তাদের লক্ষ্য থাকে। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তারা রিক্ত হাতেই ফিরছেন। তাই বলা যায়, "মুখে হাঁক সাফল্যে ‘ডাক’"। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আজ প্রথম তিন ব্যাটার সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক লিটনও ‘ডাক’ মারলেন। পরে তাদের সঙ্গী হন মাহাদী হাসান।
সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমসে নজর দেওয়া যাক। জাপানের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে লিটন ও জ্যোতি অনেক স্বপ্ন দেখালেন। দুই অধিনায়কের কথার সুর ছিল, "ব্রোঞ্জ অনেক হয়েছে, এবার আমাদের চোখ স্বর্ণে।"
এশিয়ান গেমস নিয়ে লিটন ও জ্যোতির মন্তব্য দেখা যাক। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার লিটন বলেছিলেন, "জাতীয় দলের হয়ে খেলাটাই বড় জিনিস, সঙ্গে এ রকম জায়গায় খেলা এটাও বড় বিষয়। সব সময় (অন্য টুর্নামেন্টে) জিতলে আপনি ট্রফি জিতবেন, কিন্তু এখানে সোনা জেতার বিষয় থাকে। এটা একটা বড় স্বপ্ন, আমার মনে হয় সব ক্রিকেটার রোমাঞ্চিত।"
এ ধরনের টুর্নামেন্টে সাধারণত দ্বিতীয় সারির দল পাঠায় দেশগুলো, কিন্তু বাংলাদেশ ও ভারত ব্যতিক্রম। তারা জাতীয় দল পাঠিয়েছে। লক্ষ্য একদম স্পষ্ট। লিটন দেশ ছাড়ার সময় বলেছিলেন, "আমরা কিভাবে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারি, এদিকেই তাকিয়ে আছি। কারণ, ফাইনাল খেললে সুযোগ থাকবে সোনা জেতার। ক্রিকেটে যে জিনিসটা বলি অলওয়েজ ম্যাচ বাই ম্যাচ। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচই যাব।"
কিন্তু লিটনরা কি মাঠে তাদের মুখের কথা ফলাতে পেরেছেন? সোনা জয়ের যে স্বপ্ন তাদের চোখেমুখে ছিল, বাস্তবে তার উল্টোটা ঘটেছে। পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার কাছে তারা ধরাশায়ী হয়েছেন। দুই দলের কাছে হেরে যাওয়ার পর সন্দেহ হয়, তারা কি মালয়েশিয়ার কাছেও...! বৃষ্টির কারণে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি ভেস্তে যাওয়ায় তারা বাঁচতে পেরেছে।
২০১০ সালে স্বর্ণ জয়ের পর গত দুই আসরে বাংলাদেশ রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ পেয়েছিল। ১৬ বছর পর আবারও সোনার হাসির খোঁজে ছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য পূরণে শক্তিশালী দলের সঙ্গে উইকেটও বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। কেননা, জাপানের কোরোগি স্পোর্টস পার্কের পিচ তৈরি করেছেন গামিনি ডি সিলভা। বাংলাদেশের সাবেক কিউরেটরের পরামর্শ নিয়ে বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের স্বপ্ন পূরণের কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁসের পরেও বাংলাদেশ খাতায় নম্বর তুলতে পারেনি। উল্টো সব হারিয়ে রিক্ত হাতে ফিরেছে।
মেয়েদের নামের পাশে দুটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ রয়েছে। এবার তাই চক্রপূরণ করাই ছিল জ্যোতিদের লক্ষ্য। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার বলেছিলেন, "এবার আমাদের মূল লক্ষ্য ফাইনাল। আমরা এর আগেও সেমিফাইনালে খেলেছি এবং বাদ পড়েছি। বারবার একই জিনিস হচ্ছে, তাই এবার আমরা সেই বাধাটা ভাঙতে চাই।"
বাধা ডিঙানো দূরে থাক, তারা প্রতিরোধ গড়তেও পারেননি। অসহায় আত্মসমার্পণে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছেন তারা। স্বপ্ন শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশে হুশ ফিরেছে। তাই বাস্তবতা মেনে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছে। ব্রোঞ্জ মেডেলের ম্যাচ শেষে পুরুষ দলের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেছেন, "সত্যিকার অর্থে আমরা দেশবাসীর কাছে লজ্জিত। কোচ হিসেবেও মনে করি আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের কাছে দেশবাসীর যে প্রত্যাশা ছিল সেটা পূরণ করতে পারিনি। খুবই হতাশাজনক এবং পুরো দেশবাসীর কাছে আমরা লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।"
তবে প্রশ্ন হলো, ক্ষমা চেয়েই কি দায় শেষ? জয়ের পর মুক্ত আকাশে জাতীয় পতাকা উড়ানোয় অভ্যস্ত হবে না বাংলাদেশ। কে জানে, এমন দৃশ্যের অপেক্ষা কবে ফুরাবে?
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন